যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নথিপত্রহীন অভিবাসীদের কর প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইন্টারনাল রেভিনিউ সার্ভিস (আইআরএসের) ওপর চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা চলছে, যা অভিবাসীদের তাদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস প্রকাশ করতে বাধ্য করতে পারে।
এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রের কর ব্যবস্থা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারেন।
বর্তমানে যাদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর নেই, তারা আইটিআইএন
(ইনডিভিজ্যুয়াল ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার) ব্যবহার করে ট্যাক্স ফাইল করেন। নতুন প্রস্তাবে এই আইটিআইএন কোডকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করার কথা বলা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য আলাদা কোড বরাদ্দ করা হবে, যা সরাসরি তাদের ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস চিহ্নিত করে দেবে। বর্তমানে এই কোডটি অভিবাসীদের পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত আমেরিকান করদাতা এবং নির্দিষ্ট কিছু বৈধ অভিবাসীও ব্যবহার করেন। এটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ক্রেডিট কার্ডের আবেদন এবং কিছু স্টেটে ড্রাইভিং লাইসেন্স / আইডি পাওয়ার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
আইআরএসের কর্মকর্তাদের একাংশ আশঙ্কা করছেন যে, এই পদক্ষেপটি সংস্থার মূল লক্ষ্য অর্থাৎ ‘কর সংগ্রহ’ প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
গত বছর প্রায় ৪৭ হাজার অভিবাসীর ঠিকানা আইসের সাথে শেয়ার করার একটি প্রচেষ্টা আদালত আটকে দিয়েছিল। নতুন এই নিয়ম চালু হলে অভিবাসীরা ভয় পেতে পারেন যে তাদের তথ্য ইমিগ্রেশন বিভাগের হাতে চলে যেতে পারে।
এছাড়া, প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের নথিপত্রহীন অভিবাসীরা প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলার ফেডারেল ট্যাক্স প্রদান করেন। সিস্টেমের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেললে তারা হয়তো ‘অফ দ্য বুক’ বা নগদ টাকায় কাজ শুরু করবেন, যার ফলে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিশেষ করে সোশ্যাল সিকিউরিটি এবং মেডিকেয়ারের তহবিলে এর বড় প্রভাব পড়বে।
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন বিষয়ক নীতি নির্ধারক স্টিভেন মিলার অভিবাসীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন। বড় ধরনের গণ-ডিপোর্টেশন অভিযানের পাশাপাশি প্রশাসন এখন অভিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা কঠিন করে তোলার কৌশল নিয়েছে, যাতে তারা ‘স্বেচ্ছায়’ দেশত্যাগ করতে বাধ্য হন। এর মধ্যে রয়েছে পাবলিক হাউজিং সুবিধা বন্ধ করা এবং ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ওপর কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনা।
সাবেক আইআরএস কর্মকর্তাদের মতে, কর সংগ্রহের জন্য কারও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস জানার কোনো প্রয়োজন নেই। আইআরএসের প্রাক্তন ট্যাক্সপেয়ার অ্যাডভোকেট নিনা ওলসন বলেন, “আইআরএস যদি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে মানুষ ট্যাক্স দেওয়া বন্ধ করে দেবে।”
অন্যদিকে আইআরএস এর প্রাক্তন কমিশনার মার্ক এভারসন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, সরকারকে এমন পদক্ষেপ এড়ানো উচিত যা মানুষকে কর ব্যবস্থার বাইরে ঠেলে দেয়।














