যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে এক ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ করে শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ার মধ্যদিয়ে প্রত্যয়ে উদযাপিত হলো ‘প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি’র ৫০ বছর পূর্তী অর্থাৎ সুবর্ণ জয়ন্তী। কমিউনিটির উন্নয়ন আর কল্যাণে ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী সোসাইটির সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠান
গত ২ নভেম্বর রোববার বিকেলে নিউইয়র্কের কুইন্সের অভিজাত ব্যাঙ্কুয়েট হল ‘টেরেস অন দ্য পার্ক’-এ আয়োজন করা হয়। উৎসবের দীর্ঘ সাত ঘন্টার অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো আলোচনা সভা, পরিচিত পর্ব, গুণীজনদের সম্মাননা,স্মৃতিচারণ এবং জনপ্রিয় শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে জ্যামাইকায় ৪.৯ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাংলাদেশ ভবন ক্রয়ের চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন করার মাধ্যমে স্বপ্নের প্রকল্পটি সম্পূর্ণ করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়।

Screenshot
তবে অনুষ্ঠান আয়োজনে সোসাইটির কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার ঘটতি না থাকলেও ছিলো অগোছালো- এমন অভিযোগ অনেকেরই। পাশাপাশি অপ্রত্যাশিত ‘হাতাহাতি আর ধাক্কাধাক্কি’র মতো ছোট ঘটনায় ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ অনুষ্ঠানের অর্জনকে ম্লান করে দেয়। অনুষ্ঠানটি উপলক্ষ্যে ‘অগ্রপথিক’ শীর্ষক একটি আকর্ষনীয় ও তথ্যবহুল একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
বিকেলে ‘টেরেস অন দ্য পার্ক’-এ প্রধান গেটের সমানে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে রং বে রং এর বেলুন উড়িয়ে আর ফিতা কেটে বাংলাদেশ সোসাইটি’র ৫০ বছর পূর্তী অর্থাৎ সুবর্ণ জয়ন্তী’ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর ভিতরে মূল মঞ্চে শুরু হয় অনুষ্ঠানমালা। মূল মঞ্চে কাটা হয় ৫০ বর্ষপুর্তির কেক।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, গীতা পাঠ আর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর বা
য়ান্নর ভাষা আন্দোলন ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়াও সংগঠনের প্রয়াত সকল কর্মকর্তার গভীল শ্রদ্ধায় স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। কোরঅঅন থেকে তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী এবং গীতা থেকে পাঠ করেন প্রশান্ত।

Screenshot
অনুষ্ঠানে ‘আমি বাংলায় গান গাই’ গানের সাথে উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করে প্রবাসের অন্যতম জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘নৃত্যাঞ্জলি’র শিল্পীরা।
এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসবের আহবায়ক এবং বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহ সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান। পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্যে ৬ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ও প্রতিষ্ঠানকে ‘সোসাইটির অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন- সমাজ কর্মে বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ‘কোভিড হিরো’ মরহুম কামাল আহমেদ, সাংবাদিকতায় সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ, ক্রীড়ায় সাইদুর রহমান ডন, সংগঠক কাজী আজহারুল হক মিলন, সংস্কৃতিক সংগঠক সেলিমা আশরাফ, শিক্ষা বিস্তারে মোশারফ হোসেন খান চৌধুরী এবং পরোপকারী প্রতিষ্ঠান হিসাবে ‘দ্য অপটিমিস্ট ইনকর্পোরেটেড’-কে সম্মাননা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে মরহুম কামাল আহমেদ-এর অ্যাওয়ার্ড গ্রহণ করেন তার কন্যা রুমানা আহমেদ। সোসাইটির কর্মকর্তারা সংশ্লিস্টদের হাতে এসব অ্যাওয়ার্ড হস্তান্তর করেন।

অনুষ্ঠানে কমিউনিটি সেবায় বিশেষ অবদানের জন্যে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী মেম্বার জেনিফার রাজকুমার বাংলাদেশ সোসাইটি এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাদেরকে বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। এছাড়াও কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিস থেকেও সাইটেশন প্রদান করা হয়।
সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানের নিউইয়র্ক ষ্টেট সিনেটর জন সি ল্যু ও স্টিভেন রাগা, ষ্টেট অ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার সহ অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য রাখেন সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান, সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক সভাপতি ডা.মইনুল ইসলাম মিয়া, সোসাইটি’র বোর্ড অব ট্রাষ্টীর চেয়ারম্যান শাহ এম নেওয়াজ, সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম,সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ সভাপতি ও উদযাপন কমিটির যুগ্ম আহবায়ক কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সম্পাদক ও উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আবুল কালাম ভূইয়া, প্রধান সমন্বয়কারী হারুন উর রশীদ সহ অন্যান্য কর্মকর্তা। এছাড়াও কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টর প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাদেক সহ নতুন প্রজন্মের চারজন প্রতিনিধি বক্তব্য রাখেন।

নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের অনুভূতি ব্যক্ত করার পর্বটি সকলের দৃষ্টি কাড়ে। এদের মধ্যে ছিলেন- হার্ভার্ড-এর গ্র্যাজুয়েট নামিরা মেহেদি এবং ভিক্টর ঘোষ, সেন্ট জোন্স ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যবসা-প্রশাসনে উচ্চতর ডিগ্রি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট হিসেবে গ্র্যাজুয়েশন করা আনিকা জেবা ও শেখ আনাম। এসময় তারা তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে উঠা এবং বাংলাদেশী মা-বাবার ঐতিহ্যবাহী বাঙালী সংস্কৃতি লালন ও বিকাশের কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদেরকে সোসাইটির পক্ষ থেকে সম্মাণনা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রয়াত পুলিশ অফিসার বাংলাদেশী-আমেরিকান দিদারের পরিবারকেও সম্মাণনা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. এম বিল্লাহ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম,সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার প্রমুখ। জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বাদশা বুলবুল, কালা মিয়া ও প্রতীক হাসান, প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী রানো নেওয়াজ, শাহ মাহবুব, অনিক রাজ, কামরুজ্জামান বকুল, হাসান নীলু প্রমুখ। বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর সহযোগিতায় সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রবাসের জনপ্রিয় উপস্থাপিকা শারমিনা সিরাজ সোনিয়া।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তী উৎসব আয়োজনের জন্য বর্তমান কার্যকরী পরিষদের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং সোসাইটির দীর্ঘ পথযাত্রার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বলেন, বাংলাদেশ সোসাইটির আজ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের গর্ব, ঐক্যর প্রতীক। বক্তারা বলেন, সোসাইটি সবসময়ই প্রবাসে বাংলাদেশের শিল্প, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন প্রজন্ম এই ঐতিহ্য ধারণ করে আরো আধুনিক ও কার্যকর বাংলাদেশ সোসাইটি গড়ে তুলবে, যা শুধু প্রবাসে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশী কমিউনিটির মর্যাদা বৃদ্ধি করবে- এমন প্রত্যাশা করে বক্তারা বলেন, এজন্য নতুন প্রজন্মকে আরো বেশী করে সোসাইটিরসাথে সোসাইটির কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত করতে হবে।

সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম তার বক্তব্যে দেশপ্রেমের শক্তিতে বলিয়ান হয়ে ঐক্য আর ভালবাসায় বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবার প্রতি আবাান জানান এবং আগামী প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল ও গর্বিত সোসাইটি গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি সফল করায় তিনি সোসাইটির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা সহ সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সোসাইটির বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান শাহ নেওয়াজ বলেন, অর্ধ শতাব্দীর পথ পেরিয়ে বাংলাদেশ সোসাইটি আজ এমন এক অবস্থানে পৌছেছে, যা আমাদের সকলের গর্ব এবং ভালোবাসার প্রতীক। পঞ্চাশ বছরের এই যাত্রা শুধু একটি সংগঠনের নয়, এটি সকল প্রবাসীর সম্মিলিত সাফল্যের গল্প। তিনি সকল প্রবাসী বাংলাদেশীকে ঐক্যবদ্ধ থেকে সোসাইটিকে আরো শক্তিশালী করার উদাত্ত আহŸান এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ভবন ক্রয়ের চুক্তির কথা জানান।
সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেন, সোসাইটির সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান সংগঠনটিকে শতবর্ষ উদযাপনের ভিত্তি হিসেবে প্রেরণার জুগাবে। সোসাইটি একদিন কমিউনিটির গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশীদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। অনুষ্ঠানটি সফল করায় তিনি তিনিও সংশ্লিস্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উৎসবকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘অগ্রপথিক’ শীর্ষক একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়। এটি সম্পাদনা করেছেন সংগঠনের সাহিত্য সম্পাদক আখতার বাবুল। ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ছিলেন সংগঠনের প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ।
অনুষ্ঠানে জেলা ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট সহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম. এম. শাহীন,সোসাইটির সাবেক সভাপতি আবদুর রব মিয়া, মুজিব-উর রহমান ও নার্গিস আহমেদ, বোর্ড অফ ট্রাষ্টির সদস্য আজিমুর রহমান বুরহান, নাঈম টুটুল, ডা. এনামুল হক, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার,সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, রানা ফেরদৌস চৌধুরী ও রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সাবেক সহসভাপতি সউদ চৌধুরী,ফোবানা’র চেয়ারপারসন, বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ, ফোবানার সাবেক কনভেনর আবু যুবায়ের দারা, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক ও ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এ্যাট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটির আজীবন সদস্য ও মূলধারার রাজনীতিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আকতার হোসেন বাদল, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, বিশিস্ট ব্যবসায়ী আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, খলিল গ্রুপের খলিলুর রহমান, এম্পায়ার কেয়ার এজেন্সির সিইও নুরুল আজিম, মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান মিডোব্রুকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আকিব হোসেন, কার্যকরী কমিটির সাবেক সদস্য ফারহানা চৌধুরী,আবাসন ব্যবসায়ী মোর্শেদা জামান,নবাবগঞ্জ সমিতির সভাপতি উজ্জল বিপুল প্রমুখ। নৈশ ভোজেরর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
বাংলাদেশ সোসাইটির ৫০ বছরপূর্তি উৎসব সফল করতে সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ছাড়াও সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন- সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সহ সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভুইয়া, কোষাধ্যক্ষ মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া রুমি,সাংগঠনিক সম্পাদক ডিউক খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অনিক রাজ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক জামিল আনসারী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক আশ্রাব আলী খান লিটন, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক মোহাম্মদ হাসান জিলানী, কার্যকরী সদস্য যথাক্রমে হারুন অর রশিদ, জাহাঙ্গীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মোহাম্মদ সিদ্দিক পাটোয়ারী, আবুল কাশেম চৌধুরী,মুনসুর আহমদ ও হাছান খান। খবর ইউএনএ’র।