যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ীর ঋণের উপর ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট টানা ছয় সপ্তাহ পর সামান্য কমেছে। ঋণ প্রদানকারী সংস্থা ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে গড় মর্টগেজ রেট দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে, যা আগের সপ্তাহের ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ থেকে মাত্র ২ বেসিস পয়েন্ট কম। তবে এই সামান্য পতনকে এখনই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
মর্টগেজ রেট কমলেও বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের ওপর চাপ পুরোপুরি কাটেনি।
এক বছর আগে একই সময়ে ৩০ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেট ছিল ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ বর্তমান হার এখনও গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি। ১৫ বছরের ফিক্সড মর্টগেজ রেটও এ সপ্তাহে ৬ দশমিক ০১ শতাংশ থেকে কমে ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের সাম্প্রতিক চিত্রও মিশ্র। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে আগে থেকে তৈরি ও মালিকানাধীন বাড়ি বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে বার্ষিক হিসাবে ৪ দশমিক ০৬ মিলিয়নে নেমেছে। তবে এক বছর আগের তুলনায় বাড়ি বিক্রি ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দামেও বড় ধরনের স্বস্তি আসেনি। জুলাইয়ে বিদ্যমান বাড়ির মিডিয়ান বা মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ২ শতাংশ বেশি।
একই সময়ে বিক্রির জন্য বাজারে থাকা বাড়ির সংখ্যা ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৪০ হাজার, যা প্রায় ৪ দশমিক ৬ মাসের সরবরাহের সমান।
বিশেষ করে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাদের জন্য সাশ্রয়যোগ্যতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ে মোট বিদ্যমান বাড়ি বিক্রির মাত্র ২৯ শতাংশ ছিল প্রথমবারের ক্রেতাদের। জুনে এই হার ছিল ৩৩ শতাংশ।
ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটর্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ লরেন্স ইউন মনে করেন, গত কয়েক মাসের তুলনামূলক বেশি মর্টগেজ রেটের মধ্যেও বাড়ি বিক্রি মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে গড় মর্টগেজ রেট প্রায় ৬ শতাংশের কাছাকাছি নেমে এলে আবাসন বাজারে আরও শক্তিশালী কার্যক্রম দেখা যেতে পারে।
ফলে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশে নেমে আসা মর্টগেজ রেট বাড়ি ক্রেতাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবর হলেও, আবাসন বাজারে বড় ধরনের গতি ফেরার জন্য আরও উল্লেখযোগ্য হারে মর্টগেজ রেট কমা, বাড়ির দাম ও মাসিক আবাসন ব্যয়ের চাপ কমা এবং ক্রেতাদের সাশ্রয়যোগ্যতা বাড়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।














