২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সামরিক জোট

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। ৭ আগস্ট ২০২৬ সৌদি আরবের মক্কায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে তিন দেশের নেতারা ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।

চুক্তিতে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বাক্ষর করেন। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তা জোরদার করা, প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর মাধ্যমে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও তার পাশে দাঁড়ানোর একটি যৌথ প্রতিরক্ষা কাঠামো তৈরি হলো।

চুক্তির আওতায় সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে সহযোগিতা এবং তিন দেশের সামরিক বাহিনীর পারস্পরিক সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যৌথ প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা, রসদ ব্যবস্থাপনা ও সামরিক সক্ষমতার সমন্বয় আরও বাড়ানো হতে পারে।

তিন দেশের পক্ষ থেকেই বলা হয়েছে, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয়। তুরস্ক বিশেষভাবে জানিয়েছে, চুক্তিতে কোনো অভিন্ন শত্রুর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে চুক্তিটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক কৌশলগত গুরুত্ব পেয়েছে।

এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব, তুরস্কের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প সক্ষমতা এবং পাকিস্তানের সামরিক অভিজ্ঞতা—এই তিন দেশের শক্তিকে একই কাঠামোর আওতায় আনার ফলে জোটটি ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এটিকে সরাসরি ন্যাটোর সমতুল্য সামরিক জোট বলা এখনই যথাযথ নয়। পারস্পরিক প্রতিরক্ষার নীতিটি ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনীয় হলেও তিন দেশের যৌথ সামরিক কমান্ড, সমন্বিত বাজেট বা ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি।

তুরস্ক জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রতিরক্ষা কাঠামো আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে। মিসরসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। ফলে মক্কা চুক্তি শুধু তিন দেশের সামরিক সহযোগিতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি ভবিষ্যতে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোর রূপ নেবে সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।