যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ নভেম্বর (ডে লাইট সেভিংস টাইম) বানদিবালোক সাশ্রয়ী সময় শেষ হলে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হবে। তবে সময় পরিবর্তনের এই নিয়ম স্থায়ীভাবে বদলাতে এ বছর কংগ্রেসে তিন ধরনের প্রস্তাব উঠেছিল। সারা বছর দিবালোক সাশ্রয়ী সময় চালু রাখা, সারা বছর মানসম্মত সময় বজায় রাখা এবং বছরে দুইবার ঘড়ি না বদলে ৩০ মিনিটের ব্যবধান স্থায়ী করার প্রস্তাবগুলোর কোনোটিই এখনো আইনে পরিণত করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নেক্সস্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবগুলো কংগ্রেসের বিভিন্ন পর্যায়ে আটকে রয়েছে। ফলে আপাতত প্রচলিত নিয়মেই সময় পরিবর্তন করতে হবে। আগামী ১ নভেম্বর রবিবার ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার পর সকালে সূর্যোদয় ও বিকেলে সূর্যাস্ত তুলনামূলক আগে হবে।
১. সারা বছর দিবালোক সাশ্রয়ী সময়
কংগ্রেস উত্থাপিত ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে একটি বিলের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে সারা বছর দিবালোক সাশ্রয়ী সময় চালু রাখা। বিলটি হাউস অব রিপ্রজেন্টেটিভেস বা প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেটে কোনো অগ্রগতি হয়নি। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
বিলটি আইনে পরিণত হলে নভেম্বরে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন হতো না। তবে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা রিপাবলিকান জন থুনের বক্তব্য অনুযায়ী, বিলটি পাসের জন্য এখনো স্পষ্ট কোনো পথ তৈরি হয়নি। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সিনেটের অধিবেশন না বসার কথা থাকায় এ বছর প্রস্তাবটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাও সীমিত।
হাওয়াই এবং অ্যারিজোনার অধিকাংশ এলাকায় আগে থেকেই সারা বছর মানসম্মত সময় অনুসরণ করা হয়। ফলে সেখানে বছরে দুইবার ঘড়ির কাঁটা পরিবর্তনের নিয়ম কার্যকর নয়।
২. সারা বছর মানসম্মত সময়
দ্বিতীয় প্রস্তাবে শীতকালে প্রচলিত মানসম্মত সময় সারা বছর বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে। জুলাইয়ে প্রতিনিধি পরিষদে ‘সানশাইন ফর আওয়ার কিডস অ্যাক্ট’ নামে দ্বিদলীয় একটি বিল উত্থাপন করা হয়। এতে দেশজুড়ে সারা বছর মানসম্মত সময় চালুর পাশাপাশি কংগ্রেসের অনুমোদন সাপেক্ষে অঙ্গরাজ্যগুলোকে স্থায়ী দিবালোক সাশ্রয়ী সময় বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।
এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে মার্চে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নিতে হতো না। শীতকালে সময়ের ধরন বর্তমান ব্যবস্থার মতো থাকত। তবে বসন্ত, গ্রীষ্ম ও শরতের শুরুর দিকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত বর্তমান দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের তুলনায় এক ঘণ্টা আগে ঘটত।
বিলটি প্রতিনিধি পরিষদের জ্বালানি ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত সেখানে প্রস্তাবটির আর অগ্রগতি হয়নি।
৩. স্থায়ীভাবে ৩০ মিনিটের সময়ের ব্যবধান
তৃতীয় প্রস্তাবটি অন্য দুটির তুলনায় আলাদা। ফেব্রুয়ারিতে প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত ‘ডে-লাইট অ্যাক্ট অব ২০২৬’ বিলে স্থায়ীভাবে ৩০ মিনিটের সময়ের ব্যবধান চালুর কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবটি কার্যকর হলে নভেম্বরে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টার পরিবর্তে ৩০ মিনিট পিছিয়ে দিতে হতো। মার্চে আবার এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়ার বদলে ৩০ মিনিট এগিয়ে নেওয়া হতো। এরপর বছরে দুইবার সময় পরিবর্তনের প্রথা বন্ধ হয়ে যেত।
তবে ৩০ মিনিটের পরিবর্তনও দৈনন্দিন জীবন ও বিভিন্ন খাতে প্রভাব ফেলতে পারত। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় বদলানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসা, বিমান চলাচল এবং কানাডা সীমান্ত পারাপারের সময়সূচিও সমন্বয় করতে হতো।
এই বিলটিও প্রতিনিধি পরিষদের জ্বালানি ও বাণিজ্যবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
স্টেটগুলির জন্যও প্রস্তাব
এ ছাড়া কংগ্রেসে আরও দুটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যেগুলোর লক্ষ্য স্টেটগুলিকে সারা বছর দিবালোক সাশ্রয়ী সময় চালুর সুযোগ দেওয়া। প্রায় ২০টি স্টেট এ ধরনের পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে ওই বিল দুটিও সংশ্লিষ্ট কমিটির পর্যায় অতিক্রম করতে পারেনি।
সময় পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কের পেছনে রয়েছে দিনের আলো ব্যবহারের সুবিধা, শিশুদের সকালে স্কুলে যাওয়া, কর্মঘণ্টা এবং বিভিন্ন খাতের সময়সূচি নিয়ে মতভেদ। সারা বছর দিবালোক সাশ্রয়ী সময় রাখলে শীতকালে সকালে আলো পেতে দেরি হতে পারে। অন্যদিকে সারা বছর মানসম্মত সময় বজায় রাখলে গ্রীষ্মের সন্ধ্যায় দিনের আলো তুলনামূলক দ্রুত কমে আসবে।
কংগ্রেসে প্রস্তাবগুলোর কোনোটি পাস না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে আপাতত প্রচলিত নিয়মই বহাল থাকছে। আগামী ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দিতে হবে। স্থায়ী পরিবর্তন কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন।








