নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে প্রতিবারের মত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রায় দেড় হাজার মানুষের মধ্যে খাবার ও জায়নামাজ বিতরণ ও প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন।

“জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী”র উদ্যোগে গত শনিবার (১৫ আগস্ট) নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে দিনব্যাপী আয়োজিত কর্মসূচিতে দুপুর ১টা থেকে রক্তদান কার্যক্রম শুরু হয়। বিকেল ৩টা থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার ও জায়নামাজ বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে তাজা আমের জুসও বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে আগস্ট মাসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম। মোনাজাত শেষে উপস্থিত মানুষের মধ্যে খাবার, তবারক ও জায়নামাজ বিতরণ করা হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সাকিল মিয়া বলেন, “প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রবাসীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সবাইকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।”

অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান রেদোয়ানুল হক বলেন, “১৫ আগস্টের মতো একটি ঐতিহাসিক ও শোকাবহ দিনে প্রবাসে থেকেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ওই দিনের শহীদদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কমিউনিটির মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি সাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম নমি, আহ্বায়ক মীর নিজামুল হক, সদস্য সচিব মামুন মিয়াজী, চেয়ারম্যান রেদোয়ানুল হক ও প্রধান সমন্বয়ক শাহ জে চৌধুরী ছাড়াও এবারের আয়োজনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, গোল্ডেন এজ গ্রুপের প্রধান, নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, নিউ ইয়র্ক বাংলাদেশ সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান এম এ আজিজ ও বারী হোমকেয়ার এর আসেফ বারী টুটুল, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ফাহাদ সোলায়মানসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশিরা অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ভবিষ্যতেও রক্তদান, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।















