৩০শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রংপুরে ৪ খুন: মিলছে না কিছু প্রশ্নের উত্তর

বাংলাদেশের রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত প্রায় শেষ করলেও মিলছে না কিছু প্রশ্নের উত্তর৷ এদিকে, এই ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই আসামির মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ৷

গত শনিবার ২২ আগস্ট রাতে রংপুর শহরের দাসপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২), সদ্য স্নাতকোত্তর পাস করা মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়মের (১২) মরদেহ তালা ভেঙে উদ্ধার করে পুলিশ৷ তাদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে৷ এই ঘটনায় গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন৷

২৩ আগস্ট রোববার ভোরে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ তারা হলেন গণপতির প্রতিবেশী মৃত কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) ও বিনয় চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)৷ এরপর তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন৷

এই দু’জনের বন্ধু সীমান্ত দাসও মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে ঢাকার দৈনিক প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন এই মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক জিন্নাত আলী৷

তিনি জানান, সীমান্ত আদালতে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা গ্রেপ্তার দুই আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে৷ আসামিরা ঘটনার রাতে সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করার যে তথ্য দিয়েছিলেন, সীমান্তও আদালতে একই কথা বলেছেন বলে জানান তিনি৷

এদিকে গ্রেপ্তার দুই আসামির মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হতে ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ৷ তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলী জানান, গত সোমবার ২৫ আগস্ট সকালে এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেছে৷ ইতিমধ্যে ডোপ টেস্টের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়েছে৷ বুধবার ২৬ আগস্ট তাঁদের ডোপ টেস্টের জন্য পাঠানো হয়।