২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষের পাতা

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ওয়ার্ক পারমিট ‘সীমিত’ করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়প্রার্থীদের ওয়ার্ক পারমিট ‘সীমিত’ করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনের

যুক্তরাষ্ট্রে আইনি অভিবাসন হ্রাস করার লক্ষ্যে সর্বশেষ প্রচেষ্টায় ট্রাম্প প্রশাসন ২০ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রস্তাবে শরনার্থী এবং রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করা থেকে বিরত রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারীরা যেনতেন ভাবে একটি আশ্রয় আবেদন জমা দিয়ে ওয়ার্ক পারমিট লাভ করে বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পেয়ে যায় যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী ও হুমকিস্বরুপ বলে মনে করছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ। সেটি সংশোধন করার জন্যই ওয়ার্ক পারমিট সীমিত করার প্রস্তাব উ করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হল অভিবাসীদের কাজের অনুমোদন পাওয়ার জন্য প্রতারণামূলক আশ্রয় দাবি দাখিলের উৎসাহ কমানো। USCIS-এর কাছে বর্তমানে ১৪ লক্ষেরও বেশি আশ্রয় আবেদন বিবেচনাধীন রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে USCIS-এর নিকট দাখিল করা সমস্ত আশ্রয় আবেদনের সিদ্ধান্তও স্থগিত করেছে। ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ মনে করে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকাকালীন সময় বিদেশীরা কাজ করার অধিকারী নয়

ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির খসড়া প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবায় গড় প্রক্রিয়াকরণ সময় ১৮০ দিনের বেশি হলে ওয়ার্ক পারমিট আবেদন গ্রহণ এবং নবায়ন বন্ধ করে দেওয়া হবে।

এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হলে আশ্রয়প্রার্থীদের ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করার যোগ্য হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সময়কালও বৃদ্ধি পাবে, যার ফলে সময়কাল বর্তমানে প্রচলিত ১৫০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৩৬৫ দিন করা হবে।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে যে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আশা করে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট আবেদন “একটি বর্ধিত সময়ের জন্য, সম্ভবত অনেক বছর ধরে স্থগিত করা হবে।” যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়শই অবৈধ অভিবাসন রোধে তার কঠোর পদক্ষেপের কথা বলেছেন, তাঁর প্রশাসন বৈধ অভিবাসনও সীমিত করার জন্য কাজ করছে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এর প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনের সংখ্যা হ্রাস করে, সংস্থাটি বরং মুলতুবি আশ্রয় দাবি পর্যালোচনা করার উপর মনোযোগ দিতে পারে যাতে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ আবেদন (প্রায় ১৪ লক্ষ) বিবেচনা করার সময় কমানো যায়।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ আরো জানিয়েছে, অনেক দিন ধরে, একটি প্রতারণামূলক আশ্রয় আবেদন যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার একটি সহজ উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন অবকাঠামো ও ব্যবস্থাকে অযোগ্য আবেদনের মাধ্যমে প্রচন্ড চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রস্তাবিত নিয়মগুলি কার্যকর করার জন্য এবং পূর্ববর্তী প্রশাসন থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমে থাকা বিবেচনাধীন বিপুল আবেদন এর সংখ্যঅ কমাতে রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবস্থার একটি সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশীদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকার সময় বিদেশীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার অধিকারী নয়।”

প্রস্তাবিত বিধিমালা প্রসঙ্গে ‘অ্যাসাইলাম সিকার অ্যাডভোকেসি’ প্রজেক্টের সহ-নির্বাহী পরিচালক কনচিটা ক্রুজ বলেন, এই নিয়ন্ত্রণ আশ্রয়প্রার্থী, তাদের পরিবার এবং মার্কিন সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয়কর হবে। এক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, একজন কেনিয়ান ব্যক্তি প্রায় এক দশক ধরে তার আশ্রয় আবেদনের বিষয়ে USCIS-এর সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন তিনি নিজের ভরণপোষণের জন্য একটি ট্রাকিং ব্যবসাও গড়ে তুলেছেন।

“যুক্তরাষ্ট্রে আইনত কর্মরত এবং বসবাসকারী ব্যক্তিদের চাকরি থেকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া কেবল নিষ্ঠুরই নয়, এটি একটি খারাপ নীতি,” তিনি বলেন। “যদি এই নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়, তাহলে এটি মার্কিন পরিবার, ব্যবসা এবং মার্কিন অর্থনীতির ক্ষতি করবে।”

প্রস্তাবিত নিয়ন্ত্রণ, যা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে, ট্রাম্প প্রশাসনের মানবিক সুবিধা বন্ধ এবং বৈধ অভিবাসন সীমিত করার ব্যাপক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এসেছে। উদাহরণস্বরূপ, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ লক্ষ লক্ষ অভিবাসীকে কাজের অনুমতি এবং নির্বাসন সুরক্ষা প্রদানকারী অস্থায়ী সুরক্ষিত সুবিধাগুলি বাতিল করার চেষ্টা করেছে।

সেই সাথৈ এ সপ্তাহে প্রকাশিত একটি বার্তায়, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যে যারা বৈধভাবে এসেছেন কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসার এক বছর পরেও বৈধ স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করেননি তাদের আটক করতে।