প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি আরোপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নিয়মে বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন ব্যবস্থায় এফ ও জে শ্রেণির শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অনুমোদন আগের মতো অনির্দিষ্ট ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ভিত্তিতে থাকছে না। এর পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের অবসর নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমান নিয়ম অনুসারে এফ-১ ভিসায় শিক্ষার্থীরা সাধারণত তাদের অনুমোদিত শিক্ষাক্রম, সংশ্লিষ্ট শর্ত এবং বৈধ শিক্ষার্থী স্ট্যাটাস বজায় রাখার ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করতে হবে। কারও শিক্ষাক্রম, গবেষণা বা প্রশিক্ষণ নির্ধারিত সময়ের বেশি দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় বাড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
নতুন নিয়মে এফ ও জে ভিসার ক্ষেত্রে অনুমোদিত অবস্থানের সময়সীমা সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিবর্তনের ফলে বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, পিএইচডি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাক্রম শেষ করতে ব্যর্থ শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থীকে শিক্ষাক্রম শেষ করতে অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হলে নতুন ব্যবস্থায় তাকে অবস্থানের সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হতে পারে।
তবে বৈধ একাডেমিক বা পেশাগত কারণে শিক্ষাক্রম দীর্ঘ হলে শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়া এই নিয়মের উদ্দেশ্য নয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট। উক্ত ডিপার্টমেন্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো অস্থায়ী ভিসায় আগত শিক্ষার্থী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান আরও কার্যকরভাবে তদারক করা এবং অভিবাসন বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা।
নতুন নিয়মের আওতায় এফ ও জে শ্রেণির ভিসার পাশাপাশি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য ব্যবহৃত “আই ভিসা” শ্রেণির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা চালু হবে। সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে অনুমোদিত সময়সীমা সাধারণভাবে ২৪০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। চীনা নাগরিক সাংবাদিকদের জন্য প্রস্তাবিত সীমা ৯০ দিন। বর্তমানে এসব শ্রেণির ক্ষেত্রে অবস্থানের মেয়াদ অনেকাংশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রম বা কাজের সময়ের সঙ্গে যুক্ত।
নতুন নিয়ম নিয়ে ইতোমধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও অধিকার সংগঠন আগস্টে মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করে নতুন বিধি কার্যকর বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছে। মামলাকারীদের বক্তব্য, নির্দিষ্ট সময়সীমা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, গবেষক ও সাংবাদিকদের জন্য অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাক্রম বা গবেষণায় অনিশ্চয়তা বাড়াবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট নতুন ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়ে জানিয়েছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় অবস্থানের মেয়াদ দীর্ঘ হওয়ার সুযোগের কারণে তদারকি ও নিয়ম মেনে চলার ক্ষেত্রে কিছু দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে সরকার শিক্ষার্থী, বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী ও বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অবস্থান আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবে বলে দপ্তরটি মনে করছে।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় নির্ধারিত শিক্ষাক্রমের মেয়াদ, অবস্থানের অনুমোদিত সময় এবং প্রয়োজন হলে সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিশেষ করে পিএইচডি, গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করতে হবে।
নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার পর পুরোনো ও নতুন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নিয়মের প্রয়োগ কীভাবে হবে, সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। চূড়ান্ত বিধিতে বিদ্যমান এফ ও জে শ্রেণির অনেক অবস্থানধারীকে নতুন নির্দিষ্ট সময়সীমার ব্যবস্থায় স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও তাদের নিজস্ব অবস্থান ও অনুমোদনের শর্ত অনুযায়ী করণীয় নির্ধারণ হতে পারে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য তাই ভিসা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর অনুমোদিত অবস্থানের সময়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সংক্ষিপ্ত তথ্যের ওপর নির্ভর না করে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নির্দেশনা ও নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করাই নিরাপদ।













