৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

কমিউনিটি

নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি পেলেন ইকবাল হোসেন

নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগে দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ফার্স্ট গ্রেড পদোন্নতি পেলেন ইকবাল হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম পুলিশ বাহিনী নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের গোয়েন্দা শাখায় “ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড” পদে পদোন্নতি পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের বৈরাগীবাজার আরিজখাঁটিলা এলাকার আব্দুল খালেক ও ইরামতি বেগমের দ্বিতীয় ছেলে ইকবাল গত ১ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল ১০টায় নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পদোন্নতির সনদ গ্রহণ করেন। তাঁর হাতে সনদ তুলে দেন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিস।

ইকবাল হোসেনের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের ইতিহাসে তিনি ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে পদোন্নতি পাওয়া দ্বিতীয় বাংলাদেশি। ১৯৯০ সালে মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইকবাল হোসেন। যুক্তরাষ্ট্রেই প্রথম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যন্ত পড়াশোনা করেন তিনি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের পড়াশোনা শেষে হাই স্কুল ফর হেলথ প্রফেশনস অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস থেকে হাই স্কুল ডিপ্লোমা অর্জন করেন। পরে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

২০০৬ সালের জুলাই মাসে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে যোগ দেন ইকবাল। ছয় মাসের একাডেমি প্রশিক্ষণ শেষে কর্মজীবনের শুরুতে প্রায় এক বছর ৩২ প্রিসিনক্টে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রায় চার বছর ২৬ প্রিসিনক্টে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রায় তিন বছর পুলিশ বিভাগের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যুরোর আওতাধীন ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার কমান্ডে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে তিনি অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরোতে যোগ দেন।

২০১৬ সালের জুনে অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ব্যুরো থেকে প্রথমবার ডিটেকটিভ থার্ড গ্রেড পদে পদোন্নতি পান ইকবাল হোসেন। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি ওই ব্যুরোর ফোর্স ইনভেস্টিগেটিভ গ্রুপের ৫৪ নম্বর দলে যোগ দেন। এটি পুলিশ বিভাগের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং তদন্তকারী দল হিসেবে পরিচিত। সেখানে দায়িত্ব পালনের সময় ২০২২ সালের এপ্রিলে তিনি ডিটেকটিভ সেকেন্ড গ্রেড পদে পদোন্নতি পান। দীর্ঘ কর্মজীবনে অধ্যবসায়, জ্ঞান, দক্ষতা, কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি এবার ডিটেকটিভ ফার্স্ট গ্রেড পদে উন্নীত হলেন।

ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী নিলুফা বেগম ও তিন ছেলেকে নিয়ে সাউথ ওজন পার্কে বসবাস করেন ইকবাল হোসেন। দীর্ঘ কর্মজীবনের এই পথচলায় স্ত্রী, বাবা-মা, ভাইবোন ও বন্ধুদের সহযোগিতা ও ত্যাগের কথা তিনি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেন। পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা, ক্রীড়া সংস্থা ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত আছেন ইকবাল হোসেন। তাঁর এই অর্জনে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে গর্ব ও আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে তরুণদের কাছে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম, পারিবারিক সহযোগিতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।