২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশনে জালিয়াতি ঠেকাতে ১০০ মিলিয়ন ডলারের নতুন প্রযুক্তি আনছে ইউএসসিআইএস

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের পরিচয় যাচাই ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া আরও নির্ভুল, গতিশীল ও ব্যক্তি-কেন্দ্রিক করতে ১০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি ব্যয়ের একটি বৃহৎ প্রযুক্তি প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS)।

ইমিগ্রেশন বায়োমেট্রিকস অ্যান্ড আইডেন্টিটি সার্ভিসেস’ বা আইবিআইএস (IBIS) নামের এই প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন, উন্নত ডেটা অ্যানালিটিকস এবং এনটিটি রেজোলিউশন প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (DHS) অধিগ্রহণ পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ২২ অক্টোবর এ সংক্রান্ত দরপত্র প্রকাশ করা হতে পারে এবং ২০২৭ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই চুক্তির মেয়াদ ২০৩২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইউএসসিআইএস আইবিআইএস (IBIS)-কে সম্পূর্ণ নতুন কোনো বায়োমেট্রিক ডেটাবেজ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেনি, বরং এটিকে সংস্থাটির পরিচয় ব্যবস্থাপনা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং ও তথ্য বিশ্লেষণের একটি সমন্বিত ক্লাউডভিত্তিক আধুনিক আইটি সমাধান হিসেবে তুলে ধরেছে।

এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ‘এনটিটি রেজোলিউশন’ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে নামের বানান, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও সরকারি বিভিন্ন নথি বিশ্লেষণ করে একই আবেদনকারীকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। আধুনিক এই ব্যবস্থার উন্নয়ন, ক্লাউড অ্যাপ্লিকেশন পরিচালনা, তথ্যপ্রযুক্তিগত নিরাপত্তা এবং সিস্টেমের সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব থাকবে নির্বাচিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওপর।

এই মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি দূর থেকেই আবেদনকারীদের পরিচয়পত্র ও কাজের অনুমতির নথি যাচাই করতে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের আলাদা বাণিজ্যিক সফটওয়্যার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে ফেসিয়াল রিকগনিশন, নথির বারকোড ও মেশিন-রিডেবল জোন যাচাই এবং অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (OCR)-এর মতো সুবিধার সাহায্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করা যাবে, যা প্রচলিত সরাসরি নথিপত্র পরীক্ষার ওপর নির্ভরতা কমাবে।

একই সঙ্গে কাগজভিত্তিক আবেদন থেকে ধাপে ধাপে পুরোপুরি ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পথ তৈরি করছে সংস্থাটি। গত ১১ আগস্ট কার্যকর হওয়া নতুন নিয়মের আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফর্ম অনলাইনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার ক্ষমতা পেয়েছে ইউএসসিআইএস, যা বছরে প্রায় ৬০ লাখ আবেদনকারীকে প্রভাবিত করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় তথ্য সংগ্রহ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ইমিগ্রেশন জালিয়াতি রোধ, স্বয়ংক্রিয় ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।