


ডলারের বিপরীতে দ্বিপক্ষীয় শক্তিশালী বাণিজ্য রয়েছে এমন দেশগুলোর মুদ্রার তুলনায় বাংলাদেশের টাকার মান সবচেয়ে বেশি কমেছে। গত বছরের মার্চ থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে টাকার মান কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। বিপরীতে একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলংকা ও কম্বোডিয়ার মুদ্রা শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের মার্চে ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ছিল ১১৫ টাকা ৫০ পয়সা। এক বছরের ব্যবধানে ২০২৫ সালের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ টাকায়। এ সময়ে টাকার অবমূল্যায়নের হার দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ।
প্রতিযোগী দেশগুলোর অবস্থান : একই সময়ে ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া ৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ভিয়েতনামিজ ডং ৩ দশমিক ৪ শতাংশ, ভারতীয় রুপি ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং চীনা ইউয়ান ২ দশমিক ২ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছে। ফিলিপাইন পেসোর অবমূল্যায়ন ছিল আরও কম, মাত্র ১ দশমিক ৯ শতাংশ। বহুমুখী অর্থনৈতিক সংকট সত্ত্বেও পাকিস্তানি রুপি কমেছে মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে দুই বছর আগে অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বে পড়া শ্রীলংকার রুপি ডলারের বিপরীতে বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ান রিয়েল বেড়েছে ১ শতাংশ।
কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ : প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচ্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি বেশি। অন্যদিকে ওই দেশগুলো ডলারের দামের ওঠানামা নিজেদের অর্থনীতির অনুকূলে কাজে লাগাতে পেরেছে। কিন্তু বাংলাদেশ রপ্তানি আয় ও প্রবাসী রেমিট্যান্সের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়ায় টাকার মান সব সময় অবমূল্যায়িত রাখা হয়।
বর্তমানে ডলারের প্রকৃত বিনিময় হার মার্চে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকা ০৫ পয়সায়। অথচ বাজারে সেটি বিক্রি হচ্ছে ১২২ টাকায়। বাড়তি এই দামের সুবিধা পাচ্ছেন প্রবাসী আয়ের পাঠক ও রপ্তানিকারকরা। কিন্তু আশানুরূপ হারে রপ্তানি বাড়ছে না। বিপরীতে আমদানির খরচ বেড়ে মূল্যস্ফীতিকে চাপে রাখছে।
ডলারের দামের চার বছরের যাত্রা : ২০২১ সালের আগস্টে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালে তখন ডলারের দাম ছিল মাত্র ৮৪ টাকা ৯৫ পয়সা। সেখান থেকে ২০২৫ সালের মার্চে তা দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকায়, অর্থাৎ চার বছরে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৪৪ শতাংশের বেশি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, টাকার মান নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কেনা কমিয়েছে। ফলে কিছুটা চাপ কমলেও দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স নির্ভর অর্থনীতি স্থিতিশীল না হলে টাকার ওপর চাপ থেকেই যাবে।













