১লা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিচারক টাঙ্গাইলের সোমা সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বিচারক টাঙ্গাইলের সোমা সাঈদ

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ভোটে নির্বািচত এবং নিউইয়র্কের কুইন্সের প্রথম মুসলিম বিচারক হিসেবে নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারকনির্বাচিত হয়েছেন সোমা এস সাঈদ। বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলায় জন্ম নেওয়া সোমা সাঈদের প্রয়াত বাবা আফতাব উদ্দিন সাঈদ ছিলেন একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং মা ছিলেন একজন প্রধান শিক্ষিকা। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী জীবনের পর মরহুম আফতাব উদ্দিন সাঈদ ছিলেন নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক।

জাজ সোমা সাঈদ গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত তিনি অপর ৪ জাজের সাথে তিনিও ডেমোক্র্যাট দলীয় মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। নির্বাচনে তিনি ২,৫৫,১২৩ ভোট পেয়ে এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি অর্জন করেন। তার প্রাপ্ত ভোট ৯৬.০৪ শতাংশ। বিজয় উপলক্ষে সোমা সাঈদ বলেন, এটি আমার পরিবার, আমার সমাজ এবং আমার দেশের বিজয়। জয়ের পেছনে অবদান রাখার জন্য তিনি ভোটার, সমর্থক ও শুভাকাঙ্খীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

জাজ সোমা সাঈদ ২০২১ সালে নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স কাউন্টি থেকে সিভিল কোর্টের বিচারক হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তিনি আইনি ও নাগরিক সমাজে একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে সোমা সাঈদ তার স্বামী মিজান চৌধুরীর সঙ্গে নিউইয়র্কের কুইন্সে বসবাস করছেন।

 

তিনি কুইন্স কাউন্টির জাজ নির্বাচিত হওয়ার আগে বিশেষজ্ঞ প্রসিকিউটর এবং প্রাইভেট প্র্যাকটিশিনার ভাস্ট কমিউনিটি ও প্রোবনো বিশেষজ্ঞ। তিনি আলবেনি ল’ স্কুল থেকে আইন বিষয়ে জুরিস ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এর আগে তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির সিটি কলেজ থেকে ব্যাচেলর ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন আইনজীবী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি সোমা সাঈদ কমিউনিটির বিভিন্ন কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। অর্জন করেছেন বিভিন্ন অভিজ্ঞতা। লড়াই করেছেন নিউইয়র্কবাসীর বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য।

জাজ সোমা সাঈদ বৈচিত্র্য, প্রতিনিধিত্ব ও ন্যায়বিচারের প্রতি তার অঙ্গীকারের জন্য পরিচিত। তিনি নিউইয়র্কের আইনী অঙ্গনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বের পদে ছিলেন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটি সম-অধিকার প্রয়োগ পরিষদের সহ-সভাপতি, নিউইয়র্ক সিটি ন্যায়বিচার অধিকার পরিষদের বোর্ড সদস্য এবং নিউইয়র্ক মার্কিন-এশীয় বিচারকদের সংস্থার সদস্য উল্লেখযোগ্য। এছাড়া তিনি কুইন্স কাউন্টি উইমেনস বার এসোসিয়েশনের প্রথম দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম নারী সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।খবর ইউএনএ’র।