২রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে সম্মান করলে আর যুদ্ধ হবে না জানিয়ে দিলেন পুতিন

পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে সম্মান করলে আর যুদ্ধ হবে না জানিয়ে দিলেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, পশ্চিমা দেশগুলো যদি রাশিয়াকে সম্মান করে এবং দেশটির নিরাপত্তাগত স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে ইউক্রেন যুদ্ধের পর আর কোনো যুদ্ধের প্রয়োজন হবে না। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠান ‘ডিরেক্ট লাইন’-এ তিনি এই মন্তব্য করেন।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বছরের শেষ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন পুতিন। সেখানে বিবিসির এক সাংবাদিক জানতে চান, ভবিষ্যতে ইউক্রেনের বাইরে অন্য কোথাও রাশিয়া কি আবার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ চালাতে পারে। জবাবে পুতিন বলেন, পারস্পরিক সম্মান বজায় থাকলে এমন অভিযানের আর প্রয়োজন হবে না।

তিনি বলেন, “আপনারা যদি আমাদের সম্মান করেন, তাহলে আর কোনো অভিযান হবে না। আমরা যেমন আপনাদের সম্মান করার চেষ্টা করছি, আপনারাও যদি একইভাবে সম্মান দেখান, তাহলে যুদ্ধের প্রশ্নই ওঠে না।”

এর আগে গত সপ্তাহেও পুতিন দাবি করেন, রাশিয়ার ইউরোপের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে যায়, তাহলে রাশিয়া আত্মরক্ষার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। ন্যাটোর প্রসঙ্গ টেনে পুতিন বলেন, ইউরোপ যদি জোটটির পূর্বাঞ্চলীয় সম্প্রসারণ নিয়ে প্রতারণা না করে, তাহলে সংঘাত এড়ানো সম্ভব। তার ভাষায়, নিরাপত্তা প্রশ্নে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে পুতিন বলেন, তিনি এই সংঘাত ‘শান্তিপূর্ণভাবে’ শেষ করতে প্রস্তুত, তবে কোনো আপসের ইঙ্গিত দেননি। তিনি আবারও দাবি করেন, ইউক্রেনকে অবশ্যই ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা বন্ধ করতে হবে এবং রাশিয়ার দখলে থাকা চারটি অঞ্চল থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি আংশিকভাবে দখল করা দনবাস অঞ্চলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চায় রাশিয়া।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন রুশ প্রেসিডেন্ট। তিনি মূল্যস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং ভ্যাট বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীনই রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার কমিয়ে ১৬ শতাংশে নামানোর ঘোষণা দেয়। ‘ডিরেক্ট লাইন’ অনুষ্ঠানে বিদেশনীতি, অর্থনীতি ও যুদ্ধের পাশাপাশি উঠে আসে মাতৃভূমি, প্রবীণ সেনাদের সম্মান এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন।

পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ইউক্রেনকে ব্যবহার করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে। তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের সঙ্গে সমান মর্যাদা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

রাশিয়া ভবিষ্যতে ন্যাটোর ওপর হামলা চালাতে পারে—পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এমন আশঙ্কার কথা আবারও স্পষ্টভাবে নাকচ করে দেন পুতিন। তথ্যসূত্র : বিবিসি