যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ‘চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনকের’ বার্ষিক সাধারণ সভা গত ১লা নভেম্বর, রবিবার ব্রুকলিনস্থ “ চট্টগ্রাম ভবন” এ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক সদস্যের উপস্থিতিতে সন্ধ্যা ছয়টায় সাধারণ সভার কার্যক্রম শুরু হয়।

সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের এই সভায় সভাপতির আসন অলংকৃত করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় সভায় শুরুতে পবিত্র কোরান থেকে তেলওয়াত করেন সংগঠনের ক্রীড়া সম্পাদক জনাব মোহাম্মদ ঈছা। গীতা পাঠ করেন সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সদস্য শ্রী পল্লব রায়।

বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় যথাক্রমে। চট্টগ্রাম সমিতির নেতৃবৃন্দসহ যাঁরা বিগত দিনে মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের সকলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নীরবতা পালন করা হয় এবং সকলের রুহের মাগফেরাত এবং মঙ্গল কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং প্রার্থনা করা করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের অন্যতম বয়য্যেষ্ঠ সদস্য, বর্তমান ট্রাষ্টি বোর্ডের সিনিয়র সদস্য, সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব মুনীর আহমেদ।

প্রথম পর্বটি ছিলো রিপোর্ট পেশ। সংগঠনের সম্মানিত কোষাধক্ষ জনাব শফিকুল আলম বিগত দিনের আয় এবং ব্যায়ের বিশদ বিবরণ পেশ করেন। রিপোর্ট পেশের পর উত্থাপিত হিসেব বিবরনী সাধারণ সদস্যদের অনুমোদনের জন্য ফ্লোরে দেয়া হলে তা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন বিস্তারিত ভাবে। দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে নিয়ে অধ্যাবধি সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রমের ইভেন্ট উল্লেখপূর্বক বিস্তারিত তুলে ধরেন রিপোর্টে।

সকল ইভেন্টে সংগঠনের সদস্যদের অকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সদস্যদের অকৃত্রিম সহযোগিতার কারণে তিনি সব কাজ সফলভাবে শেষ করতে সক্ষম হয়েছেন।

দুইটি বৃহৎ আঙ্গিকের বনভোজন, দুইটি ব্যাপক পরিসরের ঈদ এ মিলাদুন্নাবি সাঃ, এ যাবতকালের সর্ববৃহৎ বৈশাখী উৎসব উদযাপন, ইমিগ্রেশন এবং ট্যাক্স বিষয়ক সেমিনার, বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত নিউইয়র্ক সিটির ডিস্ট্রিট ৩৯ এর দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত কাউন্সিলওমেন শাহানা হানিফ এর নাগরিক সংবর্ধনা, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য সারওয়ার আলমগীরের সংবর্ধনা ছিলো উল্লেখ করার মতো।

পাশাপাশি চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনকের আটজন মৃত সদস্যদের বিনামূল্যে কবর সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলে সাধারণ সদস্যদের অবহিত করা হয় । সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট পেশের পরপরই সংগঠনের সভাপতি তাঁর রিপোর্ট পেশ করেন।

তিনি তাঁর রিপোর্টে সকলের প্রতি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সভাপতি আবু তাহের বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের মিথ্যা প্রচারনার জবাব দিতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, অথচ তখনো নির্বাচনের নয়দিন বাকি। তাঁর অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রামবাসী তাঁর প্রতি যে ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন তার জন্য তিনি নিজের এবং পরিবারের পক্ষ থেকে সংগঠনের সকলের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁর রিপোর্টে যাঁরা চট্টগ্রাম সমিতিকে আর্থিক এবং সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবেনা বলে উল্লেখ করেন। বর্তমানে নিস্পত্তির জন্য অপেক্ষমান দুটি মামলার ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনঃব্যক্ত করেন।

সভাপতির রিপোর্টের পরপরই “গঠনতন্ত্র সংশোধনী কমিটি”র প্রধান সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ সেলিম “ গঠনতন্ত্র সংশোধনী” প্রস্তাবসমূহ পয়েন্ট বাই পয়েন্ট তুলে ধরেন। বিভিন্ন ধারা এবং উপধারার বিশদ বাখ্যা তুলে ধরেন গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির অন্যতম সদস্য, সংগঠনের সিনিয়র সদস্য মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার। সাধারণ সভার রেজুলেশন উত্থাপন করেন ট্রাষ্টি বোর্ডের সম্মানিত কো-চেয়ারম্যান জনাব কামাল হোসেন মিঠু।

সাধারণ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১.সংগঠনের আয়-ব্যায়ের হিসেব অনুমোদন
২.বর্তমান কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ৩রা নভেম্বর ২০২৬ থেকে ৩রা নভেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত অথবা মহামান্য আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বর্ধিতকরণ।
৩.সংগঠনের গঠনতন্ত্রের প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদন
৪.অন্যায়ভাবে এবং অসৎ উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে যারা সংগঠনকে আর্থিক এবং সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সংগঠনের বিধান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাব।

সভায় উপস্থিত সকল সদস্য সদস্যাগন ভোট প্রদান করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে প্রস্তাবিত উপরোক্ত চারটি বিষয় সাধারণ সভায় পাস হয় এবং পাসের দিন থেকে কার্যকর বিবেচিত হবে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

সাধারণ সভায় বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক ট্রাষ্টি চেয়ারম্যান এবং সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ, সাবেক সভাপতি কাজী শাখাওয়াত হোসেন আজম, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা কোষাধক্ষ বর্তমান ট্রাষ্টি বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ শামসুল আলম চৌধুরী,সাবেক সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, বর্তমান বোর্ড অফ ট্রাষ্টি সিনিয়র মেম্বার মুনীর আহমেদ, বোর্ড অফ ট্রাষ্টি সদস্য ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহজাহান, বোর্ড অফ ট্রাষ্টি সদস্য সৈয়দ মোশাররফ হোসেন বাবর, বোর্ড অফ ট্রাষ্টি সদস্য আবুল কাশেম চট্টলা,সংগঠনের সাবেক নির্বাচন কমিশনার এবং বর্তমান বোর্ড অফ ট্রাষ্টি সদস্য মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর, বোর্ড অফ ট্রাষ্টি সদস্য এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, সংগঠনের উপদেষ্টা সদস্য সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন, মোহাম্মদ দিদারুল আলম, মোহাম্মদ জামালাউদ্দিন, মতিউর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ আবুল কালাম ( কানেকটিকাট), আব্দুল্লাহ আল মামুন ( নিউজার্সি ),সাবেক নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আরিফ চৌধুরী, খোকন কে চৌধুরী, আশ্রাব আলী খান লিটন, মোহাম্মদ রুমি, এডভোকেট আব্দুল হামিদ, কাজী ইকবাল, মোহাম্মদ আমিন, মেজেবাউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ কাউসার চৌধুরী, বাসন আলী, উত্তম দাস, বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কলিমুল্লাহ মাস্টার, তানিম মহসিন,হাজী তৌহিদুল আলম, জাবের শফি, মোহাম্মদ নুরুল আমিন, আক্তার হোসেন, অজয় প্রসাদ তালুকদার,ইমরুল কায়সার, নাসিরুদ্দিন, মোহাম্মদ মহিম উদ্দিন। সুস্বাদু রাতের খাবার পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাধারণ সভার কার্যক্রম শেষ হয়।








