৪ঠা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান ফিরল বাংলাদেশে! এ বারের নিশানা তারেকের সরকার, ‘স্বৈরাচারী’ বলে তোপ দাগলেন নাহিদেরা

‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান ফিরল বাংলাদেশে! এ বারের নিশানা তারেকের সরকার, ‘স্বৈরাচারী’ বলে তোপ দাগলেন নাহিদেরা

‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান ফিরল বাংলাদেশে! এ বারের নিশানা তারেকের সরকার, ‘স্বৈরাচারী’ বলে তোপ দাগলেন নাহিদেরা প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল বাংলাদেশে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ সেই সমস্যাকে ছাপিয়ে ‘ভারত-বিরোধী’ স্লোগানও উঠল ঢাকার রাস্তায়। তারেকের সরকারকে বিঁধল ‘নব্য স্বৈরাচারী’ বলে।

শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে বেশ কিছু ‘ভারত-বিরোধী’ স্লোগান ছড়িয়ে পড়েছিল। উঠেছিল ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান। এ বার তারেক রহমানের সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভেও বাংলাদেশের রাস্তায় ফের উঠে এল সেই স্লোগান। পূর্বতন হাসিনা সরকারের সঙ্গে তারেকের বর্তমান সরকারকে এক বন্ধনীতে ফেলে ‘স্বৈরাচারী’ বলে তোপ দাগল বাংলাদেশের হাসিনা-বিরোধী তরুণদের দল এনসিপি। তুলল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং জ্বালানি ও খনিজমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর ইস্তফার দাবি।

২০২৪ সালে হাসিনা-বিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-যুব নেতারা পরবর্তী সময়ে গড়ে তোলেন তাঁদের রাজনৈতিক দল এনসিপি। বাংলাদেশের ‘মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী’ দল জামায়াতের সঙ্গে জোট বেঁধে এ বারের ভোটে লড়়েছিল এই দল। সংগঠনের নেতা নাহিদ ইসলাম (অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা) বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে বিরোধী শিবিরের চিফ হুইপ। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা অবনতি-সহ বিভিন্ন বিষয়ে তারেক সরকারের বিরুদ্ধে শুক্রবার ঢাকায় একটি সমাবেশ করে এনসিপি। কিন্তু সভায় এনসিপি নেতাদের বক্তৃতা শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার মধ্যে সীমিত থাকেনি। উঠে এসেছে ‘ভারত-বিরোধী’ বিভিন্ন মন্তব্যও।

সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা যায়, ঢাকার সমাবেশের মঞ্চ থেকে ‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিচ্ছেন এনসিপি নেতারা। ভিড়ের মধ্যে থেকে তার উত্তর ভেসে আসছে, ‘ঢাকা, ঢাকা’। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেকদের বিঁধে নাহিদ বলেন, “বর্তমান সরকার ভারতের চক্রান্ত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে না। জাপানে গিয়ে ফের বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ‘অবৈধ করিডর’ ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন তারেক রহমান। এ ধরনের কোনও অবৈধ করিডর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না।” ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়েও শুক্রবার মন্তব্য করেন এনসিপি নেতা।

গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নিয়েও তারেকের সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে রাখে বাংলাদেশের হাসিনা-বিরোধী তরুণদের দল। উল্লেখ্য, গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে ১৯৯৬ সালে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরে এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। সূত্রের খবর, মেয়াদ শেষের আগেই গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি নবীকরণ করতে আগ্রহী ঢাকা। এ প্রসঙ্গে তারেকদের উপর চাপ বাড়িয়ে এনসিপি নেতার দাবি, গঙ্গা চুক্তি ‘ন্যায্য ভাবে’ নতুন করে তৈরি না-করলে, ফের আন্দোলন শুরু হবে। “এ বার আমরা গঙ্গা চুক্তিতে কোনও ভাবেই বিন্দু পরিমাণ আমাদের ন্যায্য পাওনায় ছাড় দেব না”, বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, হাসিনার প্রত্যর্পণ নিশ্চিত করার জন্য অতীতে বিভিন্ন সময়ে তারেকের উপর চাপ তৈরির চেষ্টা করেছে এনসিপি। গত অগস্টে নাহিদ বলেছিলেন, “শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কী ভাবে হবে, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সম্পর্ক কী রকম হবে— এ সব বিষয় ঠিক না করা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ভারতে যেতে পারবেন না।” ঘটনাচক্রে, তার পরের মাসেই দিল্লিতে ব্রিক্‌স সম্মেলন ছিল এবং তার আউটরিচ সেশনে আমন্ত্রিত থাকা সত্ত্বেও আসেননি তারেক। পাঠাননি কোনও প্রতিনিধিও। শুক্রবার সেই তারেকের সরকারকে বিঁধে নাহিদ বলেন, “আমরা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি। কিন্তু আমরা পতিত স্বৈরাচার এবং এই নব্য স্বৈরাচার— উভয়কেই পরাজিত করব।”

আওয়ামী লীগের পতনের পর গত দু’বছর ধরে হাসিনা ভারতেই রয়েছেন। তবে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ডিসেম্বরে তিনি নিজ দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। হাসিনা বাংলাদেশে ফিরলে সেই পরিস্থিতি ‘নতুন স্বৈরাচার’ মোকাবিলা করতে পারবে না, মত নাহিদের। এ অবস্থায় ‘জুলাই আন্দোলনে’র সঙ্গে জড়িত জনতাকে ফের ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও ডাক দেন তিনি। সংবাদ সুত্র আনন্দবাজার পত্রিকা