৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশ

“ভয় পেয়ে কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হব না!’ ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে যেতে চান হাসিনা, পর্দার আড়ালে সমঝোতা করবেন না

“ভয় পেয়ে কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হব না!’ ডিসেম্বরেই দেশে ফিরে যেতে চান হাসিনা, পর্দার আড়ালে সমঝোতা করবেন না

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও দেশটির ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বা তাঁর দল বিএনপির সঙ্গে কোনও রকম গোপন সমঝোতার পথে হাঁটবেন না। ফাঁসির সাজার পরোয়া করেন না তিনি। সঙ্কটাপন্ন দেশবাসীর পাশে দাঁড়াতে যে কোনও মূল্যে ফিরতে চান ঢাকায়। ভারতের সংবাদমাধ্যম “নিউজ ১৮” – কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করলেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী তথা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনা। স্বেচ্ছানির্বাসিত নেত্রী আবারও জানিয়েছেন, ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরতে চান তিনি।

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট আন্দোলনপর্বে হত্যা ও মানবতাবিরোধী ‘অপরাধে’ শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে। তবুও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্তে অবিচল। সাক্ষাৎকারে মুজিব-কন্যার মন্তব্য, ‘‘দেশের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলির একটিতে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আকাঙ্ক্ষাই আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।’’ সেই সঙ্গেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমি আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। তবে যে কোনও বিচারপ্রক্রিয়া অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। পূর্বনির্ধারিত রায়ের ভিত্তিতে হতে পারে না।’’

দু’বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অনুপস্থিত তিনি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি-পর্বে তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ উঠছে ধারাবাহিক ভাবে। দলের উপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার খাঁড়াও নেমে এসেছে। সাক্ষাৎকারে সে বিষয়টিও তাঁর ঢাকায় প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন শেখ হাসিনা। জানিয়েছেন, তাঁর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের উদ্দেশ্য ক্ষমতা পুনরুদ্ধার নয়, অনুগামীদের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের জনগণকে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ করে দেওয়া। সেই সঙ্গেই আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর ঘোষণা, বাংলাদেশে ফেরার জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার বা তাঁর দল বিএনপির সঙ্গে কোনও রকম গোপন সমঝোতার পথে হাঁটবেন না। হাসিনার কথায়, ‘‘পর্দার আড়ালে কোনও সমঝোতা করে দেশে ফিরব না।’’

তিনি এবং আওয়ামী লীগের অন্যান্য দেশত্যাগী নেতার ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন কি না, সরাসরি সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দেননি হাসিনা।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরো বলেন, ‘‘বাংলাদেশ আমার দেশ। আমি আমার গোটা রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে কাটিয়েছি। জেলে গিয়েছি। সরকারি নিপীড়ন, ১৯ বার ঘাতকবাহিনীর হামলা-সহ নানা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদের জনগণ যখন আমাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলির একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের বাইরে থাকার জন্য আমি রাজনীতিতে আসিনি।’’ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্যে তিনিই প্রথমে ঢাকায় ফিরবেন কি না জানতে চাওয়া হলে হাসিনার মন্তব্য, ‘‘কে আগে ফিরবেন, অথবা নেতারা একসঙ্গে না কি ধাপে ধাপে ফিরবেন, তা একটি পরিস্থিতি-নির্ভর সাংগঠনিক প্রশ্ন। দায়িত্বশীল ভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আমাদের রাজনৈতিক নীতি স্পষ্ট— আমরা বাংলাদেশকে পরিত্যাগ করব না। আমরা আমাদের জনগণকে পরিত্যাগ করব না। আমরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে পরিত্যাগ করব না। আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে ফিরে আসবে, কারণ আমাদের রাজনীতি জনগণেরই জন্য।’’

বাংলাদেশের মানুষ যখন ভয়, বঞ্চনা এবং নিপীড়নের মুখোমুখি, তখন তিনি দেশের বাইরে থাকতে পারবেন না জানিয়ে হাসিনা বলেছেন, ‘‘এটি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়, আইনের মুখোমুখি হওয়ার বিষয় এবং বাংলাদেশের জনগণকে আমাকে বিচার করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়।’’ ২০২৪ সালের জুলাই-অগস্ট হিংসার পরিস্থিতি এবং ভারত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তিনি কী ভূমিকা প্রত্যাশা করেন, সে বিষয়েও কথা বলেছেন হাসিনা। তাঁর বার্তা— ‘‘আমি প্রাণের ভয় ভীত নই, ন্যায়বিচারের পরিসর সঙ্কীর্ণ হয়ে আসার কারণেই আমার উদ্বেগ। আমাকে আদালতে হাজির হতে দিন। আমাকে তথ্যপ্রমাণ পেশ করতে দিন। আমার আইনজীবীদের আমাকে রক্ষা করতে দিন। সাক্ষীদের জেরা করতে দিন। প্রমাণকে কথা বলতে দিন।’’- আনন্দবাজার.কম থেকে