২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

জন্মকালীন নাম নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টের পর ইলহান ওমরের পদত্যাগ দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

জন্মকালীন নাম নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টের পর ইলহান ওমরের পদত্যাগ দাবি করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরকে অবিলম্বে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে একটি ফেডারেল আদালতের নথিতে মিনেসোটার এই ডেমোক্র্যাট সদস্যকে “ইলহান নূর সাইদ এলমি, যিনি ইলহান আবদুল্লাহি ওমর নামেও পরিচিত” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইওয়াতে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ওমরকে নিয়ে ওঠা একটি অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে আনেন; এই অভিযোগটি তাঁর আগের বিয়ে সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্কের সাথে সম্পর্কিত।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “কিছুক্ষণ আগেই জানা গেল যে… তাঁর নাম আসলে ইলহান ওমর নয়—যে নাম ব্যবহার করে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং কংগ্রেসে শপথ নিয়েছিলেন। তিনি শপথ নেওয়ার জন্য একটি ভুয়া নাম ব্যবহার করেছেন। আমার মনে হয়, তাঁর অবিলম্বে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করা উচিত।”

তিনি পরবর্তীতে ঘোষণা করলেন: “রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে একটি আসন অর্জন করেছে।” গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ফেডারেল আদালতে দাখিল করা একটি নথিতে—যা নিউজউইক (Newsweek) সংগ্রহ করেছে—এই কংগ্রেস সদস্যকে “ইলহান নূর সাইদ এলমি, যিনি ইলহান আবদুল্লাহি ওমর নামেও পরিচিত” বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিনিন পিরোর কার্যালয় থেকে দাখিল করা এই নথিতে ওমরের ওয়াশিংটনস্থ বাসভবনে ফেডারেল তল্লাশি পরোয়ানা সংক্রান্ত নথিপত্র গোপন (সিল করা) রাখার বিষয়টি উঠে এসেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে নিউজউইক এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ওমরের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবি যে, ইলহান ওমার কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সময় একটি ভুয়া নাম ব্যবহার করেছিলেন—তা প্রমাণিত হয়নি। প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ‘এলমি’ হলো ওমারের প্রাক্তন স্বামী আহমেদ নূর সাইদ এলমির পারিবারিক নাম; সমালোচকরা বহু বছর ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, এই ব্যক্তি আসলে ওমারের ভাই। ওমার বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আইওয়াতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “তিনি অনেক আগে থেকেই প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসব বিষয় শনাক্ত করার ক্ষেত্রে আমার ভালো দক্ষতা আছে। তিনি মূলত এমন একটি জায়গা থেকে এসেছেন যা কোনো রাষ্ট্রই নয়। সোমালিয়ার কোনো সরকার নেই, সেখানে কিছুই নেই… তারা কেবল একে অপরের দিকে গুলি ছুড়ে বেড়ায়। এরপর তিনি এখানে চলে এলেন। সংবিধান আমাকে বাকস্বাধীনতার পূর্ণ অধিকার দিয়েছে।”

ইলহান ওমরের কার্যালয় এই প্রতিবেদনটিকে জোরালোভাবে খণ্ডন করে বলা হয়েছে, “এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা,” একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেছেন। “ইলহান ওমরই তাঁর আসল নাম।”

ইতিমধ্যে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ‘এমএস নাও’ (MS NOW)-এর ক্রিস হেইসের সাথে এক সাক্ষাৎকারে ইলহান ওমর বিয়ের অভিযোগটির বিষয়ে কথা বলেছেন। কংগ্রেস সদস্য জানান, এই গুজবটি প্রথম একটি সোমালি ব্লগ পোস্টে উঠে আসে এবং পরবর্তীতে ডানপন্থী ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিকরা তা লুফে নেয়। ওই পোস্টে ‘অজ্ঞাত কিছু ব্যক্তি’র বরাতে দাবি করা হয়েছিল যে, ওমরই তাদের সাথে এলমির পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।

ওমর বলেন, “তারা কেবল কিছু এলোমেলো মানুষকে খুঁজে বের করেছে, যারা হয়তো এমনটা বলেছে যে—’সে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। সে তার ভাইয়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেছিল যে, সে তার ভাই।’ বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য। সত্যি বলতে, তারা যাদের কথা বলছে, তাদের কাউকেই আমি চিনি না।”

এলমির সঙ্গে তাঁর কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে কি না—এমন সরাসরি প্রশ্নের জবাবে ইলহান ওমর বলেন, “আমার জানা মতে, নেই।” ওমরের মুখপাত্র এই অভিযোগকে একটি “মরিয়া অপপ্রচার” বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান প্রশাসনের কর্মকাণ্ড থেকে মনোযোগ সরানোর উদ্দেশ্যেই এটি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমকেও ভর্ৎসনা করেছেন, যারা এই “মিথ্যাকে টিকিয়ে রাখার” সুযোগ করে দিচ্ছে।

মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর),এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র নিউজউইক-কে জানিয়েছে যে, চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে ফেডারেল তদন্তকারীরা ওমরের ডিএনএ-এর একটি নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সূত্রটি আরও জানায়, গত সপ্তাহের অভিযানের পর ওমরের বোন সাহরা নূরও স্বেচ্ছায় তদন্তকারীদের সাথে কথা বলেছেন। সংবাদ সুত্র নিউজউইক