১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ইউনুস সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাটোয়ারী

বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি ইউনুস সরকার ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাটোয়ারী

যুক্তরাষ্ট্রর অন্যতম বৃহত্‌ আঞ্চলিক ও সামাজিক সংগঠন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাধারণ সভা গত ১৯ অক্টোবর অপরাহ্নে জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিতে নতুন সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করা হয়েছে। নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস সরকার, সাধারণ সম্পাদক হিসাবে পুননির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এ বি সিদ্দিক পাটেয়ারি এবং কোষাধ্যক্ষ হিসবে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল হোসেন। সাধারণ সভায় গৃহীত অন্যতম উল্লেখযোগ সিদ্ধান্ত ছিল, যাদেরকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা।

সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ডা. এনামুল হবের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক এ বি সিদ্দিকী পাটোয়ারির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি ইউনুস সরকার, সহ-সভাপতি মামুন মিয়াজি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর সরকার, কোষাধ্যক্ষ বাছেদ ভুইয়া প্রমুখ।

সাধারণ সভায় কুমিল্লার বিভিন্ন সংগঠন ও কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যৈ কাজী তোফায়েল ইসলাম, বাংলাদেশ সেসাইিটি নিউ ইয়র্কের কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভু্ইয়া রুমি, বৃহত্তর কুমির্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ দুলাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাধারণ সভায় সবাইকে স্বাগত জানিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর মতামত ব্যক্ত করেন সংগঠনের বর্তমান সভাপতি ডা. এনামুল হক। সভাপতির স্বাগত বক্তব্যের পর পরই সাধারণ সম্পাদক এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট এবং কোষাধ্যক্ষ বাছেদ ভুইয়া কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্টে এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি বলেন, আজকে আমরা যে সমাজে বসবাস করছি, যেখানে মানুষ মানুষকে যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে চায় না, পরস্পর চরম হিংসা বিদ্বেষে নিমর্জিত। মনে হয় যে, অন্য কাউকে অসম্মান করলেই নিজেকে সম্মানিত মনে হয়। এ যেন এক অশান্তির অমানিশায় ভুগছে পুরো সমাজের মানুষ।

এ সমস্যার মধ্যেও আমরা বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি, যুক্তরাষ্ট্র ইনকের সবাইকে ভ্রাতৃত্ববোধে আবদ্ধ করার প্রত্যয়ে আজকের এই সাধারণ সভার আয়োজন। তিনি বলেন, বর্তমানে বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির আজীবন সদস্য ১২০ জন, সাধারণ সদস্য ২৬১ জন। বর্তমান সমিতির সর্বমোট মূলধন আছে ৭৮ হাজার ৩৭২ ডলার। বর্তমানে সমিতির কবর সংখ্যা ৬৫, যার মধ্যে ১৩টি কবর ব্যবহৃত হয়েছে।প্রবাস জীবনে হাজারো ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে আমরা এ সংগঠনের কাজ করে থাকি। তারপরও এটা আনন্দদায়ক কেননা এর মাধ্যমেই আমরা পরস্পর পরিচিতি লাভ করি, গড়ে ওঠে পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তরিকতার বন্ধন।

সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন পড়ে একটি কার্যকরি পরিষদ। ২০২৩-২০২৫ সালের জন্য বর্তমান কার্যকরি পরিষদ গঠিত হয় সর্বসম্মতিক্রমে। আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর গঠনতন্ত্রকে যথাযথ অনুসরন করে দীর্ঘ পরিকল্পনার আলোকে কাজ শুরু করার চেষ্টা করি। সময়ের অপ্রতুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা, সমন্বয়ের অভাব এবং বাস্তবিক কারণে অনেক সময় সংগঠন পরিচালনা করতে গিয়ে মনের অজান্তে ভুল ক্রটি হয়েছে তাই আজকের এই সাধারণ সভার সম্মানিত সদস্যদের কাছে আমাদের সকল অনাকাক্সিক্ষত ও অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি।

তিনি আরো বলেন, যে কোনো সংগঠনকে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টার। এক্ষেত্রে বিগত দিনে সমিতির সম্মানিত কার্যকরি পরিষদ ও সদস্য ভাইবোনরা আমাদের যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। আমাদের এই সফলতার পেছনে আপনাদের অবদান অনস্বীকার্য। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। বিগত দিনে আপনাদের সহযোগিতায় যে সকল কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি তা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।

অভিষেক : গঠনতন্ত্রকে অনুসরন করে নির্বাচনের পরই নতুন কর্মকর্তারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক, কলাকুশলী ও সদস্যদের উপস্থিতিতে নতুন কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন, দোয়া ও মাহফিল, ইফতার মাহফিল, মতবিনিময় সভা ও বনভোজন।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সব সময় নিরপেক্ষ ও দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে সবার সাবির্ক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছি। আমাদের দায়িত্ব পালনের সময়কালে যতটুকু কাজ হয়েছে এর কৃতিত্ব সংগঠনের কার্যকরি পরিষদ ও সাধারণ সদস্যদের। সংগঠনের কাজে কার্যকরি পরিষদের সবাই ছিল অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা একে অন্যের বিপদে-আপদে সংগঠনের প্রয়োজনে যার যা দায়িত্ব ছিল তা যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু সংগঠনের চাহিদা অনুযায়ী কাজের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলেও সময়ের অপ্রতুলতায় অনেক কাজ করা সম্ভব হয়নি। এজন্য আবারও ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টি কামনা করছি। আজকে যারা সাধারণ সভায় এসে অনুষ্ঠানকে সার্থক করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

কোষাধ্যক্ষ বাছেদ ভুইয়া তার রিপোর্টে উল্লেখ করেন, বিগত কমিটির কাছ থেকে আমরা পেয়েছিলাম ৩৬ হাজার ৩৪৮ ডলার। যার মধ্যে ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে আমাদের সংগঠনের আয় হয়েছে ১১ হাজার ৬৫১৫ ডলার এবং খরচ হয়েছে ৭১ হাজার ৭৩০ ডলার। অবশিষ্ট রয়েছে ৪৪ হাজার ৭৮৫ ডলার। যার মধ্যে ব্যাংকে রয়েছে ৪১ হাজার ৯৫২ দশমিক ৬০ সেন্ট এবং হাতে রয়েছে ৩ হাজার ৯২০ ডলার। সংগঠনের ৬৫টি কবর রয়েছে। যার বর্তমান মূল্য ৩২ হাজার ৫০০ ডলার। সবমিলিয়ে সমিতির নর্বমোট মূলধন আছে ৭৯ হাজার ৩৭২ ডলার।

সাধারণ সম্পাদক এবং কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে তিন সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন গঠনের পূর্বে সাধারণ সভায় উপস্থিত সদস্য খবির উদ্দিনের এক প্রশ্নে সভাপতি ডা. এনামুল হক বলেন, আমরা সবাই মিলেমিশে থাকতে চাই। আমাদের মধ্যে কোন বিরোধ নেই। অতীতের সকল ভুল বুঝাবুঝি আমরা ভুলে যেতে চাই। সমিতির সাবেক সভাপতি এমদাদুল হক কামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মরহুম আজাদ বাকির, অজীবন সদস্য মনির হোসেন ও অজীবন সদস্য আমিনুল ইসলাম চৌধুরীর ওপর যে সাংগঠনিক বিধিনিষেধ ছিলো তা এই মুহূর্তে প্রত্যাহার করা হলো। তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্তটি আরো আগেই নেওয়া উচিত ছিল। সবাই করতালির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

তিনি নির্বাচন কমিশন সবার মতামত নিয়ে বাছাই পর্বে নির্বাচন সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে ছিল প্রস্তাবনা ও সমর্থন। প্রয়োজনে সবার মতামত বা ভোট নেওয়া হয়। প্রথমেই নির্বাচন করা হয় কোষাধ্যক্ষ। কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হন আবুল হোসেন। তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। দ্বিতীয় পর্বে নির্বাচিত হন সাধারণ সম্পাদক এখানেও প্রস্তাব ও সমর্থন আসে এবি সিদ্দিক পাটোয়ারির পক্ষে। সব শেষে নির্বাচন করা হয় সভাপতিকে। সভাপতি পদে মামুন মিয়াজীর নামও প্রস্তাব হিসকে আসে, তবে মামুন মিয়াজী স্বয়ং সে প্রস্তাব নাকচ করে দিলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন ইউনুস সরকার। সুন্দর ও সুচারুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান নির্বাচন কমিশনের অন্যতম সদস্য রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সভপতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম মাছুম। নির্বাচন কমিশনের আরো দুই সদস্য হলেন মির্জা দস্তগীর ও শামসুদ্দিন শামীম নবনির্বাচিত সভাপতি ইউনুস সরকার ও সাধারণ সম্পাদক এবি সিদ্দিক পাটোয়ারি সবাইকে নিয়ে বসে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন জানান।

নবনির্বাচিত সভাপতি ইউনুস সরকার তাকে নির্বাচিত করার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানান। পুনরায় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবি সিদ্দিকী পাটোয়ারি। তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং সভাপতি ডা. এনামুল হক সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।