২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

আবেদনের প্রায় ১৮ মাস পার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে না ডাকায় মামলা

আবেদনের প্রায় ১৮ মাস পার হলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারে না ডাকায় মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তি না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তাইওয়ানের এক গ্রিনকার্ডধারী। আবেদনটি দপ্তরের একটি তাকেই ধুলা জমিয়ে পড়ে আছে বলে অভিযোগ করেছেন মেং জু লিউ, যিনি মাইকেল লিউ নামেও পরিচিত। তাঁর দাবি, ফেডারেল আদালত হস্তক্ষেপ না করলে নাগরিকত্বের জন্য তাঁকে অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে হতে পারে।

গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও স্টেটের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করেন লিউ। তাঁর আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, লিউ ২০০২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) ওই দিন তাঁর আবেদন গ্রহণ করে বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আদালতে দাখিল করা অভিযোগে বলা হয়েছে, আবেদন করার পর প্রায় ১৮ মাস পার হলেও লিউকে নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়নি। তাঁর আবেদনের ধরন অনুযায়ী, সিনসিনাটি কার্যালয়ে ৮০ শতাংশ আবেদন নিষ্পত্তির প্রকাশিত সময় ছিল সাড়ে ৯ মাস। লিউয়ের অভিযোগ, তাঁর আবেদন যুক্তিসংগত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হয়নি এবং বিলম্বের কারণও জানানো হয়নি।

লিউ নিউজউইককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে তাঁর খাদ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানি ব্যবসার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি কানসাস অঙ্গরাজ্যে উৎপাদিত চাল বিদেশের বাজারে বিক্রি করেন। তাঁর বিশ্বাস, মার্কিন নাগরিকত্ব পেলে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের মান আন্তর্জাতিক বাজারে আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক ব্যবসার প্রয়োজনে তাঁকে বিদেশে গিয়ে পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ও চুক্তিসংক্রান্ত বিষয় যাচাই করতে হয় বলেও জানান লিউ। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও দেশটির পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক ভ্রমণে তাঁকে আরও নিরাপত্তা ও স্বস্তি দেবে।

মামলাটি নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে সরকারি কর্তৃপক্ষ কত দিন সময় নিতে পারে এবং কোন পর্যায়ে বিলম্ব আইনগতভাবে অযৌক্তিক হয়ে ওঠে, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে নাগরিকত্ব পরীক্ষার পর ১২০ দিনের বেশি সময় কোনো সিদ্ধান্ত না এলে আবেদনকারী জেলা আদালতের হস্তক্ষেপ চাইতে পারেন। তবে লিউয়ের মামলার ক্ষেত্রে ওই বিধান কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা আদালতের বিবেচনার বিষয়।

আদালতে দাখিল করা নথির সঙ্গে যুক্ত ইউএসসিআইএসের আবেদন-অবস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ২ মে পর্যন্ত তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন ছিল। অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হলে তাঁকে জানানো হবে বলেও কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছিল।

২০২৫ সালের মে মাসে ইউএসসিআইএস লিউকে জানায়, আগে সংগ্রহ করা তাঁর আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য জৈবিক পরিচিতি-সংক্রান্ত তথ্য পুনরায় ব্যবহার করা হবে। ফলে তাঁকে নতুন করে বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য হাজির হতে হবে না। তবে আগের তথ্য ব্যবহার করেই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই করা হবে বলে জানানো হয়েছিল।

মামলায় লিউ স্বীকার করেছেন, নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের অপরাধের ইতিহাস ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত যাচাই করা সরকারের দায়িত্ব। তবে তাঁর অভিযোগ, এসব যাচাইয়ের জন্য যে সময় নেওয়া হচ্ছে, তা অযৌক্তিক। আবেদন নিষ্পত্তিতে অযৌক্তিক বিলম্ব না করার যে দায়িত্ব সরকারের রয়েছে, তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। সূত্র: নিউজউইক