ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক জন এফ. কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের সংস্কার পরিকল্পনা আদালত আটকে দিলে ভবনটি শেষ পর্যন্ত ভেঙে ফেলতে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। গত ২৫ আগস্ট ডমঙ্গলবার আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, সংস্কার ও অর্থায়নের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটি আরও জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ হয়ে পড়তে পারে।
বিষয়টি সামনে এসেছে কেনেডি সেন্টার নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের মধ্যে। ট্রাম্প প্রশাসন কেন্দ্রটিতে বড় ধরনের সংস্কার করতে চায়। একই সঙ্গে ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগও নিয়েছে কেন্দ্রটির পরিচালনা পর্ষদ। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তনের এখতিয়ার নেই বলে এর আগে একটি ফেডারেল আদালত রায় দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অফ জাস্টিস বা বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক আদালত নথিতে বলা হয়েছে, সংস্কার পরিকল্পনা স্থায়ীভাবে আটকে গেলে কেন্দ্রটি আর্থিক ও অবকাঠামোগত সংকটে পড়তে পারে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে ভবনটি ভেঙে সেখানে পটোম্যাক নদীর তীরে একটি বড় উন্মুক্ত অ্যাম্ফিথিয়েটার নির্মাণের মতো বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা গুরুতর এবং বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। প্রস্তাবিত সংস্কার প্রকল্পের ব্যয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে অর্থ সংগ্রহ ও সংস্কারের উদ্যোগ থেমে গেলে কেন্দ্রটির আর্থিক অবস্থা আরও দুর্বল হতে পারে।
তবে এই দাবিকে ঘিরে বিতর্ক রয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের নাম কেন্দ্রটির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর টিকিট বিক্রি ও তহবিল সংগ্রহ কমেছে বলে কিছু অভ্যন্তরীণ নথিতে উঠে এসেছে। ফলে কেন্দ্রটির আর্থিক সংকটের জন্য ট্রাম্পের সংশ্লিষ্টতা কতটা দায়ী এবং প্রশাসনের সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা প্রয়োজনীয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
কেনেডি সেন্টারের নাম নিয়ে আইনি লড়াইও এখনো চলছে। মে মাসে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার রায় দেন, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তনের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে। এরপর ভবনের সামনে ট্রাম্পের নাম সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ট্রাম্প-সমর্থিত পরিচালনা পর্ষদ আগস্টে নতুন করে ভবনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার প্রস্তাব অনুমোদন করে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম অপরিবর্তিত রেখে ভবনের সামনে ট্রাম্পের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের ভূমিকা উল্লেখ করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রের আশপাশের চত্বরের নাম ট্রাম্পের নামে করার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, এটি কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক নাম পরিবর্তন নয়।
এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিটি। তিনি আদালতের কাছে ট্রাম্পের নাম বা তার ভূমিকা তুলে ধরার নতুন উদ্যোগ বন্ধ করার আবেদন করেছেন। তার যুক্তি, কেনেডি সেন্টারকে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির উদ্দেশ্যে জাতীয় স্মারক হিসেবে প্রতিষ্ঠার আইনি কাঠামোর সঙ্গে এসব পরিবর্তন সাংঘর্ষিক।
১৯৭১ সালে চালু হওয়া কেনেডি সেন্টার যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারফর্মিং আর্টস প্রতিষ্ঠান। ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত এই কেন্দ্রটি শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের স্থান নয়, প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত একটি জাতীয় স্মারক হিসেবেও পরিচিত।
সংস্কার পরিকল্পনা, ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ এবং আদালতের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিরোধ এখন কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎকে ঘিরে বড় আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আদালত শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত দেয়, তার ওপর সংস্কার প্রকল্প এবং কেন্দ্রটির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনার পরবর্তী পদক্ষেপ অনেকটাই নির্ভর করছে।














