২৯শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আর্ন্তজাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপ, কার্যকর সেপ্টেম্বরে

যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপ, কার্যকর সেপ্টেম্বরে

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের জবাবে দেশটির পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা। নতুন শুল্কের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের পণ্যের ওপর কার্যকর হবে এই নতুন শুল্ক।

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ৭০০ ধরনের পণ্যে ১৫, ২৫ ও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর হবে। গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নতুন শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, আসবাবপত্র ও পোশাকের মতো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে। পনির, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ও কিছু সামুদ্রিক খাবারে ২৫ শতাংশ এবং ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্রপাতিতে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। নতুন শুল্কের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক ও শিল্পখাতকে সহায়তায় ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডি ডলারের একটি নতুন ও বর্ধিত প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কানাডা।

ট্রাম্পের শুল্কের জবাবে প্রায় ৯০০ মার্কিন পণ্যে ৫০% পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ কানাডার

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। এতে ইস্পাত থেকে আসবাব, তাজা টুনা মাছ ও সুতির টি-শার্টসহ প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। কানাডার কর্মকর্তারা গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার এ ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্র যেসব কানাডীয় পণ্যের ওপর শুল্ক বসিয়েছে, কানাডার তালিকাও সেগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। নতুন এই শুল্ক আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

গত সপ্তাহের শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যায়। এরপর দুই দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে ‘অযৌক্তিক’ দাবি জানানোর অভিযোগ তোলে। এর মধ্যেই বাণিজ্য বিরোধ আরও বেড়েছে। কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন বলেন, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। তারই জবাবে কানাডার এই নতুন পদক্ষেপ।

তিনি বলেন, ‘এই শুল্ক কানাডার শ্রমিক, ব্যবসা ও দেশের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলবে। তাই কানাডাকে জবাব দিতে হবে।’ শ্যাম্পেন কানাডার পাল্টা পদক্ষেপকে ‘সমানুপাতিক’ ও ‘কৌশলগত’ বলে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শ্রমিকদের সহায়তায় আরও ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন কানাডীয় ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডা সরকার। চাকরি হারানোর হার কমাতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে টিকিয়ে রাখতে এই অর্থ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে।

তবে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বাণিজ্যিক অংশীদার দুই দেশের মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি শুল্ক দুই পক্ষকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে কয়েক দশক ধরে গড়ে ওঠা সরবরাহব্যবস্থার খরচ বাড়বে। এর প্রভাব ছোট-বড় সব ধরনের ব্যবসা এবং শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর পড়তে পারে।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে কানাডা সরকারের কঠোর অবস্থানের পক্ষে বেশির ভাগ কানাডীয় সমর্থন জানিয়েছেন। তবে বাণিজ্য আলোচনা ঠিক কেন ভেস্তে গেল, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তির পুরো খসড়া প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। এদিকে কানাডার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

কানাডার পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর হোয়াইট হাউস বলেছে, সাম্প্রতিক বাণিজ্য আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে ‘অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি বাজারভিত্তিক সুবিধা’ দিতে চেয়েছিল। তবে ‘অংশীদারত্বের বদলে কানাডা অযৌক্তিক দাবি ও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার পথ বেছে নিয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছে তারা। ট্রাম্পও কানাডার সমালোচনা করে বলেন, দেশটি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ‘অন্যায্য সুবিধা’ নিয়েছে। তিনি কানাডার সঙ্গে ব্যবসা কমানোর ইঙ্গিত দেন এবং লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার কথাও বলেন।

এদিকে ট্রাম্প ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ির ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ করার হুমকি দিয়েছেন। জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ট্রাম্প কানাডার গাড়ি, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম শিল্প ‘ধ্বংস’ করতে চান। দুই দেশের কথার লড়াই তীব্র হলেও মঙ্গলবার কয়েকজন কর্মকর্তা আবার আলোচনা শুরুর আশা প্রকাশ করেন। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা দুই দেশের জন্যই ভালো একটি চুক্তি করতে চান তিনি।

কানাডা প্রায় ৯০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক বসানোর তালিকা প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, মধু, আসবাব, পোশাক, প্রসাধনী ও সুগন্ধির ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। এছাড়া, ডিশওয়াশার, ওয়াশিং মেশিন, পনিরসহ দুগ্ধজাত পণ্য, মাছ ও সামুদ্রিক খাবারের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। আর ফর্কলিফট ও এয়ারকন্ডিশনিং মেশিনসহ কিছু যন্ত্রপাতির ওপর বসবে ১৫ শতাংশ শুল্ক। কানাডা বলেছে, দেশের ভেতরে ক্ষতি কমাতে এমন পণ্য বেছে নেওয়া হয়েছে, যেগুলো অন্য দেশ থেকেও সহজে কেনা সম্ভব।