যুক্তরাষ্ট্রেরবোর্ড অফ ইমিগ্রেশন অ্যাপিলস বা বিআইএ (BIA)-এর একটি নতুন নির্দেশনার ফলে, ১৮০ দিনের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করা অভিবাসীদের জন্য ‘অ্যাডভান্স প্যারোল’ (advance parole)-এর আওতায় ভ্রমণ করা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে; কারণ এর ফলে পুনরায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে, যা তাদের গ্রিন কার্ড পাওয়ার যোগ্যতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
গত ১৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ঘোষিত একটি নতুন আদেশের ফলে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা ‘গ্রিন কার্ড’ পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসীর পথ এখন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের (DOJ) আওতাধীন প্রশাসনিক আপিল কর্তৃপক্ষ ‘বোর্ড অফ ইমিগ্রেশন আপিলস’ (BIA) এই মর্মে রায় দিয়েছে যে, ‘অ্যাডভান্স প্যারোল’ (advance parole) নিয়ে দেশের বাইরে ভ্রমণকারী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে তিন বা দশ বছরের জন্য ‘অবৈধ অবস্থানের নিষেধাজ্ঞা’ (unlawful presence bar) প্রযোজ্য হতে পারে— যদি দেশ ছাড়ার আগে তাদের অবৈধ অবস্থানের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হয়ে থাকে। অভিবাসন বিষয়ক আইনি প্রতিষ্ঠান ‘ফ্রাগোমেন’ (Fragomen)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে প্রণীত আইন অনুযায়ী—
অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের পর কোনো বিদেশি নাগরিক দেশ ত্যাগ করলে তাঁদের পুনরায় প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। এর মধ্যে ১৮০ দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত অবৈধ অবস্থানের জন্য তিন বছরের এবং এক বছর বা তার বেশি সময় অবৈধভাবে অবস্থানের জন্য দশ বছরের নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার সময়কালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কিছু কিছু আবেদনকারী ব্যাতিত ভিসা পাওয়া, পুনরায় প্রবেশ কিংবা স্থায়ী বসবাসের জন্য অভিবাসন মর্যাদা পরিবর্তনের (adjustment of status) অযোগ্য বলে বিবেচিত হন।
‘ম্যাটার অফ ডেলকারমেন-লারা, ২৯ আইঅ্যান্ডএন ডেস. ৮৩০’ (Matter of Delcarmen-Lara, 29 I&N Dec. 830) মামলার ১৩ই আগস্টের সিদ্ধান্তটি ২০১২ সালের বিআইএ (BIA)-র একটি পূর্ববর্তী মামলার (‘ম্যাটার অফ আরাবাল্লি অ্যান্ড ইয়েরাবেল্লি’ বা Matter of Arrabally and Yerrabelly) রায়কে উল্টে দিয়েছে;
ওই পূর্ববর্তী রায়ে বলা হয়েছিল যে, ‘অ্যাডভান্স প্যারোল’ (advance parole)-এর আওতায় বিদেশে ভ্রমণ করলে তা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ হিসেবে গণ্য হবে না এবং এর ফলে ‘অবৈধভাবে অবস্থানের কারণে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা’ পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করবে না।
দীর্ঘদিনের একটি সিদ্ধান্তের এই আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে, যেসব বিদেশি নাগরিক ১৮০ দিনের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করেছেন, তারা এখন আর ‘অ্যাডভান্স প্যারোল’ (advance parole) নিয়ে বিদেশে ভ্রমণ করতে পারবেন না; কারণ তা করলে তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বা ‘ব্যান’ (ban) আরোপিত হবে।
‘অ্যাডভান্স প্যারোল’ হলো ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) কর্তৃক ইস্যুকৃত একটি বিশেষ ট্রাভেল পারমিট বা ভ্রমণ নথি, যা নির্দিষ্ট যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অ-নাগরিককে সাময়িকভাবে দেশ ত্যাগ ও বৈধভাবে ফিরে আসার অনুমতি দেয়। এটি গ্রিন কার্ড, স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্টমেন্ট (স্থায়ী মর্যাদার পরিবর্তন) এবং আশ্রয়ের মতো স্থায়ী অভিবাসন মর্যাদার জন্য করা আবেদনগুলোকে বিদেশে ভ্রমণের কারণে ‘পরিত্যাক্ত’ (abandoned) হিসেবে গণ্য হওয়া থেকে রক্ষা করে।
বিআইএ (BIA) জানিয়েছে যে, এই বড় পরিবর্তনটি কেবল ‘ভবিষ্যৎ প্রভাবসহ’ (prospectively) কার্যকর হবে। এর অর্থ হলো, এই রায়টি কেবল সিদ্ধান্তের তারিখের পরে দায়ের করা মামলাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে;
কারণ বিদেশি নাগরিক এবং আইনি পেশাজীবীরা দীর্ঘকাল ধরে আগের নিয়মটির ওপরই নির্ভর করে আসছিলেন। এখন থেকে, অ্যাডভান্স প্যারোল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ভ্রমণকে ‘দেশ ত্যাগ’ (departure) হিসেবে গণ্য করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন-বিরোধী কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য সর্বশেষ এই বিপত্তিটি দেখা দিয়েছে; এই কঠোর নীতির আওতায় এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ অভিবাসীরাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতি ও সুদানের নাগরিকদের জন্য বিদ্যমান সুরক্ষা ব্যবস্থা টিপিএস বাতিল করার সুযোগ পেয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ সুদানের শত শত নাগরিকের ‘টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা ‘অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা’ (টিপিএস) শেষ হতে চলেছে; কারণ, অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই বিশেষ মর্যাদা বহাল রাখার যে প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তা একজন ডিস্ট্রিক্ট জজ খারিজ করে দিয়েছেন।
এই পরিবর্তনের বিষয়ে ইউএসসিআইএস (USCIS)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার নিউজউইক-কে বলেছেন যে, এই রায়টি একটি “সহজ ও স্পষ্ট নীতির” সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ—আর তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করার একটি বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
কংগ্রেসের প্রণীত অভিবাসন আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি অবৈধভাবে অবস্থানের সময়সীমা অতিক্রম করার পর দেশ ত্যাগ করেন এবং পরবর্তীতে পুনরায় প্রবেশের আবেদন জানান—এমনকি ‘অ্যাডভান্স প্যারোল’-এর আওতায় দেশ ত্যাগের ক্ষেত্রেও—তবে তাকে এর পরিণাম ভোগ করতে হয়,” তিনি নিউজউইক-কে বলেন। “ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (USCIS) নিশ্চিত করবে যে, অভিবাসন সংক্রান্ত আবেদনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিটি মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা এবং বাধ্যতামূলক আইনি নজির বা নজিরমূলক রায়কে বিবেচনায় নেওয়া হবে।”














