৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কার্যকরী কমিটি গঠন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন Screenshot

অবশেষে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে গেছে নানা বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও ঐক্যবদ্ধ থাকার ঐতিহ্যের ধারক প্রবাসের অন্যতম বড় আঞ্চলিক ও সামাজিক সংগঠন রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন নিউইয়র্ক। ইতোমধ্যে ঘোষিত হয়েছে পাল্টাপাল্টি দুইজন সভাপতি ও সাথধারণ সম্পাদকের নাম। এর মধ্যে ০৩ নভেম্বর গঠিত প্রথম নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সভাপতি হয়েছেন রাজু সাহা বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল গাজী এবং ২২ ডিসেম্বর গঠিত দ্বিতীয় নির্বাচন কমিশন ঘোষিত সভাপতি হয়েছেন মাহবুবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সোহেল।

গত ০৩ নভেম্বর বিদায়ী কার্যকরী কমিটির সভায় গঠিত নির্বাচন কমিশন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রথমে ঘোষণা করেন বিদায়ী কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাজু সাহা বিপ্লব ও হাসান মাহমুদ সোহেলের নাম। দিনকয়েক পরে হাসান মাহমুদ সোহেল সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিলে সোহেল গাজীকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। বিদায়ী কার্যকরী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম মনিরসহ আরো কয়েকজন সভাপতি পদে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক রাজু সাহা বিপ্লব এর মনোনয়নের বিরোধীতা করে সামাজিক মাধ্যমে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার পর সংগঠনে ভাঙ্গনের সুর স্পষ্ট হয়ে ওঠে। হারুন ভুঁইয়ার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সমঝোতার প্রয়াসে চেষ্টা চালালেও কোন সমঝোতা হয়নি।

এবিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুন ভুইয়া প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাংগঠনিক অবকাঠামো হিসেবে প্রতি দুই বছর অন্তর অন্তর কার্যকরীকমিটি গঠিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের কার্যকরী কমিটির এক জরুরি সভায় অধিকাংশ সদস্যদের ভোটের মাধ্যম হারুন ভূইয়াকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং মামুন মিয়াজি ও মোবারক হোসেনকে নিয়ে মোট তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করাহয়।

নির্বাচন কমিশনতার সাংবিধানিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য গত ১৭ই নভেম্বর ২০২৫ নমিনেশন ফরম সংগ্রহের দিন ধার্য করে। ঐদিন সভাপতি সপদে সাতজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে চারজন নমিনেশন ফরমক্রয় করে এবং পরের দিন জমা দেয়।

গত ২৪ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীদের সাথে জরুরী সভা করে এবং সকল প্রার্থীরা একমত পোষণ করে যে, নির্বাচন কমিশন যাকে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করবে সবাই তা একবাক্যে মেনে নিবে। নির্বাচন কমিশন এবং বর্তমান সভাপতিসহ আলাদা মিটিং করে বিপ্লব সাহাকে সভাপতি এবং হাসান মাহমুদ সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করে।

প্রার্থীগনের সম্মুখে এই কমিটি উপস্থাপনের পর নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে অধিকাংশ প্রার্থী আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে। কিন্তু পরক্ষণেই নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজন ভাপতি পদপ্রার্থী তির্যক ভাষায় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে।

নির্বাচন কমিশন গত ৪ ডিসেম্বর সকল কার্যকরী সদস্যদের সমন্বয়ে একটি জরুরি সভা করে এবং তাদের মনোনীত সভাপতি বিপ্লব সাহা এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সোহেলের নাম সকলের সামনে ঘোষণা করে। কিন্তু এখানেও সেই সভাপতি পদপ্রার্থী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবংপ্রধান নির্বাচন কমিশনের দিকে পানির বোতল ছুড়ে মারে। যা রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের গত দুই যুগের সুনাম কে কলঙ্কিত করে। একই দিনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রথমে মনোনীত সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ সোহেল তার নমিনেশন ফরম উইথড্রো করেন এবং পরবর্তীতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা সবাইকে জানিয়ে দেন।

তবে আরেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সোহেল গাজী যেহেতু তার নমিনেশন ফর্ম উইড্র করেননি, রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে নির্বাচন কমিশন সোহেল গাজী-কে রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন এর পরবর্তী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করেন। নির্বাচন কমিশন রুপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে বিপ্লব সাহাকে সভাপতি এবং সোহেল গাজীকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যেনর্ণাঙ্গ কমিটির ঘটনা নির্দেশ দেন।

এরপর গত ২২ ডিসেম্বর সোমবার বিদায়ী সভাপতি মাওলানা ফখরুল ইসলাম মাসুমের সভাপতিত্বে ও বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম মনিরের সঞ্চালনায় সংগঠনের এক জরুরী সভায় কিছু বক্তা অভিযোগ তুলে বলেন, বিগত দিনে যেভাবে কমিটি গঠন করা হতো সেইভাবে কমিটি না করে সংগঠনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিজের ইচ্ছামত একজনকে ডেকে এনে সভাপতি ঘোষণা করেছেন। এতে কার্যকরী কমিটির কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং সংগঠনে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করা হয়েছে বলে মনে করেন।

তুমুল বাকবিতন্ডার কারণে কিছু সদস্যের সভাস্থল ত্যাগ করার পর কার্যকরী পরিষদ হারুন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে গত ৩রা নভেম্বর গঠিত ৩ সদস্যের নির্বাচন কমিশন বাতিল ঘোষণা করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান আক্তার হামিদ, নির্বাচন কমিশন সদস্য -রেজাউর রহমান রাজু এবং মকসুদুর রহমান সেলিম।

এ সময় নির্বাচন কমিশনারগণ উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের প্রস্তাব করলে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে সভাপতি পদে মাহবুবুর রহমান প্রার্থী হন। এই পদে অন্য কোন প্রতিদ্বদ্বী না থাকায় তাঁকে বিনা প্রতিদ্ব›দ্বতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করার প্রার্থীতা আহবান করা হলেএকমাত্র প্রার্থী হন হাসান মাহমুদ সোহেল। অন্য কোন প্রার্থী না থাকায় তাঁকেও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

Screenshot

রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুন ভুঁইয়া প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ সালের কার্যকরী কমিটির সভাপতি পদে সংগঠনের বিদায়ী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজু সাহা বিপ্লব এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হাসান মাহমুদ সোহেলকে নির্বািচত করে পুর্বঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে পরিবর্তন করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক পদে হাসান মাহমুদ সোহেল তাঁর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেয়ায় তাঁর পরিবর্তে কার্যকরী কমিটির সদস্য সোহেল গাজীকে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

৩ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন কমিশন প্ররিত উক্ত বিজ্ঞপ্তিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হারুন ভুঁইয়া ছাড়াও স্বাক্ষর করেন কমিশেনর অপর সদস্য ও সংগঠনের সাবেক সভাপতি মামুন মিয়াজী।

আগামী দিনকয়েকের মধ্যে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশনের নবনির্বািচত সভাপতি রাজু সাহা বিপ্লব ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল গাজী পূর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করবেন।