ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত নিউ ইয়র্ক সিটির ওজোন পার্কের বাসিন্দা আমেরিকান সেনাসদস্য সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারা র্যাম্পারসাডের শেষকৃত্যে উপস্থিত থাকলেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাননি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। বক্তব্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকলেও অনুষ্ঠানজুড়ে তার নাম আর ঘোষণা করা হয়নি।
গত ৩১ জুলাই শুক্রবার নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সের ওজোন পার্কের ক্যালভারি অ্যাসেম্বলি অব গড গির্জায় র্যাম্পারসাডের শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্ট ডোনোভান রিচার্ডসসহ আরও কয়েকজন বক্তব্য দেন। তবে উপস্থিত থাকলেও মামদানিকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য ডাকা হয়নি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, মামদানি নিজের প্রস্তুত করা বক্তব্য একটি ট্যাবলেটে দেখছিলেন এবং বক্তব্য দেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। একে একে অন্যদের নাম ঘোষণা হলেও তার নাম আর ডাকা হয়নি। পরে তিনি ট্যাবলেট গুটিয়ে রেখে দেন।
শেষকৃত্যের আয়োজনে যুক্ত একটি সূত্রের দাবি, র্যাম্পারসাডের পরিবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থক হওয়ায় তারা মামদানিকে বক্তব্য দিতে চাননি। আরেকটি সূত্রের ভাষ্য, পরিবারের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
২৮ বছর বয়সী সার্জেন্ট অ্যাঞ্জেল সারা র্যাম্পারসাড গত ১৭ জুলাই জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত তিন মার্কিন সেনাসদস্যের একজন ছিলেন। নিউইয়র্কের ওজোন পার্কে বেড়ে ওঠা র্যাম্পারসাড জন জে কলেজ অব ক্রিমিনাল জাস্টিস থেকে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না পেলেও শেষকৃত্যের জন্য প্রস্তুত করা নিজের বক্তব্য পরে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করে মামদানির কার্যালয়। সেখানে তিনি র্যাম্পারসাডের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি নিজের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দিয়ে অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন এবং দেশের প্রতি তার এই আত্মত্যাগ কখনো ভোলা যাবে না।
শেষকৃত্যে শত শত স্বজন, প্রতিবেশী, সহকর্মী সেনাসদস্য ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশের সদস্যরা র্যাম্পারসাডের কফিন শববাহী গাড়িতে তোলেন। পরে দীর্ঘ শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার মরদেহ লং আইল্যান্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তাকে সমাহিত করা হয়।















