৪ঠা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিয়েছে-বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান

ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার তরুণদের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা করতে শিখিয়েছে-বাংলাদেশে  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, আমলাতান্ত্রিক আপস-মীমাংসা, তরুণ নেতাদের প্রতি দুর্বল দিকনির্দেশনা এবং সংস্কার কার্যক্রম পরিত্যক্ত হওয়ার বিষয়টি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জুলাই-পরবর্তী ম্যান্ডেটকে দুর্বল করে দিয়েছে।

হোসেন জিল্লুর রহমান আমলাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো, তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করা এবং সংস্কারের এজেন্ডা থেকে সরে আসাকে ইউনুস সরকারের তিনটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, এর ফলে শেষ পর্যন্ত তরুণদের মধ্যে ক্ষমতার প্রতি আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “ইউনুস সরকার তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করেছে। এটি তাদের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা শিখিয়েছে।”

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা জোট ‘সোয়াস অ্যান্টি-করাপশন এভিডেন্স’-এর আয়োজনে আজ (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সোয়াস ইউনিভার্সিটি অফ লন্ডন পরিচালিত আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী গবেষণা জোট ‘সোয়াস অ্যান্টি-করাপশন এভিডেন্স’-এর আয়োজনে আজ (১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এর অন্যতম প্রধান ব্যর্থতা ছিল তরুণদের ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষার দিকে ধাবিত করা। হোসেন জিল্লুর বলেন, “ইউনূস সরকার তরুণদের ভুল পথে পরিচালিত করেছে। এটি তাদের মধ্যে ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলেছে।”

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেছেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানে ইউনূস সরকার ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে শৃঙ্খলা ও দীর্ঘমেয়াদী নেতৃত্ব বিকাশের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, তরুণদের মধ্যে ধীরে ধীরে ক্ষমতার প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ গড়ে ওঠে। তিনি আরও বলেন, সমাজে শিক্ষাকে কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করার একটি প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের কেয়ারটেকার সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি উঠেছিল, আমলাতন্ত্রের সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আপসকামিতা তাতে বাধা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, কখন সাহসী ও মৌলিক সংস্কার পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, তা বুঝতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, “শুরু থেকেই তারা একটি রক্ষণশীল ও নিরাপদ পথ বেছে নিয়েছিল। পুরোনো আমলাতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলার পরিবর্তে তারা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে একই ধরনের আমলাদের বসিয়েছিল। ফলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার বদলে আগের ব্যবস্থাই কার্যত বহাল থেকে যায়।”

হোসেন জিল্লুর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বললেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার অভাব ছিল। এর ফলে, সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তারা তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

হোসেন জিল্লুর বলেন, “ইউনূস সরকার ‘সংস্কার’ শব্দটি সামনে এনেছিল। অথচ তারা নিজেরাই যেসব সংস্কার কমিশন গঠন করেছিল, সেগুলোর সুপারিশের প্রতি কোনো মনোযোগই দেয়নি। তারা সেগুলো ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছে। তারা এক ধরনের ‘সংস্কারের খেলা’ খেলেছে।”

অনুষ্ঠানটিতে সোয়াস (SOAS) বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান ও পল্লবী রায় ‘ওয়ান-ইলেভেন’ (১/১১) সময়কাল এবং জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের ওপর দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন।

রাজনৈতিক সংকটের মুখে ২০০৭ সালে বাংলাদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হোসেন জিল্লুর রহমান; ওই সরকার দুই বছর ক্ষমতায় ছিল।

প্রায় দুই দশক পর, ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া এক গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ শাসনের অবসান ঘটে এবং এরপর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় দেড় বছর পর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ওই সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করে এবং সেই নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসে।