১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়- চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ

সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়- চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ

সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয়, সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়ে জানালেন চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ গত ৮ জুন সোমবার সংবাদ সম্মেলনে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র বর্তমান কার্যকরী কমিটির কর্মকর্তারা দাবী করেছেন, গত নির্বাচনে পরাজিত মাকসুদ-মাসুদ প্যানেলের সদস্য ও তাদের কিছু সহযোগী কর্মকর্তারা অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি, বর্তমান কমিটি, ইলেকশন কমিশনসহ, নির্বাচন পরিচালনাকারী সংস্থা- ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস-এর বিরুদ্ধে সিভিল কোর্টে দায়ের মামলায় তারা নিজেদের চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র “মালিক” দাবি করে আদালতের কাছে বিচার চেয়েছেন। মামলার নম্বর ৫৩৫১৪৬/২০২৪। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে ২০২৭ সালের গ্রীষ্মকালীন সময়ে।

সেই মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন অনুষ্ঠান সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে ঠিক হবেনা। তবে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আসন্ন সাধারণ সভায় জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি আবু তাহের।

চট্টগ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট মহলকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেছেন।

জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বর্তমান কার্যকরি কমিটি গত ১৮ মাসের কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন।

নেতৃবৃন্দ বলেছেন, অতীতে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি, তহবিল তছরুপ এর নানা অভিযোগ সকলের জানা।

তাই বর্তমান কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।

দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান অব্যাহত থাকবে বলে জানান নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মো: আবু তাহের। স্বাগত বক্তব্যের পর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো: আরিফুর রহমান। লিখিত বক্তব্য বলা হয়, সত্যকিাররে মিডিয়া সমাজরে নানা ছবি মানুষরে সামনে তুলে ধর।

অন্যায়, অবিচার, মিথ্যাচারকে পরাজিত করতে সহায়ক ভূমকিা পালন কর।

তেমনি একটি দীর্ঘদজধরে চলে আসা ক্রমাগত মিথ্যাচার, গোয়বেলেসিও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরতে আপনাদরে সামনে হাজির হয়েছি।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনাদের নিরপেক্ষ সহযোগতিায় আমরা এইসব মিথ্যাতাঁর এবং প্রোপাগান্ডার জবাব দিতে সক্ষম হবো এবং সত্যকিাররে পরিস্থিতি,প্রমাণ সহকারে চট্টগ্রামবাসী এবং সংশ্লষ্টি সকলের সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হবো।

আজকরে এই অনুষ্ঠানে আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে চাই, এই চট্টগ্রাম সমতিরি জন্য যারা শ্রম, মধ্যস্থতা সহ নানাভাবে আমাদরে সাহায্য করছেনে কিন্তু আজ আমাদরে মাঝে নইে- র্সবজন শ্রদ্ধয়ে দীন এম রানা , সৈয়দ এম রেজা ভাই , আব্দুল হাই জিয়া ভাই , হেলাল উদ্দিন তসলিম ভাই, কামাল উদ্দিন ভাই, এডভোকটে নাজিম উদ্দনি উকিল ভাই , গিয়াস উদ্দিন ভাই , আসাদুল্লাহ হলি গ্যালারি , অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ , ডাক্তার আনোয়ার নিয়া , বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউল আজম শফি ভাই সহ আরো অনেকে।

চিটাগাং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইন্ক্ এই প্রবাসের একটিঅত্যন্ত স্বনামধন্য আঞ্চলিক সংগঠন- যার বয়েস হাঁটি হাঁটি পা পা করেপ্রায় ৩৭ বছরে পদার্পন করেছে। নানা চড়াই উৎরাইয়ের ভেতর দিয়ে এইসংগঠন এগিয়ে গেছে, এই পথ চলা সবসময় সহজ ছিল না, কোনোকোনো সময় এই পথ ছিল কণ্টকাকীর্ণ। তারপর ও চট্টগ্রাম সুহৃদদেরঅক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই কাঁটা বিছানো পথ অতিক্রম করতে আমরা সফল হয়েছি ।

কোভিড পূর্ববর্তী সময় থেকেই চট্টগ্রাম সমিতি নানা সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলো। প্রাণঘাতী কোভিড এর আক্রমণে সমিতির সভাপতি আবদুল হাই জিয়া ভাইয়ের আকস্মিক মৃত্যুতে সংকট আরও গভীরতরহয়। সেই সময়ে দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিবাদদমান সকল পক্ষের সমন্বয়ে একটি অর্থবহ নির্বাচন করার লক্ষ্যে একটিঅন্তর্বতীকালীন কমিটি গঠন করা হয়।

এই অন্তবর্তীকালীন কমিটি নানাসীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও দীৰ্ঘ সতেরো মাস পরে নির্বাচন কমিশন গঠনকরেন। যদিও প্রথমদিকে একটি দুষ্ট চক্র একতরফাভাবে নির্বাচনকমিশন গঠন করার চেষ্টা করলে তীব্র বাধার সম্মুখীন হন এবংপরবর্তীতে সকলের ঐক্যমতের ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পাঁচসদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। নির্বাচন কমিশনসমিতির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দক্ষতার সাথে সময়োপযোগীতফসিল ঘোষণা করেন। নির্বাচনের ভোট গ্রহণ এবং অন্যান্য সকলকার্যাদি সম্পাদনের লক্ষ্যে, সকল পক্ষের মতের ভিত্তিতে একটিইন্ডিপেন্ডেন্ট সংস্থা “ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস” কে নিয়োগ দেয়াহয়। তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয় ২০শেঅক্টোবর – ২০২৪। নির্বাচনে দুইটি প্যানেলের মধ্যে সরাসরি নির্বাচনঅনুষ্ঠিত হয়, যদিও সাধারণ সম্পাদক পদের একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীপ্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে ব্রুকলিন , কুইন্স, নিউজার্সি এবং কানেক্টিকাট এর চারটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ সম্পন্নহয়।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচন ছিল চোখে পড়ার মতন। ভোট গ্রহণ শেষেআনুষ্ঠানিক ফল গণনায় একাধিক পদের ভোটের পার্থক্য চ্যালেঞ্জডভোটার সংখ্যানুপাতে বিবেচনাযোগ্য হওয়ায় নির্বাচনের দিন নির্বাচনকমিশন পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা থেকে বিরত থাকেন। ছয়টি চ্যালেঞ্জডভোটের ন্যায্যতা নির্ধারণ এবং গণনা শেষে সভাপতি এবং সাধারণসম্পাদক পদে তাহের-আরিফ পরিষদের সদস্যরা নয়টি পদে এবং অন্যপ্যানেলের দশজন নির্বাচিত হন। এখানে উল্লেখ্য যে, চ্যালেঞ্জড ভোটসহসকল ভোটার গণনার কাজ ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিস সম্পন্নকরেছেন, নির্বাচন কমিশন চুক্তি এবং বিধি অনুযায়ী শুধুমাত্র ফলাফলঘোষণা করেন। ইউনাইটেড ইলেকশন সার্ভিসের কাছ থেকে প্রাপ্তফলাফলের ভিত্তিতে পাঁচজন নির্বাচন কমিশন পূর্ণ ঐক্যমতের ভিত্তিতেতাঁদের অফিসিয়াল ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল ঘোষণা করারপরপরই নির্বাচনে পরাজিত একজন সভাপতি পদপ্রার্থী নিজেরব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবংস্থানীয় কিছু পত্রপত্রিকায় বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। এইঅপপ্রয়াসের অংশ হিসেবে ফেসবুক লাইভে এসে ওই ব্যক্তি নির্বাচনকমিশনের প্রধানসহ সম্মানিত চট্টগ্রামবাসীর বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে নানাধরণের আপত্তিকর মন্তব্য করে, যার ভিডিও এখনো অনেকের কাছেসংরক্ষিত আছে – যদিও চট্টগ্রামবাসীর তীব্র প্রতিবাদের মুখে এবংজনরোষের ভয়ে ওই পোস্টটি সরিয়ে নেয়া হয়।

শুধু ওই পোস্টটি নয়, এমনতরো অনেকগুলো পোস্টই সেই ব্যক্তিরফেসবুক একাউন্ট থেকে সরিয়ে নেবার রেকর্ড আছে। অনেকেই তার এইধরণের কার্যক্রমকে মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন।

চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ( আর্টিকেল -১৫.২৫) ফলাফল ঘোষণার পনেরো দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন কতৃক শপথদেবার বিধান আছে। নির্বাচন কমিশন আর্টিকেল ১৫.২৫ অনুযায়ীনির্বাচিত সকল সদস্যদের তেসরা নভেম্বর,২০২৪ তারিখে শপথ গ্রহণেরজন্য আমন্ত্রণ জানান। তাহের-আরিফ পরিষদের সকল সদস্য শপথগ্রহণ করলে ও অন্য প্যানেল থেকে নির্বাচিত সদস্যগণ শপথ গ্রহণ নাকরার সিদ্ধান্ত নেন। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় নির্বাচনের ফলঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে শপথ গ্রহণের বিধান থাকলে ও পরিস্থিতিবিবেচনায় যৌক্তিক সময় অপেক্ষা করার পর ও শপথ না নেওয়ায়সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরবিজয়ী ঘোষণা করা হয় এবং নির্বাহী ক্ষমতাবলে নব-নির্বাচিত সভাপতিতাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করিয়ে সংগঠনের দায়িত্ব অর্পণ করেন।দায়িত্বপ্রাপ্ত হবার পর থেকেই ১৯ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটিনিরলসভাবে চট্টগ্রাম সমিতিকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে নির্বাচনেজয়লাভ করা সত্ত্বেও, একদল তরুণ, প্রতিশ্রুতিশীল নতুন নেতৃত্ব