৪ঠা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড়, পাঁচ দিনে ১০ হাজারের বেশি আটক

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন অভিযানে ব্যাপক ধরপাকড়, পাঁচ দিনে ১০ হাজারের বেশি আটক

সমগ্র যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অভিবাসন আইন বাস্তবায়নে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী (ইউএসসিআইএস) সংস্থা জানিয়েছে, পাঁচ দিনে পরিচালিত অভিযানে ১০ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট) দাবি করেছে, আটক হওয়া ব্যক্তিদের প্রায় ৭০ শতাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দাবি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন আইন কার্যকর করতেই যুক্তরাষ্ট্রব‍্যাপী এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

তবে স্বাধীনভাবে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণকারী গবেষকদের প্রতিবেদনে কিছুটা ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে করা এক বিশ্লেষণে দেখা যায়,

বর্তমানে প্রতিদিন এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হচ্ছে। এসব আটকের প্রায় অর্ধেকই স্থানীয় কারাগার, আটককেন্দ্র অথবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে হয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্কের আইনজীবীদের একটি সংগঠনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শহরটিতে প্রশাসনিকভাবে আটক হওয়ার সংখ্যা ২০১৭ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। তাদের তথ্যমতে, আটক হওয়া শত শত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আগে কোনো ফৌজদারি মামলার রেকর্ড ছিল না। আবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

অন্যদিকে সরকারি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের জুলাই মাসের শুরুতেই নিউইয়র্কে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের আটকের সংখ্যা ২০২৪ সালের পুরো বছরের মোট আটকের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এই অভিযান এমন সময়ে জোরদার করা হয়েছে, যখন সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালত জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান নীতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ আবেদন নাকচ করে দিয়েছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া অধিকাংশ শিশুর নাগরিকত্বের বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা বহাল রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রে কঠোর অবস্থানের ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক অভিযান নতুন করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি করেছে। যদিও প্রশাসনের দাবি, এই অভিযানের লক্ষ্য অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, তবু স্বাধীন তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, আটক হওয়া সবার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার রেকর্ড নেই। ফলে অভিযানটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।