নিউইয়র্ক সিটির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৯/১১ স্মৃতিসৌধ দেখাতে এক মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ, ইতিহাস শিক্ষায় নতুন উদ্যোগ নিল সিটি মেয়র মামদানীর প্রশাসন । নিউইয়র্ক সিটি অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৯/১১ স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ বাড়াতে এ অর্থ অনুমোদন করেছে সিটি প্রশাসন। উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মকে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস সম্পর্কে সরাসরি শিক্ষা দেওয়া।
দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের আইনপ্রণেতারা শিক্ষার্থীদের ৯/১১ মেমোরিয়ালে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছেন। ৯/১১ হামলা নিউইয়র্কের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর একটি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে। দুটি বিমান নিউইয়র্ক সিটির ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে আঘাত করে।
এই হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।
নিউইয়র্ক সিটির বহু বর্তমান স্কুলশিক্ষার্থী হামলার সময় জন্মই নেয়নি। ফলে তাদের জন্য ৯/১১ একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, ব্যক্তিগত স্মৃতি নয়।শহরের নতুন কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের সেই ইতিহাস সরাসরি শেখানো। শ্রেণিকক্ষের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি স্মৃতিসৌধ ও জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে তারা ঘটনাটির মানবিক ও ঐতিহাসিক প্রভাব সম্পর্কে জানতে পারবে। ৯/১১ মেমোরিয়াল ও মিউজিয়ামে নিহতদের নাম, হামলার ছবি, উদ্ধারকাজ এবং সেই সময়কার বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষিত রয়েছে।
তবে শিশুদের জন্য এমন শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতাও প্রয়োজন। সন্ত্রাসী হামলার ছবি ও ব্যক্তিগত গল্প অনেক শিক্ষার্থীর জন্য মানসিকভাবে কঠিন হতে পারে। তাই বয়স উপযোগী শিক্ষামূলক পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ।অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই ধরনের ভ্রমণ ইতিহাস, নাগরিক শিক্ষা এবং জননিরাপত্তার পাঠের সঙ্গে যুক্ত করা যেতে পারে।
৯/১১ শুধু নিউইয়র্ক নয়, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতিতেও বিশাল পরিবর্তন এনেছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা, গোয়েন্দা ব্যবস্থা, সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং আন্তর্জাতিক সামরিক নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে।শিক্ষার্থীরা স্মৃতিসৌধে গিয়ে শুধু হামলায় নিহতদের সম্পর্কে নয়, উদ্ধারকর্মীদের ভূমিকা, বেঁচে যাওয়া মানুষদের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী পুনর্গঠন সম্পর্কেও জানতে পারে।
এখানে অর্থ বরাদ্দের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ১০ লাখ ডলার দিয়ে কতজন শিক্ষার্থীকে ভ্রমণের সুযোগ দেওয়া যাবে, তা স্কুলের সংখ্যা ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর নির্ভর করবে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি স্কুলে অনেক শিক্ষার্থী নিম্নআয়ের পরিবার থেকে আসে। স্কুলের পক্ষ থেকে এমন শিক্ষামূলক ভ্রমণের খরচ বহন করা অনেক সময় কঠিন হতে পারে। সরকারি অর্থায়ন সেই বাধা কমাতে পারে।
এই উদ্যোগ নিউইয়র্কের ইতিহাস শিক্ষার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। সিটির বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশুই ৯/১১ সম্পর্কে শুধু বই বা ভিডিও থেকে জানে। তবে ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রচারণা হিসেবে ব্যবহার না করে ঐতিহাসিক তথ্য, নিহতদের মানবিক গল্প এবং সন্ত্রাসবাদের প্রভাব সম্পর্কে নিরপেক্ষ শিক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের শিক্ষার্থীরাও নিউইয়র্ক সিটির স্কুলে পড়াশোনা করে। তাদের জন্যও এটি আমেরিকার আধুনিক ইতিহাস বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।৯/১১-র শিক্ষা শুধু অতীত স্মরণ করার বিষয় নয়। এর মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ, সন্ত্রাসবাদ, নাগরিক স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং বহুসাংস্কৃতিক সমাজে সহাবস্থানের বিষয় নিয়েও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটির জন্য ৯/১১ মেমোরিয়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন। সেখানে নিহতদের স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইতিহাস শেখানোও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।অতএব, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই অর্থ বরাদ্দ শুধু একটি স্কুল ভ্রমণ কর্মসূচি নয়; এটি শহরের ইতিহাস ও নাগরিক শিক্ষার অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।













