২৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শেষ মুহূর্তের গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতল স্পেন

কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে শুরু করা স্পেনই শেষ পর্যন্ত ফুটবলে বিশ্ব জয়ের শেষ হাসি হাসল। এবারের বিশ্বকাপের হট ফেভারিট আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরলেন “লা রোজারা”। ফাইনালে ১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ গোলের রোমাঞ্চকর জয়ে ২০১০ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি নিজেদের করে নিল ইউরোপের পরাশক্তিরা। শুরুর হতাশা কাটিয়ে একের পর এক জয় আর নিজেদের গোলপোস্ট প্রায় অক্ষত রেখে স্পেনের এই শিরোপা জয় যেন এক অবিশ্বাস্য রূপকথার গল্প।

দারুণ সব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা এদিন বিশ্বের সকল প্রান্তেরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমর্থকদের পুরোপুরি হতাশ করেছে।

অবিশ্বাস্য মাত্রায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটসহ পুরো ১২০ মিনিটের খেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছিল স্পেন। আর্জেন্টিনা মাত্র ৩৫ শতাংশ বল দখলে রাখতে সক্ষম হয় এবং পুরো ম্যাচে প্রতিপক্ষের গোলমুখে সরাসরি একটি শটও নিতে পারেনি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট সময়ে স্পেনের জয় না পাওয়াটা ছিল স্রেফ দুর্ভাগ্য। তবে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল অবদান ছিল আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের, যিনি এদিন ১০টি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে লড়াইয়ে রাখেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের শেষ প্রান্তের গোল আর ঠেকাতে পারেননি তিনি।

ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। মাত্র ৫ মিনিটের মাথায় লামিন ইয়ামাল দলকে প্রায় এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। প্রথমার্ধের ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনা মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল, যেখানে মেসি, গঞ্জালেজ ও আলভারেজরা ছিলেন অনেকটা নিষ্প্রভ। স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি পুরো মাঠ জুড়ে দারুণ খেলেছেন, এমনকি ডিফেন্সেও রেখেছেন বড় অবদান। অন্যদিকে ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, যিনি পরবর্তীতে ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।

দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে পরিবর্তন আনলেও আর্জেন্টিনার খেলায় খুব একটা ধার ফেরেনি। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির দারুণ ট্যাকল এবং গোলরক্ষক মার্টিনেজের বীরত্বে আর্জেন্টিনা বেশ কয়েকটি নিশ্চিত গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায়।

তবে ম্যাচের শেষ ভাগে ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে সেমিফাইনালে পিছিয়ে থেকে সমতা আনার গোলদাতা এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলে আর্জেন্টিনা ১০ জনের দলে পরিণত হয়।

১৯৬৬ সালের পর প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ৭০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট নিতে ব্যর্থ হওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডও গড়ে স্কালোনির শিষ্যরা।

৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিকো উইলিয়ামসের একটি গোল ভিএআর-এর সাহায্যে বাতিল হয়ে যায় ফাউলের কারণে। তবে স্পেন তাদের আক্রমণের ধারা অব্যাহত রাখে। অবশেষে অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের মাত্র ২৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। পেদ্রো পোরোর ক্রস থেকে উইলিয়ামসের সহায়তায় দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা ফেরান তোরেস। ২০১৪ সালে মারিও গোৎসের পর আবারও ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের গোলে হৃদয় ভাঙে আর্জেন্টিনার, আর স্পেন মেতে ওঠে বিশ্বজয়ের বুনো উল্লাসে।