প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো ইমিগ্রেশন আইন প্রণয়ন করা হয়নি। বরং আগে থেকেই বিদ্যমান ইমিগ্রেশন আইন ও বিধিবিধানের প্রয়োগে যে অব্যবস্থাপনা ছিল, তা দূর করে প্রচলিত আইন কার্যকর করাই ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য। এসব বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অতীতে যেসব বিধান কার্যকর করা হতো না, সেগুলো এখন কঠোরভাবে প্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।’
গত ১২ মে মংগলবার প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা এবং বেঙ্গল ক্লাব অব আটলান্টিক সিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনার ও আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। আটলান্টিক সাগরের তীরে বেঙ্গল ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইমিগ্রেশন ও পাবলিক চার্জ, বাংলা গণমাধ্যম ও কমিউনিটি এবং আমেরিকায় পর্যটন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, একজন অভিবাসী নতুন দেশে আসার পর কী ধরনের সুবিধা-অসুবিধার মুখোমুখি হতে পারেন, নতুন দেশে আসার জন্য তার কেবল ইমিগ্রেশন আইনের প্রস্তুতিই নয়, অর্থনৈতিক প্রস্তুতিও আছে কি না—এসব বিষয় ইমিগ্রেশন আইন প্রণয়নের সময় বিবেচনায় রাখা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের কথাও বলা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, আমেরিকাকে ইমিগ্রেশনের দেশ বলা হয়। এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রেই আসেন। ফলে এই খাতকে ঘিরে নানা ধরনের অব্যবস্থাপনাও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিকভাবে ইমিগ্রেশন ইস্যুকে ব্যবহার করা হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে যারা আমেরিকার ইমিগ্রেশন খাতে কাজ করেন এবং অভিবাসীদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলেন, তারা বরাবরই সোচ্চার।
অভিবাসীদের জন্য আইন ও নাগরিক সচেতনতা জরুরি এমটা উল্লেখ করে বক্তা বলেন, আমেরিকায় নতুন আসা অভিবাসীদের যেমন ইমিগ্রেশন আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, তেমনি এ দেশের নাগরিক আইন সম্পর্কেও সচেতন না হলে অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নাগরিক সংগঠনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অনুষ্ঠানে বাংলা সংবাদমাধ্যম ও কমিউনিটি প্রসঙ্গে আলোচকরা বলেন, একটি কমিউনিটি নানা অনুষঙ্গ ও অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে। উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিকাশ ও নির্মাণে বাংলা সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কমিউনিটির অগ্রযাত্রায় দেশে দেশে বাংলা সংবাদমাধ্যম যে অবদান রেখে চলেছে, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার।
বক্তারা বলেন, দেশের বাইরে বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংহতি এবং অগ্রযাত্রার অন্যতম প্রতীক বাংলা সংবাদমাধ্যম। তাই নিজেদের স্বার্থেই কমিউনিটিকে এই সংবাদমাধ্যমের পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখতে হবে।

পর্যটনের শহর আটলান্টিক সিটিতে দাঁড়িয়ে আলোচকরা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে পর্যটন বিনিময় আরও জোরদার করতে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। তাদের মতে, প্রবাসীরা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে আলোচক, লেখক, সাংবাদিক এবং কমিউনিটির সদস্যদের স্বাগত জানান প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন এবং বেঙ্গল ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলী চৌধুরী তান্নু।

সেমিনার ও আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার নির্বাহী সম্পাদক মনজুরুল হক, লেখক-সাংবাদিক শেলী জামান খান, সাংবাদিক সুব্রত চৌধুরী, আটলান্টিক সিটি বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট আকবর হোসেন, সেক্রেটারি মোহাম্মদ মোহাম্মদ শাহীন, পাপলু চৌধুরী,রওশন হক, রোকেয়া দীপা, ভায়লা সালিনা, কাজল বারাই,ফেরদৌস ইসলাম,আজিজুল ইসলাম ফেরদৌস, মনির হোসেন, লিখন কাজী,হেলাল হাসান,শাহরু রেজা চৌধুরী,বাদল বারাই,অপরাজিতা সরকার,আরিফ লিমন,মামুন ইসলাম,আনিসুর রহমান,অপরাজিতা সরকার, রাশিদা আখতার, ফারমিস আখতার, মাহে আলম জেমস, আবু সাঈদ, মাসুম বাউলসহ আরও অনেকে।














