১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

‘যারা মানুষ হত্যা করেছে,তাদের অবশ্যই বিচার হবে, প্রবাসীদের আমরা দেশে নিয়ে যেতে চাই- নিউইয়র্কে গণসংবর্ধনায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান

‘যারা মানুষ হত্যা করেছে,তাদের অবশ্যই বিচার হবে, প্রবাসীদের আমরা দেশে নিয়ে যেতে চাই- নিউইয়র্কে গণসংবর্ধনায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান Screenshot

নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বিষয়ে বলেছেন, ‘যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের অবশ্যই বিচার হবে। আমরা চাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক, কোনো নিরপরাধ মানুষ শাস্তি পাবেন না। রোববার (২৬ অক্টোবর) নিউইয়র্কের এস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড মেনরে ‘কোয়ালিশন অফ বাংলাদেশ আমেরিকান এসোসিয়েশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় ডা.শফিকুর রহমান আরো বলেন, আল্লাহ আপনাদের বাংলাদেশে জন্ম দিয়েছে। সেখানে আপনারা বড় হয়েছে। হয়ত পরিবেশের কারণে দেশে যেতে চান না। আমরা আপনাদের দেশে নিয়ে যেতে চাই। আল্লাহ সুযোগ দিলে আমরা সেই পরিবেশ সৃষ্টি করবো। মানবতার মুক্তির লড়াইয়ে আমরা আপরাদের সঙ্গে চাই। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ধ্বংস। শিক্ষাব্যবস্থা এখন বোকাদের হাতে। শিক্ষাব্যবস্থা ঠিক করতে আপনাদের প্রয়োজন। আমরা মেধাবী প্রবাসীদের একটি অংশ বাংলাদেশে চাই। যাতে আমরা আগামী ৫ বছরের মধ্যে জাতিকে মুক্তি দিতে পারি, স্তস্তি দিতে পারি, সবাই যেন বাংলাদেশি বলে গর্ব করতে পারে।

‘কোয়ালিশ অব বাংলাদেশি আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন’ (কোবা)’র উদ্যোগে ‘এস্টোরিয়া ম্যানর’ এ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে প্রদত্ত ‘নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল আজিজ ভুইয়া এবং সঞ্চালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্রস্থ সমন্বয়কারী ড. নাকিবুর রহমান।

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মস্থল ৮ ঘন্টার জায়গায় ৫ ঘন্টা করা হবে। মায়েরা গর্ভে সন্তান ধারণ করেন, বুকের দুধ পান করান এবং তাদের লালন পালন করেন। ক্ষেত্রবিশেষে তারা পেশাজীবীর ভ‚মিকাও পালন করেন। এত বাড়তি দায়িত্বের পর আমরাও ৮ ঘন্টা তারাও ৮ ঘন্টা কাজ করা তাদের প্রতি অবিচার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যুদ্ধের মতো ঝুঁকিপ‚র্ণ জায়গায় যদি আমাদের মা বোনেরা অংশগ্রহণ করতে পারেন, তাহলে সমাজের এমন কোন জায়গাটা আছে যেখানে তারা অংশগ্রহণ করতে পারবেন না? তারা যদি আদবের সাথে যে কোন কাজে অংশ নেন, সমাজ বাধ্য হবে তাদের তাদের নিরাপত্তা ও ইজ্জত দিতে।

এসময় জামায়াতের আমির প্রবাসী বাংলাদেশীদের আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে বাংলাদেশে যাওয়ার আহবান জানান। তিনি বলেন, যাদের পক্ষে সম্ভব হয় আপনারা ভোট দিতে যাবেন। আর যাদের পক্ষে সম্ভব হয়না তারা এখানে বসে দোয়া করবেন।

জামায়াত নেতা আরো বলেন, জাতির জন্যে যা প্রয়োজন (টাকা-পয়সা) তা আপনারা এমনিতেই দিচ্ছেন। আপনাদেরকে অসংখ্য শোকরিয়া, অসংখ্য ধন্যবাদ। আমাদেরকে এই রেমিটেন্সটা দেন, আমাদের ভাঙা-চোরা শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে ঠিক করতে সাহায্য করুন। আমাদের ইকনোমির র›েদ্ব্র রন্ধে¦্র যে উইপোকা-ছারপোকা ঢুকে পড়েছে, ওগুলোকে তাড়ানোর জন্যে আমাদেরকে সাহায্য করুন। ওগুলোর হাত থেকে আমাদের সমাজ-দেহটাকে সুস্থ করতে সাহায্য করুন। আসুন আমাদেরকে সাহায্য করেন আপনাদের নলেজ আর এক্সপার্টিজ।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ডা. শফিকুর রহমান আহবান জানিয়ে বলেন, শুধু রেমিট্যান্স নয়, দেশের উন্নয়নে প্রবাসী মেধাবীদেরও ফিরিয়ে আনা হবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণরা বিভিন্ন দেশে গৌরবোজ্জ্বল ভ‚মিকা পালন করছে। দেশের উন্নয়নে তারা গুরুত্বপ‚র্ণ অবদান রাখছে। আমরা তাদের অন্তত একটি অংশ বাংলাদেশে চাই।’ প্রবাসীদের ভোটাধিকারের প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘যারা যেতে পারবেন না, এখান থেকে দোয়া করবেন কিন্তু ভোট মিস করবেন না। প্রবাসীদের ভোট দেশের উন্নয়নে শক্তি হিসেবে কাজে লাগবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. জুন্নুন চৌধুরী, মুফতি জামালউদ্দিন, মাওলানা আব্দুর রহমান খান, ড. শওকত আলী, ডা. বদরুল ইসলাম, ডা. খালেকুজ্জামান. ডা. জাকির হোসেন, হাফিজ জাকের আহমেদ, আবু আহমেদ নূরুজ্জামান প্রমুখ।

সমাবেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অনেকেই অঙ্গ হারিয়েছে। অনেকে কর্মক্ষমতা হারিয়েছে। অসংখ্যা সাধারণ মানুষ শহীদ হয়েছে। শহীদের অধিকাংশের পরিবারের অবস্থা করুন, নুন আনতে তাদের পান্তা পুরোয়। আমরা ঘুরে ঘুরে প্রত্যেকটা পরিবারের কাছে গিয়েছি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। তাদের ম‚ল্যবান জীবনীকে ইতিহাসের সোনালী পাতায় তুলে আনার চেষ্টা করেছি। ১২ খন্ডের শহীদ স্মরণীকা তৈরী হয়েছে। ৪ টি ভাষায় সেটা অনুবাদ করা হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম সরকার এটা করবে, আশা করেছিলাম সিভিল সোসাইটির অনেকে আছেন, তারা করবে। কেউ যখন এ ব্যাপারে হাত দিলেন না, মহান রবের উপর ভরসা করে আমরা হাত দিলাম।

তিনি আরো বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছর আমরা মজলুম দল ছিলাম। আমাদের প্রথম শ্রেণির কয়েকজনকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর এটিএম আজহার সাহেবকে ফেরত পাই। আসলে আমরা একটি কঙ্কাল পেয়েছি। আরমানের মার সঙ্গে দেখা হলে তিনি বলতেন আমি বুকে পাথর বেঁধে আছি। দুই মেয়ে দাদুকে বলতো আব্বু কোথায়। বাসায় ফোন এলে বলতো আব্বু কি ফোন করেছে? ব্রিগেডিয়ার আযমীর একই অবস্থা। তিনি বলেন, ২০২৪ সালে ১ আগস্ট তারা আমাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেয় আর আল্লাহ ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে দেয়। এর কোনো কৃতিত্ব আমাদের না। সমস্ত কৃতিত্ব আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের। আল্লাহ যাকে পছন্দ করেন ক্ষমতায় বসান, আবার যখন সীমা লঙ্ঘন করে দুনিয়াকে অস্থির করে তোলে, আল্লাহ সেই ক্ষমতা কেড়ে নেন। ইট ইজ আল্লাহ। হি ইজ অলমাইটি। আসুন আমরা শোকরিয়া আদায় করি আল্লাহ তায়ালার।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি এবং আমার দল যে প্রতিজ্ঞা করেছিল এই মজলুম বাংলাদেশকে গড়তে হবে। ন্যায় এবং সত্যের পথে কেউ এগিয়ে আসুক আর না আসুক আমাদের এই মজলুম কাফেলা হিম্মত করে আল্লাহর ওপর ভরসা করে এগিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমানকে কোবাসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল অভিনন্দন জানানো হয়। অনুষ্ঠানের মুনার শিল্পীরা ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন।

উল্লেখ্য, প্রথমবারের মতো আমেরিকা সফরে আসা জামায়াতে ইসলামীর আমির গত ২২ অক্টোবর নিউইয়র্ক পৌঁছে ওয়ার্ল্ড ফেয়ার মেরিনায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকার সাংবাদিক ও সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর বাফেলোতে ও মিশিগানে পৃথক গণসংবর্ধনায় অংশ নেন তিনি।

মিশিগানে সংবর্ধনা : এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাক্তার শফিকুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র সফরের অংশ হিসেবে তিনি আমেরিকার অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত স্টেট মিশিগানে যান গত ২৫ অক্টোবর শনিবার। জামায়াতের আমিরের আগমন উপলক্ষে বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি অফ মিশিগানের উদ্যোগে এক বিরাট গণ সংবর্ধনা মিশিগানের হেমট্রামিক সিটিতে আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে অতীত ও বর্তমান সময়ের রাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে আসতে দেশের সাথে প্রবাসের সকল নেতৃবৃন্দের ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সহযোগিতা কামনা করেন।

ডাঃ মোতাহার আহমেদের সভাপতিত্বে এবং জামায়াতে ইসলামীর সাবেক শুরা সদস্য মাওঃ সুহেল আহমেদের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর যুক্তরাষ্ট্র মুখপাত্র ড, নাকিবুর রহমান, ডাক্তার রাশেদুজ্জামান, এটর্নি রুহুল মুমেন, আলফালাহ মসজিদের খতিব ইমাম আব্দুল লতিফ আজম, বাংলাদেশী আমেরিকান ফোরামের সভাপতি সাহেদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে মেহমানকে কমিউনিটির পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়।