নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সবচেয়ে বৃহৎ সামাজিক সংগঠন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ২৫ অক্টোবর এর নির্ধারিত নির্বাচন স্থগিত করার নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। আদালত এর নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সদস্যপদ বাতিলের অভিযোগে দায়ের করা ওসমান চৌধুরীর মামলার পরবর্তী শুনানি ৫ নভেম্বর সকাল ১০টায়।
রোববার, ২৫ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও উক্ত সোসাইটিরই সাবেক কমকর্তা, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ওসমান চৌধুরীর সংগঠনের সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যানের ফলে আইনি বিরোধের কারণে নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে আদালতের নির্দেশে।
একজন ব্যাক্তির দায়ের করা মামলায় ৩৫০০০ এরও বেশি ভোটার এর নিবার্চন স্থগিত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিউ ইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার ঝড় তুলেছে।
প্রকাশিত সংবাদ ও আদালতের আদেশের বিবরণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক কুইন্স কাউন্টি আদালত নিবার্চনের মাত্র ২ দিন আগে ২৩ অক্টোবর নিবার্চন আয়োজনে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অবশ্য আদালতের এই পদক্ষেপকে মামলার চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
মামলা দায়েরকারী ওসমান চৌধুরীর অভিযোগ, নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্যপদের জন্য আবেদন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করার পরও তাঁর আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এতে তিনি আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা ও সংশ্লিষ্ট গঠনতান্ত্রিক বিধান প্রয়োগের বিষয়টি তিনি আদালতে উত্থাপন করেছেন।
প্রকাশিত মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর পাঠানো চিঠিতে ওসমান চৌধুরীর সদস্যপদের আবেদন প্রত্যাখ্যানের কথা জানানো হয়। আবেদনকারী দাবি করেছেন, তাঁর আবেদন ও অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করার পরও সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলা এবং সংগঠনের গঠনতন্ত্রের একটি নির্দিষ্ট ধারার উল্লেখ করে প্রথমে সদস্যপদ অনুমোদন করার পর তা বাতিল করা হয়।
তবে সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের পেছনে সংগঠন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ যুক্তি এবং গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট ধারা কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা আদালতে পর্যালোচনার বিষয়।

ওসমান চৌধুরী তাঁর আবেদনে বাংলাদেশ সোসাইটির আগের নির্বাচন, সদস্য নিবন্ধন এবং ভোটার তালিকা প্রণয়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সদস্যপদ অনুমোদন, ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অসংগতি ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি বর্তমান নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া ভোটার তালিকায় একই ঠিকানা ও একই ফোন নম্বর একাধিক ব্যক্তির নামে ব্যবহারের অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওসমান চৌধুরীর দাবি, একটি ফোন নম্বর ২৭৫ জনের নামেও ব্যবহৃত হয়েছে।
বাংলাদেশ সোসাইটির এবারের নির্বাচনে প্রায় ৩৫ হাজার ২৪২ জন ভোটার তালিকাভুক্ত ছিলেন বলে সোসাইটি সুত্রে জানা গেছে । কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস এলাকার পাঁচটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংগঠনটির ২১ সদস্যের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রার্থী ও প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
একটি প্যানেলে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম এবং সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন প্রার্থীরা ছিলেন। অন্য প্যানেলে সভাপতি পদে সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ফিরোজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের ঠিক আগে আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসায় পুরো নির্বাচনী কার্যক্রম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তবে নির্বাচন পুনরায় কবে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো কিছু বলা সম্ভব হচ্ছেনা।
আদালতের সাময়িক নির্দেশের গুরুত্ব এখানেই যে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে উত্থাপিত বিরোধের বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে সদস্যপদ প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত, গঠনতন্ত্রের সংশ্লিষ্ট বিধান এবং নির্বাচনী নথিপত্রের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। আদালত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখবেন, পরিবর্তন করবেন নাকি অন্য কোনো নির্দেশ দেবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ কারণে নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধের স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি সংগঠনের সদস্যদের আস্থা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী ৫ নভেম্বর আদালতের শুনানিতে মামলার বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশ কী হয়, তার ওপর নির্বাচনী কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করবে।








