অর্ঘ্য সারথি সিকদার: দীর্ঘদিনের নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা, বিশিষ্ট চিকিৎসক, নিউইয়র্কে বাংলা সুস্থ সংস্কৃতি ধারার নিরন্তর পৃষ্ঠপোষক, নিভৃতচারী নির্ভেজাল ভালো লোক, আনন্দধ্বনি নিউইর্য়ক গঠনে অন্যতম ভূমিকা পালনকারী ডা: ওয়ালিদ চৌধুরী গত ১লা নভেম্বর সোমবার নিউইয়র্কে লং আইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে পরলোকগমন করেন।
গত ১০/১২ বছর তিনি অসুস্থই ছিলেন, সপ্তাহে ৩ দিন ডায়লোসিস নিতে হতো। ৪/৫ মাস আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে নর্থ শোর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ।
প্রবাসে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ধরে রাখার জন্য প্রবাসে দুই প্রবাদপ্রতীম ব্যাক্তিত্ব ( কবি শহীদ কাদরী ও ডা: ওয়ালিদ চৌধুরী ) নিউইয়র্কে আনন্দধ্বনি গঠনে প্রধান উৎসাহ যুগিয়েছিলেন। তাঁদের প্রেরণাতেই আমরা আনন্দধ্বনি গঠন করেছিলাম। মনে আছে উডসাইডে দেবাশীষ দেবনাথের অফিসে আনন্দধ্বনির রিহারসেল হতো, প্রতিটি রিহারসেলে (বৃস্টি-ঝড় ও বরফের মধ্যেও ) ওয়ালিদ ভাই ও ভাবী এসে রিহারসেলে বসে থাকতেন এবং আমাদের উৎসাহ দিতেন । মূলত: আনন্দধ্বনির অনুষ্ঠানের ধরনটা তিনি খুব পছন্দ করতেন । ৬/৭ বছর আগে অসুস্থ থাকা অবস্থায় তাঁর বাসায় আনন্দধ্বনির শিল্পীরা গান শুনিয়ে এসেছিল, তিনি শুনতে চেয়েছিলেন বলে । মনে আছে আনন্দধ্বনির প্রথম অনুষ্ঠানের প্রথম অনুদানটি ওয়ালিদ ভাই আনন্দধ্বনির রনি বড়ুয়ার হাতে বলেছিলেন ‘ এবার শুরু করেন …’
আমাকে মাঝে মাঝে বলতেন, এই শিল্পীর একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করেন, অনেকটা অধিকার নিয়েই বলতন। আমাকে হয়তো একটু বেশীই স্নেহই করতেন, কারণ আমার বাবা ও তিনি একই মেডিক্যালের (ঢাকা মেডিকেল) ছাত্র ছিলেন এবং একই রাজনৈতিক আদর্শের ( বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ) অনুসারী ছিলেন।
আমি শুনেছি, বাংলাদেশের সুস্থ ধারার বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, লাইসা আহমদ লিসা, অদিতি মহসিন প্রমুখ এবং ভারতের বিখ্যাত শিল্পীদের ( ক্লাসিক্যাল ও বাংলা গান) নিউইয়র্কে নিয়ে এসে হোটেলে হল রুম ভাড়া করে প্রবাসীদের গান শোনানোর ব্যবস্থা করতেন ডা: ওয়ালিদ চৌধুরী । তাছাড়া অসুস্থতার মাঝেও ঢাকা আনন্দধ্বনির শিল্পীদের ( বুলবুল ইসলাম, শারমিন সাথী ইসলাম ময়না, পার্থ সারথী সিকদার, ইলোরা আহমেদ শুক্লা প্রমুখ, এঁদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন, কারণ একটাই গান তিনি ভীষণ পছন্দ করতেন। তিনি ছায়ানট ও ঢাকার আনন্দধ্বনিকেও অত্যন্ত ভালোবাসতেন।