২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

“মনে হয় না কেউ হারাতে পারবে’: জনসমর্থন নিয়ে জরিপের ফলকে ‘ভুয়া’ বললেন ট্রাম্প, প্রকৃত সমর্থন ৬০% দাবি

“মনে হয় না কেউ হারাতে পারবে’: জনসমর্থন নিয়ে জরিপের ফলকে ‘ভুয়া’ বললেন ট্রাম্প, প্রকৃত সমর্থন ৬০% দাবি

আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নিজের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া জনমত জরিপগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এসব জরিপের বদলে তার প্রতি জনসমর্থন ৬০ শতাংশের কাছাকাছি বলে দাবি করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দ্য ওয়াশিংটন এক্সামিনার-এর বাইরন ইয়র্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জনমত জরিপের পরিসংখ্যানকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেন। সাক্ষাৎকারে রিয়েলক্লিয়ারপলিটিকস-এর জরিপগুলোর গড় ফলাফল তুলে ধরে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়: এতে দেখা যাচ্ছে, ৩৮ দশমিক ৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট, আর ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ অসন্তুষ্ট।

জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘এটা ভুয়া।’

নিজের প্রকৃত জনসমর্থন কত বলে মনে করেন—ইয়র্কের এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জরিপের ফল প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেন, তার সমর্থন এর চেয়ে অনেক বেশি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, ‘তারা বলছে, আমার কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্টির হার ৩৭ বা ৩৮ শতাংশ?’ এরপর তিনি বলেন, ‘আমি ৩৮ শতাংশে নেই।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় না, কেউ আমাকে হারাতে পারবে। আমার মনে হয়, যদি আমার প্রয়োজন হতো, যদিও তা নেই, তাহলে আমার সমর্থন ৬০ শতাংশ হতো।’ নিজের উচ্চ জনসমর্থনের প্রমাণ হিসেবে ট্রাম্প রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার শক্ত অবস্থান এবং ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থকদের কথা তুলে ধরেন। তবে জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপগুলোতে ধারাবাহিকভাবে তার প্রতি তুলনামূলক কম জনসমর্থনের চিত্র উঠে এসেছে।

১৬ থেকে ১৯ অক্টোবর পরিচালিত রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট ৩৪ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক, আর অসন্তুষ্ট ৬৫ শতাংশ। অন্যদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান নাগরিক। অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন ৬৮ শতাংশ।

এ সপ্তাহে প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের আরেক জরিপে ট্রাম্পের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্টির হার পাওয়া গেছে ৩৪ শতাংশ। সংবাদপত্রটি জানিয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন এতটা কমে যাওয়ার নজির সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ১৯৪৬ সালে, যখন হ্যারি ট্রুম্যানের প্রতি সমর্থন ছিল ৩৩ শতাংশ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনমত জরিপের পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যানের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নিউইয়র্ক টাইমস ও জরিপ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ওয়েজউড রিসার্চকে ঘিরে বিতর্ক চলছে। সামাজিক পরীক্ষা চালানোর অংশ হিসেবে মনগড়া জরিপের ফল তৈরি করার কথা স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কর্মদক্ষতা নিয়ে নিজেদের জনমত জরিপের গড় হিসাব করার সময় বিতর্কিত ওই জরিপগুলো ব্যবহার করা হয়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

নিজের জনপ্রিয়তার দাবির পক্ষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সিএনএনের প্রধান তথ্য বিশ্লেষক হ্যারি এনটেনের একটি বিশ্লেষণের কথা তুলে ধরেন। ওই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ‘মাগা’ (মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) সমর্থক রিপাবলিকানদের মধ্যে ট্রাম্পের সমর্থন প্রায় ১০০ শতাংশের কাছাকাছি রয়েছে। এনটেন জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘মাগা’ সমর্থক রিপাবলিকানদের ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। গত সেপ্টেম্বরে এই গোষ্ঠীর মধ্যে তার প্রতি সমর্থনের হার ছিল ৯৮ শতাংশ।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখন আমার সমর্থন ৬০ শতাংশের ঘরে থাকবে। রিপাবলিকান পার্টিতে আমার সমর্থন অনেক বেশি। তাকে ৯৯ শতাংশের হিসাবটা দেখান। এটা কি দেখেছেন?’

তবে এনটেনের বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টির হারের ব্যবধান ২০২৪ সালে যেখানে তার পক্ষে ৮ পয়েন্ট ছিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তা কমে নেগেটিভ বা ঋণাত্মক ৪৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

এ সপ্তাহে রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার ৩১ শতাংশে নেমে আসার পর এনটেন প্রেসিডেন্টের জনসমর্থনের পরিস্থিতিকে ‘ট্রাম্পের জন্য পাঁচ মাত্রার ভয়াবহ বিপর্যয়’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্পের দুই মেয়াদের মধ্যে এটিই তার সর্বনিম্ন জনসমর্থনের রেকর্ড।

এমন প্রতিকূল পরিসংখ্যান সত্ত্বেও রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে তার সমর্থন প্রতিফলিত করা জরিপের জন্য এনটেন ও সিএনএনের প্রশংসা করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাকে নিয়ে তারা বেশ কিছু ভালো জরিপ করেছে, এটা বলতেই হবে। সিএনএন যদি এ ধরনের জরিপ চালিয়ে যায়, তাহলে তাদের আরও বেশি পছন্দ করব।’ – সংবাদ সুত্র দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট