৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনকের কার্যকরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত, সদস্যদের ভোটে কমিটি গঠনের তাগিদ

রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনকের কার্যকরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত, সদস্যদের ভোটে কমিটি গঠনের তাগিদ

গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটনের সানাই রেস্টুরেন্টের অডিটোরিয়ামে রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনকের কার্যকরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রসঙ্গত, কেবল সভাপতি পদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত চাঁদপুরবাসীদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ঐক্যবদ্ধ সংগঠন এখন বিভক্ত। একটি রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনক। অপরটি রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন ইনক। রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক ইনকের বিদায়ী সভাপতি ফখরুল ইসলাম মাছুম ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মনিরের পরিচালনয় এবং নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে কার্যকরি কমিটির প্রথম সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিবিদ আকতার হোসেন বাদল। মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি আমিন খান জাকির, সিনিয়র সহ-সভাপতি আকতার হামিদ, সহ-সভাপতি মোহাম্মদ কবির, সহ-সভাপতি মোবারক হোসাইন, নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সোহেল প্রমুখ।

সভায় প্রধান অতিথি আকতার হোসেন বাদল সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বর্তমান কমিটির কাছে প্রত্যাশা করি কাউকে অসম্মান করবেন না। যার যতটুকু প্রাপ্য তাকে সেই প্রাপ্যটুকু দেবেন। মনে রাখছেন আল্লাহ পাক মানুষকে সম্মান দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, আমিও চাঁদপুরের বৃত্তি প্রকল্পে সাহায্য করেছি, কিন্তু কোনো হিসাব পাইনি।

সভার শুরুতে বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মনির বলেন, গত কমিটি করার সময়ও ঐ গ্রুপটি বিভক্তি সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। বিভক্তি করেও ছিল কিন্তু পরে ভুল বুঝে তারা ফিরে আসে। আমি সভাপতি প্রার্থী ছিলাম, নির্বাচন কমিশনের কেউ আমাকে ফোন পর্যন্ত করেনি।

বিদায়ী মাওলানা ফখরুল ইসলাম মাছুম বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আমি এই সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। সাবেক ষভাপতি হারুণ ভূইয়া এবং বাবুল চৌধুরী আমাকে নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেই থেকে আজ পর্যন্ত আমি রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আছি। এ সংগঠনের সদস্য ছিলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, দুই টার্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম, দুই টার্ম সাভাপতি ছিলাম। আমরা নির্বাচনের পূর্বে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন করি। সভাপতি পদে ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনার তার ইচ্ছামতো বাইরে থেকে একজন হায়ার করে এনে সভাপতি ঘোষণা করেন। অন্য সভাপতি প্রার্থীরা তার প্রতিবাদ করেন কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশন তা শোনেননি। অচলাবস্থার সৃষ্টি হলেও তিনি নির্বাচন না করে তার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। দুই মিটিং এ তিনি তাই করেন। তিনি সম্পূর্ণভাবে আমাদের উপেক্ষা করেন এবং আমাদের অনেককেই সেই কমিটিতে রাখা হয়নি। মাওলানা মাসুম আরো বলেন, আমরা যে কমিটি করেছি সেই কমিটিতে বিদায়ী কমিটির ৩০ জন সদস্য রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, আমাদের সংগঠন হচ্ছে বৈধ সংগঠন। আমাদের সংগঠনই পুরানো সংগঠন, তাদের সংগঠন নতুন সংগঠন।

নতুন সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, আমরা সবাইকে সম্মান করি। তার অর্থ এই নয় যে আমাদের উপর কমিটি চাপিয়ে দেয়া হবে। আমি ২০ বছর ধরে এই সংগঠনের সঙ্গে আছি। আমরা দেখছি নির্বাচনের সময় একটি অশুভ শক্তি উদয় হয়, সেই কমিটিই আমাদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, যারা ভুল বুঝে চলে গিয়েছে, আশা করি তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন, আমরা তাদের গ্রহণ করে নিবো।

নতুন সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সোহেল নির্বাচনে অনিয়মের কথা তুলে ধরে বলেন, অন্যায়ের কারণে আমি পদত্যাগ করেছি। যিনি সভাপতি প্রার্থী ছিলেন না, তাকে কেন সভাপতি করা হলো? আমি একজন যোগ্য সভাপতি চেয়েছিলাম। কিন্তু সেটা পাইনি, তাই পদত্যাগ করেছি। সাবেক সভাপতি আমিন খান জাকির বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ ছিল নির্বাচন করা, কমিটি করা নয়। মাহবুব-সেহেলের নেতৃত্বাধীন কমিটিই বৈধ কমিটি।

দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার আগে সংগঠনের উপদেষ্টা ও পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেন, দুই বছর আগেও নতুন কমিচি গঠনের সময় এ ধরনেন সমস্যা হয়েছিল। সেসময় আমি এবং সংগঠনের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা শর্তসাপেক্ষ সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রাখার একটি সমাধান খুঁজে পেয়েছিলাম। শর্ত ছিল মাওলানা মাসুম ও নুরে আলম মনিরের নেতৃত্বাধীন কমিটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে নিউ ইয়র্কে বসবাসরত চাঁদপুরবাসীকে আনুষ্ঠািনিকভাবে সংগঠনের সদস্যপদ প্রদান করে ভোটার তালিকাভুক্ত করবে এবং সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে সংগঠনের কার্যকরী কমিটি নির্বাচিত হবে। কিন্তু মাওলানা মাসুম ও নুরে আলম মনিরের কমিটি সে ব্যাপারে কোন পদক্ষপই নেয়নি বরং পুরনো প্রক্রিয়ায় কমিটি গঠনের দিকে অগ্রসর হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা মাসুম ও নুরে আলম মনির উভয়ে আমাকে জানান চাঁদপুরবাসী সংগঠনের সদস্য বা ভোটার হতে চায়না। আমার প্রশ্ন – যে সংগঠনের কেউ সদস্য বা ভোটার হতে চায়না, সে সংগঠনের ৬০/৭০ সদস্যের কার্যকরী কমিটি কিভাবে গঠিত হয়? গুটি কয়েক মানুষের পছন্দ বা ইচ্ছা অনিচ্ছার উপর একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন আর পরিচালিত হতে পারেনা, ভাঙ্গণ অনিবার্য। এবার তাই হয়েছে। তবে আমি মনে করি এখনো সময় আছে, নিউ ইয়র্কে বসবাসরত চাঁদপুরবাসীকে সংগঠনের সদস্যভুক্ত ও ভোটার করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি নির্বাচনে মাধ্যমে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ রেখে কমিউনিটিতে চাঁদপুরবাসীর মানমর্যাদা অক্ষুন্ন রাখা সম্ভব।

পরবর্তীতে আরো কয়েকজন বক্তা একটি অ্যাডহক কমিটি করে সদস্য করে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি নির্বাচিত করার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।