৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে মাথাপিছু ৬ গুণ ও রাশিয়ার চেয়ে ১৯ গুণ বেশি অস্ত্র রপ্তানি করে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে মাথাপিছু ৬ গুণ ও রাশিয়ার চেয়ে ১৯ গুণ বেশি অস্ত্র রপ্তানি করে ইসরায়েল

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় ৬ গুণ এবং রাশিয়ার চেয়ে ১৯ গুণ বেশি। জনসংখ্যার অনুপাতে ইসরায়েলের অস্ত্রশিল্পের অভাবনীয় বিশালত্বকে তুলে ধরেছে এই পরিসংখ্যান।

ফিলিস্তিনি-মার্কিন লেখিকা সুজান আবুলহাওয়ার পরিচালিত এই সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইসরায়েল তার প্রতি নাগরিকের বিপরীতে প্রায় ২৬৩ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে এই পরিমাণ ছিল জনপ্রতি ৪১ ডলার ও রাশিয়ায় ১৪ ডলার।

হিসাবটি যদি শুধু ইসরায়েলের ইহুদি জনসংখ্যার ভিত্তিতে করা হয়, তবে এই পরিমাণ জনপ্রতি ৩৪০ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়—যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে প্রায় আটগুণ এবং রাশিয়ার চেয়ে ২৫ গুণ বেশি।

এই গবেষণার মূলত ভিত্তি হলো স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপরি) পরিসংখ্যান। এই সংস্থার আর্মস ট্রান্সফারস ডেটাবেস প্রধান প্রধান প্রথাগত অস্ত্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। সামগ্রিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ। তবে আবুলহাওয়া দেখেছেন, রপ্তানির হিসাব জনসংখ্যার অনুপাতে করলে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র ফুটে ওঠে।

২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মোট অস্ত্র রপ্তানিতে ইজরায়েল ছিল সপ্তম স্থানে। তাদের আগে ছিল যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চীন ও ইতালি। তবে সেই একই তথ্যকে যখন জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করা হয়, তখন ইসরায়েল বিশ্বের প্রতিটি শীর্ষ অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশকে অনেক পেছনে ফেলে দেয়।

ইসরায়েলের মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নরওয়ের চেয়ে প্রায় ২.৫ গুণ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ৩ গুণেরও বেশি ছিল।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই আধিপত্য কেবল একটি নির্দিষ্ট বছরের ব্যতিক্রমী কোনো ঘটনা নয়। বিগত ২৫ বছরের প্রতিটি বছরেই ইসরায়েল মাথাপিছু অস্ত্র রপ্তানিতে বিশ্বের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে (সাধারণত বিশাল ব্যবধানে) অথবা একেবারে ওপরের সারিতে থেকেছে।

তথ্যভান্ডারে অন্তর্ভুক্ত ১৯৬০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত পুরো সময়কাল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ সময়ে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় ইসরায়েলের মাথাপিছু গড় অস্ত্র রপ্তানিও সর্বোচ্চ। এই ৬৫ বছরে তারা প্রতি বছর জনপ্রতি ৫৬ ডলার সমমূল্যের অস্ত্র রপ্তানি করেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গত এক দশকে প্রতিদ্বন্দ্বী অস্ত্র রপ্তানিকারকদের সঙ্গে শীর্ষস্থানে থাকা ইসরায়েলের এই ব্যবধান আরও ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

জাতীয় অর্থনীতির আকারের বিপরীতে অস্ত্র রপ্তানির অনুপাতও পর্যালোচনা করেছেন আবুলহাওয়া। এতে উঠে এসেছে, ইসরায়েলের অর্থনৈতিক কাঠামোতে অস্ত্রের বাণিজ্য কতটা গভীরভাবে জড়িয়ে আছে।

সিপরির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানি ছিল তাদের মোট জিডিপির প্রায় ০.২৫ শতাংশ। এই হার ফ্রান্সের সমপরিমাণ অনুপাতের চেয়ে তিন গুণেরও বেশি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ছয়গুণেরও বেশি।

তবে ইসরায়েলের লাভজনক বাণিজ্যের একটি বড় অংশ, যেমন ড্রোন, গোলাবারুদ, ছোটখাটো অস্ত্র, সাইবার প্রযুক্তি, নজরদারি সরঞ্জাম, সেবা ও প্রশিক্ষণমূলক বিষয়গুলো সিপরির হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিরক্ষা চুক্তির ক্ষেত্রে সরকারের নিজস্ব বৃহত্তর পরিসংখ্যানগুলো ব্যবহার করলে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ইসরায়েল ১৩ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র রপ্তানি চুক্তির কথা জানিয়েছে—যা দেশটির জিডিপির প্রায় ২.৫ শতাংশের সমতুল্য।

গবেষণা অনুযায়ী, আনুপাতিক দিক থেকে এটি ইসরায়েলের অস্ত্র রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় সাড়ে ৮ গুণ এবং ফ্রান্সের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বড় করে তোলে।

এই পরিসংখ্যানগুলো বলছে, বৃহত্তর পরাশক্তিগুলো সামগ্রিকভাবে অস্ত্র বিক্রি করে বেশি অর্থ উপার্জন করলেও, ইসরায়েলের মতো অন্য কোনো তুলনীয় দেশ তাদের জনসংখ্যা ও অর্থনীতির আকারের অনুপাতে অস্ত্র রপ্তানি থেকে এত বেশি ব্যবসা করতে পারে না। – মিডল ইস্ট মনিটর থেকে