২৮শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

নিউ ইয়র্কে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপুলসংখ্যক বংলাদেশীর সরব উপস্থিতিতে তিন দিনের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলার সফল সমাপ্তি

নিউ ইয়র্কে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপুলসংখ্যক বংলাদেশীর সরব উপস্থিতিতে তিন দিনের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলার সফল সমাপ্তি

যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক সমাজে বাঙালি জাতির মহান নেতা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে চিরজাগ্রত রাখতে প্রবাস প্রজন্মের সমন্বয়ে নিউইয়র্কে তিনদিনের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলার সফল সমাপ্তি ঘটেছে।

গত ১৭ মে বইমেলার সমাপনী দিবসে এবারের সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করা হয় ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে। ‘বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা ও নবী-জিনাত ফাউন্ডেশন সাহিত্য পুরস্কার’র অর্থমূল্য দুই হাজার ডলার ও একটি ক্রেস্ট। মবাক্রান্ত বাংলাদেশ ছেড়ে ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল বর্তমানে অন্য একটি দেশে অবস্থান করছেন। তাঁর পক্ষে এই সম্মানি গ্রহণ করেন ‘নিউ ইয়র্ক এর একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন’র সদস্য সচিব স্বীকৃতি বড়ুয়া।

এবারের সাহিত্য পুরস্কারের জন্য বিচারকমন্ডলীতে ছিলেন বিশিষ্ট লেখক তাজুল মোহাম্মদ (কানাডা), বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ড. আতাউল করিম (যুক্তরাষ্ট্র), বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী (কানাডা), বিশিষ্ট লেখক ডা. সেজান মাহমুদ (যুক্তরাষ্ট্র), একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী, মেলা কমিটির সদস্য সচিব স্বীকৃতি বড়ুয়া (পদাধিকার বলে) এবং কবি ফকির ইলিয়াস।

নিউইয়র্কে লং আইল্যান্ড সিটির ইভানজেল ক্রিস্টিয়ান সেন্টারের বিশাল মিলনায়তনে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপুলসংখ্যক বংলাদেশীর সরব উপস্থিতিতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য-সংস্কৃতির জয়গানে বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়ামের পাশাপাশি নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত চুক্তির ভয়ংকর পরিণতি নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশকে আবারো জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার চলমান ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল বাঙালিকে সজাগ থাকার উদাত্ত আহবানও উচ্চারিত হয়েছে এই মেলা থেকে। মিলনায়তনের বাইরে বসেছিল বইয়ের ২২টি দোকান। নবীন-প্রবীণ লেখকের গবেষণামূলক গ্রন্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশী বিক্রি হয় মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা বই।

১৫ মে শুক্রবার অপরাহ্নে মেলার উদ্বোধনী পর্বটি ছিল একেবারেই ভিন্ন আঙ্গিকে। প্রধান অতিথি মার্কিন কবি ও অনুবাদক ক্যারোলিন রাইটকে স্বাগত জানালেন বইমেলার আহ্বাক বিজ্ঞানী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ড. নুরুন নবী। ফুলের পাপড়িতে অতিথিদের বরণের পর লাল ফিতা কেটে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতায় আরো ছিল একদল বাদ্যযন্ত্রীর ঢোল, মন্দিরা আর নাচে মুখরিত করিডোর। এরপর মূল মিলনায়তনের প্রবেশের পরিক্রমায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সশস্ত্র অভিবাদন পুরো আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। অভিবাদনে নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম। সেখান থেকে সুসজ্জিত হলে আসন গ্রহণ করেন অতিথিরা, বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সাথে গ্র্যান্ড স্পন্সরদের কয়েকজন।

আহ্বায়ক ড. নুরুন নবীর সাথে প্রধান অতিথি ক্যারোলিন রাইট, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমামসহ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি ফরিদা ইয়াসমিন, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. কাদের মিয়া, ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম,ব্যবসায়ী ময়নুজ্জামান চৌধুরী, ব্যবসায়ী আতিকুল ইসলাম জাকির, রাজনীতিক জাকারিয়া চৌধুরী ও ইফজাল চৌধুরী, সমাজ সংগঠক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক আসন গ্রহণ করেন। প্রবাসের জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বিপা’র শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে গায় উদ্বোধনী সংগীত। এরপরই গাওয়া হয় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত। ফুল আর উত্তরীয় পরিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেয়া হয়। এ সময় বক্তব্য রাখেন ড. নুরুন নবী, ড. এ কে এ মোমেন ও ক্যারোলিন রাইট।

বাইরে বইয়ের প্রায় ২২টি স্টল। প্রথম দিনে বইয়ের বেচা-বিক্রি কিছুটা কম হলেও সাংস্কৃতিক পর্বে ছিল সমৃদ্ধ নান্দনিকতা। এভাবেই শুরু হয় তিনদিনের বইমেলা। ‘বই হোক একাত্তরের শাণিত বর্ম’ স্লোগানে উজ্জীবিত ছিল এবারের বইমেলা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লেখক প্রকাশকরা এসেছিলেন নিউইয়র্কে। অনেকেই অবস্থান করছিলেন পাশের হোটেলগুলোতে। এই আয়োজনে অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন খ্যাতিমান রবীন্দ্রকন্যা শ্রেয়া গুহঠাকুরতা ,বিখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী জয় শংকর, শিল্পী দীনাত জাহান মুন্নী, বাউল শিল্পী কালা মিয়া, নতুন প্রজন্মের শিল্পী আলভান চৌধুরী প্রমুখ।

গান গেয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পী -তাজুল ইমাম, বিপ্লব মুখার্জি, রাজীব ভট্টাচার্য, সেলিমা আশরাফ, শাহ মাহবুব, নীলুফার জাহান, অনিন্দিতা চৌধুরী, মেলাল করিম, করিম হাওলাদার,পন্ডিত কৃশান মহারাজ,মোরশেদ খান অপু, সেজান মাহমুদ, দিনার মনি, মোহাম্মদ শাহীন, তাহমিনা শহীদ, স্বপন দত্ত, ফাহমিদা এনি, সুকন্যা শৈলী, তপন মোদক, শারমিন আক্তার, সাগ্নিক মজুমদার, মুনমুন সাহা, শীতেশ ধর, শুক্লা রায়, প্রতিমা বসু, বসুনিয়া সুমন, পারভীন সুলতানা, সুতপা মন্ডল, ক্রিস্টিনা রোজারিও প্রমুখ।

তরুণ প্রজন্মের নাহিয়ান ইলিয়াস, জনম সাহা, দানিয়া সৈয়দ দিয়া, গুঞ্জরী সাহাসহ অনেকেই অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন পর্বে। একইসঙ্গে ছিল বিশিষ্ট আলোকচিত্রী পাভেল রহমানের একক উপস্থাপনা। নৃত্যে এনি ফেরদৌস ছিলেন বিশেষ পরিবেশনা নিয়ে। বিপা, উদীচী, আনন্দধ্বনি, তালতরঙ্গ, মিথান ড্যান্স একাডেমি, কৃষ্টি, বিকেপিএ ইত্যাদি সংগঠন অংশ নিয়েছে তিনদিনের প্রোগ্রামে। তরুণ প্রজন্মের জন্য ছবি আঁকা, নাচ গান আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা ছিল শেষ দুই ছিল শনি ও রবিবার।

পরিচালক নাদিম ইকবাল ও শামীম আল আমীন প্রদর্শন করেছেন কয়েকটি সদ্য নির্মিত ডকুমেন্টারি। এতে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ, দখলদার ইউনূসের মবশাসন, দেড় বছরের জুলুম উঠে এসেছে। এবারের তিনদিনের বইমেলায় বিষয়ভিত্তিক কয়েকটি সেমিনার, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও বই পরিচিতি, প্রকাশকদের মুখোমুখি,স্বরচিত কবিতা, আবৃত্তি, নবীন-প্রবীণ যাপনচিত্রের অভিজ্ঞতা, মায়েদের কথা- প্রবাসের প্রতিকূলতা, ইত্যাদি বিষয়ে প্রোগ্রাম ছিল খুবই সুবিন্যস্ত। সবকিছুতেই বইমেলায় মুখ্য ছিলেন ‘বঙ্গবন্ধু’।

বিশিষ্ট উপস্থাপক স্বাধীন মজুমদারের নেতৃত্বে তাহরীন প্রীতি, পিংকি চৌধুরী, বিথী রায় প্রমুখের একটি অভিজ্ঞ সমন্বয়ক ও সঞ্চালক টিম পুরো অনুষ্ঠানমালা প্রক্ষেপণ করেছেন পুরো তিন দিন। শনি ও রবিবার নবীন-প্রবীণ অনুষ্ঠান মালা ও মায়েদের অভিজ্ঞতা বড় দুটি আয়োজন উপস্থাপনা করেছেন বিশিষ্ট শব্দজন মনজুর কাদের। কবিতা পাঠ ও বই নিয়ে প্রোগ্রামটি ব্যবস্থাপনায় ছিল বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব। আবু সাঈদ রতনের সমন্বয় সাধনে এর একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি।

বইমেলা উপলক্ষে একটি চমৎকার ম্যাগাজিন ‘উত্থান’ প্রকাশিত হয়েছে। এটি সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন আসলাম আহমাদ খান। একটি সম্পাদনা পরিষদ নিরলস কাজ করেছে এই ম্যাগাজিনে। প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী তাজুল ইমাম। শব্দ সংযোগ ও গ্রাফিক্স বুনন প্রকাশন, বাংলাদেশ। ছাপা- প্রিন্ট মিডিয়া, নিউইয়র্ক।

বিশিষ্ট শিল্পী লুৎফুন নাহার লতা ও খ্যাতিমান শব্দজন মিথুন আহমেদ পরিবেশন করেছেন একক পর্ব দুটি। সবমিলিয়ে, একাত্তরের প্রহরী ফাউন্ডেশন বইমেলার সূচি ছিল বর্ণাঢ্য, যার পুরো কো-অর্ডিনেট করেছেন উত্তর আমেরিকার বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী গোপন সাহা ও তার টিম।

প্রথম দিন শুক্রবার ৬ টা থেকে রাত ১১ টা এবং শনি ও রবিবার সকাল ১০ টা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত ছিল বইমেলা। এবারের বইয়ের স্টল ছিল সময় প্রকাশন, নালন্দা, বাতিঘর, অন্বয়, বিদ্যাপ্রকাশ, কবি প্রকাশনী, কালিক, মুক্তমনা, কবি দিলওয়ার ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাব, আমরা শিশুদের সঙ্গী, জয় বাংলা পাঠাগার, শব্দগুচ্ছ, বই বিনিময়, মহসীন’স বুকসসহ অনেকগুলো বুকস্টল। ছিল আর্টস এ্যান্ড ক্রাফটসের পাঁচটি স্টল।

রাজনীতির খোলামঞ্চ, আমেরিকা-বাংলাদেশ গোপন বাণিজ্য চুক্তি ও খাদ্য সংকট, লেখক বঙ্গবন্ধু, অভিবাসী সাহিত্যের প্রতিকূলতা, লেখক প্রকাশক মুখোমুখি ইত্যাদি সেমিনারে অংশ নেন ড. নুরুন নবী, ড.এ কে এ মোমেন, ড. এ বি এম নাসির, দস্তগীর জাহাঙ্গীর, রানা হাসান মাহমুদ, মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, অধ্যাপক হোসনে আরা, মিনহাজ আহমেদ, স্মৃতি ভদ্র, মিয়া জাকির, শামসুদ্দিন আজাদ, খুরশীদ আনোয়ার বাবলু, মিলটন আহমেদ, ড. এনামুল হক, মইনুল ইসলাম, ময়নুজামান চৌধুরী, ইফজাল চৌধুরী, জাকারিয়া চৌধুরী, আব্দুল কাদের মিয়া, রাফায়েত চৌধুরী, বেলাল বেগ, রেদওয়ানুর জুয়েল, সুব্রত তালুকদার, সিরাজ উদ্দিন সোহাগ, শাখাওয়াত আলী প্রমুখ।

ইনস্পায়ারিং মোমেন্টস উইথ ক্যারোলিন রাইট সেমিনারে অংশ নেন এই প্রজন্মের নাহিয়ান ইলিয়াস ও জনম সাহা। স্বরচিত কবিতা, আবৃত্তি ও গানের আরও কয়েকটি পর্বে অংশ নেন আনোয়ারুল লাভলু, আবু নাসের মানিক, শুক্লা রায়, শ্রেয়া সেন, হাফসা ইমাম, মাহের আব্দুল্লাহ, গীতা রায়, প্রিয়াংকা দাশ, ক্রিস্টিনা রোজারিও, কাওসারী মালেক রোজী, শহীদ উদ্দিন, মিশুক সেলিম, খালেদ সরফুদ্দীন, আনোয়ার সেলিম প্রমুখ।

শনি ও রবিবার শিশু কিশোরদের অনুষ্ঠানের পুরো সমন্বয় করেন পারভীন সুলতানা। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় ভ্যানগার্ডের মতো কাজ করেছেন গোপাল সান্যাল, স্বীকৃতি বড়ুয়া, মিলটন আহমেদ,স্বপ্না ইমাম, সুতপা মন্ডল, মনিরা আকঞ্জি, শাহরিয়ার সালাম, পিনাকী তালুকদার, জয়তূর্য চৌধুরী, ঝর্ণা চৌধুরী প্রমুখ।

মেলার শেষদিন রবিবারের শেষ শিল্পী ছিলেন খ্যাতিমান বাউল শিল্পী কালা মিয়া। পদকর্তা রাধারমণ, শাহ আব্দুল করিম ও ফকির ইলিয়াসের গান পরিবেশন করেন তিনি। তার ধামাইল গানের তালে তালে মঞ্চে উঠে তখন নৃত্য করতে থাকেন উপস্থিত দর্শক শ্রোতার একাংশ। রাত তখন ১১ টা ছুঁইছুঁই। এই মেলার আহ্বায়ক ড. নুরুন নবী অভিবাসী সমাজ, শিল্পীবৃন্দ, স্পনসর, পৃষ্ঠপোষক, প্রকাশক, স্বেচ্ছাসেবক, ফাউন্ডেশনের সকল সদস্যকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। আমন্ত্রণ জানান আগামী বছর তৃতীয় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলায় যোগদানের জন্যে।

গ্র্যান্ড স্পনসরদের অন্যতম বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মইনুল ইসলাম দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, আগামী বছরগুলোতে আরও বড় পরিসরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বইমেলা’ অনুষ্ঠিত হবে ইনশাআল্লাহ। এবারের মেলায় খাবারের স্টল নিয়ে এনেছিল জ্যাকসন হাইটসের প্রখ্যাত- কথা রেস্টুরেন্ট।

মেলায় একক লেখক হিসেবে সবচেয়ে বেশি বই যাদের বিক্রি হয়েছে তারা হলেন লেখক স্মৃতি ভদ্র, কবি ফকির ইলিয়াস, কবি ফারহানা ইলিয়াস তুলি, ও লেখক ইশতিয়াক রুপু। স্টল হিসেবে সময় প্রকাশন, কালিক ও বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের স্টলে বই বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বঙ্গবন্ধু, মহান মুক্তিযুদ্ধ, একুশের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় লেখা বইয়ের প্রতি অভিবাসী প্রজন্মের আগ্রহ ছিল সবচেয়ে বেশি, যা সবার নজর কাড়ে।

এবারের বঙ্গবন্ধু বইমেলায় অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিপুলসংখ্যক বংলাদেশীর সরব উপস্থিতি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত অনেক নেতা-কর্মীকে মেলা প্রাঙ্গণে দেখা যায়নি।