৩রা অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জনমত ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে, তবু সিনেট দখলে কঠিন সমীকরণ সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জনমত ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে, তবু সিনেট দখলে কঠিন সমীকরণ সামনে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় সুবিধা বাড়লেও সিনেট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতেই নির্ধারিত হবে চূড়ান্ত ফল। যুক্তরাষ্ট্রের আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই ততই তীব্র হচ্ছে। জাতীয় পর্যায়ের জনমত ডেমোক্র্যাটদের জন্য অনুকূল হয়ে উঠলেও সিনেটের আসন বিন্যাসের কারণে প্রতিনিধি পরিষদে জয় এবং সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন এক বিষয় নয়।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিশ্লেষণ বলছে, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ পুনর্দখলের পথে এগিয়ে থাকলেও সিনেটের লড়াই এখনো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।

প্রথমেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন প্রয়োজন। ৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বরের ভোট পর্যন্ত ৩২ দিন নয়, ৩১ দিন বাকি। একই সঙ্গে, ডেমোক্র্যাটদের জাতীয়ভাবে ঠিক ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকার যে দাবি প্রচারিত হয়েছে, তার নির্ভরযোগ্য মূল উৎস ও পদ্ধতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন নির্বাচনী বিশ্লেষণ জাতীয় রাজনৈতিক পরিবেশে ডেমোক্র্যাটদের স্পষ্ট অগ্রগতির কথা বলছে।

অন্যদিকে, সিনেটের সমীকরণ সম্পর্কে প্রচারিত দাবিটির বড় অংশ বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডেমোক্র্যাটদের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে অন্তত চারটি আসন বাড়াতে হবে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কুক রাজনৈতিক প্রতিবেদনের ২৩ সেপ্টেম্বরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিনেটের নিয়ন্ত্রণকে এখন প্রায় সমান সম্ভাবনার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আসন লাভ এক থেকে পাঁচটির মধ্যে হতে পারে। অর্থাৎ চারটি আসন লাভ করলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে পারে।

উত্তর ক্যারোলাইনা ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য দখলের জায়গা। মেইনেও রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের আসনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে মেইনকে সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের নিশ্চিত আসন হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কুকের সর্বশেষ মূল্যায়নে মেইনসহ আলাস্কা, আইওয়া, মিশিগান, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ওহাইও এবং টেক্সাসকে সমানভাবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের তালিকায় রাখা হয়েছে।

এর ফলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে মেইন ও উত্তর ক্যারোলাইনা দখলের পর বাকি দুটি আসন কোথা থেকে আসবে। ওহাইও, টেক্সাস, আলাস্কা ও আইওয়া এই সম্ভাব্য পথের কেন্দ্রে রয়েছে। কুকের আগস্টের মূল্যায়নে টেক্সাস ও আইওয়াকে রিপাবলিকানদের পক্ষে ঝুঁকে থাকা আসন থেকে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার আসনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনৈতিক পরিবেশ আরও ডেমোক্র্যাটবান্ধব হলে এমন স্টেটেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে, যেগুলো কয়েক বছর আগেও রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচিত হতো।

ওহাইওর লড়াইও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এবং রিপাবলিকানদের প্রার্থী জন হাস্টেড। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যটি রিপাবলিকানদের দিকে ঝুঁকে থাকলেও জাতীয় রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তন এই প্রতিযোগিতাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।

একইভাবে টেক্সাসের আসনটিও নজরকাড়া। কুক রাজনৈতিক প্রতিবেদন আগস্টে টেক্সাসকে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর্যায়ে নিয়ে আসে, যা জাতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হয়।

আলাস্কাতেও ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে সাবেক প্রতিনিধি মেরি পেলটোলার প্রার্থিতার কারণে। কুকের জানুয়ারির মূল্যায়নে বলা হয়েছিল, পেলটোলার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা ডেমোক্র্যাটদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে আলাস্কা এখনো সহজ আসন নয় এবং রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান সেখানে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন।

এদিকে প্রতিনিধি পরিষদের চিত্র সিনেটের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের জন্য বেশি আশাব্যঞ্জক। কুক রাজনৈতিক প্রতিবেদন ২৫ সেপ্টেম্বর জানিয়েছে, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পথে রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের বর্তমানে ২১৫টি আসন রয়েছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য আরও তিনটি আসন প্রয়োজন। ওই বিশ্লেষণে ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাব্য আসন সংখ্যা ২২০ থেকে ২৩০ পর্যন্ত হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।

তবে প্রতিনিধি পরিষদ হারালেই যে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বা ইরান যুদ্ধের ওপর হোয়াইট হাউসের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি শেষ হয়ে যাবে এমন ধারণাও অতিরঞ্জিত। কংগ্রেস যুদ্ধের অর্থায়ন, আইন, তদারকি এবং যুদ্ধক্ষমতা-সংক্রান্ত বিভিন্ন সাংবিধানিক ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে। আবার প্রেসিডেন্ট সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী ক্ষমতা ধরে রাখেন। ফলে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালে ইরান-সংক্রান্ত নীতিতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে পারে, কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল সিনেটের হাতে থাকবে এটি সঠিক নয়।

৫০-৫০ সিনেট হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট সমতা ভাঙার ভোট দিতে পারেন। ফলে দুই দলের আসন সমান হলে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দলের পক্ষে আইন প্রণয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সুবিধা তৈরি হতে পারে।

কিন্তু যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কেবল একটি স্টেটের ফল বা একটি সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভর করবে না; প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, অর্থায়ন, আদালত, সামরিক পরিস্থিতি এবং মিত্রদেশগুলোর অবস্থানও বড় ভূমিকা রাখবে।

প্রচারিত দাবিটির মূল বক্তব্য ডেমোক্র্যাটদের জাতীয় অগ্রগতি থাকলেও সিনেট দখল নিশ্চিত নয় বাস্তবসম্মত। তবে নির্দিষ্ট জাতীয় জরিপের ৯ শতাংশ ব্যবধান এবং মেইনকে প্রায় নিশ্চিত ডেমোক্র্যাট আসন হিসেবে দেখানো অতিরঞ্জিত।

সর্বশেষ নিরপেক্ষ নির্বাচনী মূল্যায়নে সিনেটের লড়াই এখনো অনিশ্চিত, আর ওহাইও, টেক্সাস, আলাস্কা ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যগুলোই ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।