যুক্তরাষ্ট্র বসবাস করা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের আলো ছড়িয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার লেখকের বই নিয়ে বিশেষ আয়োজন- ‘২য় নিউইয়র্ক ছোটদের বাংলা বইমেলা ২০২৬’।
গত ৩০ মে (শনিবার) জ্যামাইকার ১৬৭-১৬ হিলসাইড এভিনিউয়ের ‘শাহী কিচেন’ মিলনায়তনে বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই মেলা চলে।
মেলা প্রাঙ্গণকে মুখরিত রাখতে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল লেখক-পাঠক আড্ডা, মনোগ্রাহী গল্প বলা (স্টোরি টেলিং), ছড়া-কবিতা আবৃত্তি এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এবারের মেলার মূল আকর্ষণ ছিল চারজন জনপ্রিয় লেখক— কাজী জহিরুল ইসলাম, ডা. সজল আশফাক, আলম সিদ্দিকী এবং আশিক মুস্তাফা। শাহী কিচেনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মেলায় সপরিবারে অংশ নেন নিউইয়র্ক প্রবাসী বিপুলসংখ্যক বাঙালি ও সাহিত্যপ্রেমীরা। মেলায় অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল আশিক মুস্তাফার নতুন বই ‘One Little Mother’-এর জমকালো মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। এছাড়া মেলা প্রাঙ্গণে ৯০-এর দশকের ঐতিহ্যবাহী খেলনা ও বিভিন্ন ছবি সংবলিত বিশেষ পোস্টকার্ডের উন্মোচন ও প্রদর্শনী করা হয়, যা নতুন প্রজন্মের শিশুদের কাছে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করে। মেলাজুড়ে শিশুদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট্ট সোনামণিরা গল্প বলা, ছড়া ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং বড়দের পাশাপাশি নিজেরাও বইয়ের পাতা উল্টে আনন্দ উপভোগ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন

নাট্যব্যক্তিত্ব ও লেখক কাজী শামীম আহমেদ। তিনি মেলার এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘এই বইমেলা আমাদের নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সাথে যুক্ত করার চমৎকার একটি মাধ্যম। আগামীতে এই বইমেলা আরও বড় পরিসরে নিশ্চয়ই অনুষ্ঠিত হবে। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সর্বোচ্চ সুচেষ্টা ও সহযোগিতা থাকবে।’

মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাজী জহিরুল ইসলাম এবং ফারহানাজ শারমিন খান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘দেখতে দেখতে এই বইমেলা আজ দ্বিতীয় বছরে পদার্পণ করল। আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই আয়োজন যেন শুধু দ্বিতীয় বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং আগামীতে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পায়। বড় আকারের এই আয়োজনে আমরা শিশুদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা বা ইনভলভমেন্ট আশা করি।’
ফারহানাজ শারমিন খান মেলা নিয়ে তার ইতিবাচক অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, ‘এবারের মেলায় চমৎকার কিছু ইংরেজি বই এসেছে। বাংলাদেশের চমৎকার সব বাংলা বই যেন আগামীতে আরও বেশি ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে এখানে আসে, আমরা সেই সাধুবাদ জানাই। এর ফলে এখানকার ইংরেজি মাধ্যমে বড় হওয়া ছেলেমেয়েরা এই বইগুলো সহজে পড়তে পারবে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।’

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে মেলায় আমন্ত্রিত চার লেখক উপস্থিত পাঠকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন এবং নিজেদের লেখা বই থেকে অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান। সবশেষে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিল্পী ফিরোজ মিয়া ও শাহনেওয়াজ নজরুল সঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক বিভিন্ন কালজয়ী গানের সুরে সুরে মেলা প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হকরেন। রাত ১০টায় এই সফল ও আনন্দঘন মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মিলড্রেড এলির চেয়ারপারসন কাজী শামীমা আক্তার শিমুল। আর আনন্দঘন বিমেলা অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা করেন আফরোজা আখতার মুন্নি। – প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে














