৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারে ২৩ বছরের ইতিহাস ভাঙল: দিনে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী গ্রেফতারে ২৩ বছরের ইতিহাস ভাঙল: দিনে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত ও অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের গ্রেফতারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই গঠিত হওয়ার পর গত ২৩ বছরের ইতিহাসে ২০২৬ এর জুনে সর্বোচ্চ সংখ‍্যক অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে চলতি জুলাই মাসে সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সীমান্তবিষয়ক প্রধান টম হোমান। টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিউজনেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

টম হোমান আরো জানান, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ও অভিবাসনবিষয়ক সংস্থাগুলো পূর্ণ উদ্যমে অভিযান পরিচালনা করছে। গত জুনে আইসিই-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছিল, আর জুলাইয়ে অভিযানের গতি সেই পরিসংখ্যানকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিদিন গড়ে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হচ্ছে। সাবেক প্রশাসনের ঢিলেঢালা নীতির কারণে কোটি কোটি লোক অনিয়ন্ত্রিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং সেই পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২৬ অর্থবছরে অক্টোবর থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ৩ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি মানুষকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান হিসাব করলে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১,২৫৫ জন মানুষকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, জুলাই মাসে আইসিই এবং বর্ডার প্যাট্রোলের যৌথ অভিযানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১,৫৯৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যা জুনে ছিল প্রতিদিন গড়ে ১,৪৩৭ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, দেশের ভেতরে অবৈধভাবে বসবাসরত অপরাধী ও বিপজ্জনক ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও ফেরত পাঠানোর এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে ৩০ লাখের বেশি অবৈধভাবে অবস্থানকারী মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গেছেন উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধভাবে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আটক ও ফেরত পাঠাতে প্রশাসন অঙ্গীকারবদ্ধ।

তবে অভিবাসন সংস্থার এই ব্যাপক অভিযানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক ও অসন্তোষও দেখা দিয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে মেইন এবং টেক্সাসের হিউস্টনে অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিবর্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভে নামেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে গাড়ি তল্লাশি ও থামানো বন্ধের চিন্তা করা হলেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, এই ধরনের অভিযান বন্ধ করলে অপরাধী এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সুবিধা পাবে, তাই গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি অব্যাহত থাকবে।

পরবর্তীতে বিতর্ক এড়াতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের জন্য শরীরে ক্যামেরা পরা বাধ্যতামূলক করার কথা জানানো হয়। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টম হোমান বলেন, বডি ক্যামেরা ব্যবহার করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা প্রমাণ করা সহজ হয় এবং অভিযানের সঠিক চিত্র মার্কিন জনগণের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসী হামলার পর ২০০৩ সালের মার্চে গঠিত হয় এই অভিবাসন ও শুল্ক এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারাভিযানে ডোনাল্ড ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বড় আকারের ফেরত পাঠানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এখন সেটিই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।