চিটাগং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনকের আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে ব্রুকলিনের ডিস্ট্রিক্ট ৩৯ থেকে পরপর দুইবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত কাউন্সিলর, চট্টগ্রামের মাটির সন্তান, বাংলাদেশের গৌরব, নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সর্বপ্রথম বাংলাদেশী মুসলিম কাউন্সিলর শাহানা হানিফ এর সংবর্ধনা এবং সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার,২৩শে নভেম্বর রবিবার ব্রুকলিনস্থ “চট্টগ্রাম ভবন”এ এই জমকালো অনুষ্ঠানটি বিপুল সংখ্যক চট্টগ্রামবাসী এবং অন্যান্য জেলার অধিবাসীদের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
চিটাগং এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনকের সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

পবিত্র কোরান থেকে পাঠ করেন মোহাম্মদ ঈসা এবং গীতা পাঠ করেন পল্লব রায়। এরপর বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে।
চট্টগ্রাম সমিতির কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ সোসাইটির একটি প্রতিনিধিদল কাউন্সিলর শাহানা হানিফ কে ফুল দিয়ে বরন নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি তানিম। তানিম নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট এবং বর্তমানে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অপেক্ষমান।
অনুষ্ঠানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জনাব আব্দুর রহিম, দুই মেয়াদের জন্য নির্বাচিত সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান এবং শাহানা হানিফের এর গর্বিত পিতা জনাব

মোহাম্মদ হানিফ, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সোসাইটির ট্রাস্টি বোর্ডের বর্তমান সদস্য কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা কোষাধক্ষ, ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক কো-চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সফল ব্যবসায়ী শামসুল আলম, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক ওমিরেরসরাই এর কৃতি সন্তান জনাব মুনির আহমেদ, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ রিজভী চৌধুরী এবং মোহাম্মদ সেলিম, সন্দ্বীপ সোসাইটির দুইবারের নির্বাচিত সভাপতি ফিরোজ আহমেদ ,চার্চ- ম্যাকডোনাল্ড বিজনেস এসোসিয়েশনের অন্যতম নেতা, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক জনাব লুৎফর রহমান, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, লায়ন আহসান হাবিব, আবদুল কাদের মিয়া

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সমাজ সেবক জনাব আব্দুল কাদের মিয়া, চট্টগ্রাম সমিতির বর্তমান নির্বাচন কমিশনার রুহুল আমিন হোসেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আবু তালেব চৌধুরী চান্দু , সাবেক নির্বাচন কমিশনার মিজানুর রহমান জাহাঙ্গীর, ডেমোক্রেটিক পার্টির অন্যতম নেতা ও চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক উপদেষ্টা জনাব

খোরশেদ খন্দকার, আজীবন সদস্য এবং অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাবেক সদস্য আবুল কাশেম চট্টলা, বিশিষ্ট সিপিএ ও চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান শ্রাবনী সিং, কার্যকরী কমিটি এবং অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাবেক সদস্য, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ নুরুল আনোয়ার, কার্যকরী কমিটি এবং অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সাবেক সদস্য কামাল হোসেন মিঠু, নারীনেত্রী ফরিদা শিরিন

খান , কার্যকরী কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি সাহাবুদ্দিন চৌধুরী লিটন , বর্তমান কার্যকরী কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মাস্টার কলিমুল্লাহ, সহকারী অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ইমরুল কায়সার, জেড আই রাসেল প্রমুখ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংবর্ধিত কাউন্সিলওমেন শাহানা হানিফ সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দুই মেয়াদে তাঁকে নির্বাচিত করার জন্য। তিনি বলেন- তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের পাশাপাশি সমগ্র চট্টগ্রামবাসী এবং বাংলাদেশিরা তাঁর বিজয়ে অনন্য ভূমিকা রেখেছেন। নানাবিধ ষড়যন্ত্র ছিল তাঁকে পরাজিত করার জন্য যা কিনা সফল হয়নি।
লম্বা সময় ধরে অধিকার বঞ্চিতদের জন্য লড়াই করার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন – প্যালেস্টাইনে গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে গিয়ে তিনি গ্রেফতার বরণেও পিছপা হননি। ভবিষ্যতেও অধিকার এবং সঠিক মতপথে থাকতে তিনি অবিচল থাকবেন। শাহানা হানিফ তার বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেন- ইমিগ্র্যান্ট এবং পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠীর জন্য তাঁর অফিস নানাধরণের প্রকল্প বাস্তবায়ন করছেন, বিশেষ করে ইমিগ্র্যাশন বিষয়ক সহায়তা ইউনিটটি ব্যাপক সাফল্যের মুখ দেখেছে। স্বল্পমূল্যে আবাসন এবং ভাড়াটেদের অধিকার সংরক্ষণে তার অব্যাহত সমর্থনের কথাও তিনি ব্যক্ত করেন। বক্তব্যের নানা অংশে তিনি তাঁর শৈশব কৈশোরে বেড়ে উঠার সময়গুলোতে চট্টগ্রাম সমিতির নানা স্মৃতিচারণ করেন।

কাউন্সিলওমেন শাহানা হানিফকে চট্টগ্রাম সমিতির ” অনারারি লাইফ মেম্বার” এর সনদ তুলে দেন কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ। এর পাশাপাশি একটি সম্মাননা ক্রেস্ট শাহানা হানিফ এর হাতে তুলে দেন সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে
পুরো অনুষ্ঠানটি সুচারুভাবে পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
অভ্যাগতদের সকলকে সুস্বাদু ডিনার দিয়ে আপ্যায়ণ করা হয়। –