যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ফ্যামিলি স্পনসরশিপ ব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবিত বিলকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে কার্যকর হওয়া নির্দেশনা এবং প্রস্তাবিত আইন এক বিষয় নয়। বর্তমানে ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনই বহাল রয়েছে।
গত ১ আগস্ট ২০২৬ থেকে ইউএসসিআইএসের নীতিমালায় পরিবারভিত্তিক পিটিশন নিয়ে নতুন নির্দেশনা যুক্ত হয়েছে। নতুন ও চলমান উভয় ধরনের আবেদনের ক্ষেত্রে এই নির্দেশনা প্রযোজ্য। এতে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ, একাধিক পিটিশনের তথ্য যাচাই এবং সম্পর্কের সত্যতা নির্ধারণে সাক্ষাৎকারের ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে ফর্ম আই-১৩০-এর মাধ্যমে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথিপত্র আরও সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হতে পারে। বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতারণা বা অসত্য তথ্য শনাক্ত করতে অতিরিক্ত প্রমাণ চাওয়া হতে পারে। একই স্পনসর একাধিক বা পরস্পর সম্পর্কিত পিটিশন দাখিল করলে সেগুলোর তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি আছে কি না, সেটিও যাচাই করা হতে পারে। প্রয়োজন মনে করলে সম্পর্কের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির পিটিশন অনুমোদিত হলেও তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস না থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে নোটিস টু অ্যাপিয়ার জারি হতে পারে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অভিবাসন আদালতের কার্যক্রমের মুখোমুখি হতে হতে পারে।পরিবারভিত্তিক অভিবাসনে আর্থিক স্পনসরশিপের জন্য ব্যবহৃত অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্ট নিয়েও নতুন কড়াকড়ির প্রস্তাব রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনে স্পনসরের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তথ্য ও নথি চাওয়ার ব্যবস্থা আনার কথা বলা হয়েছে।
এর মধ্যে স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর, সর্বশেষ তিন বছরের করসংক্রান্ত প্রত্যয়িত নথি এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাইয়ের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের দায় শেষ হবে না বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এসব পরিবর্তন এখনো প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান নিয়ম অনুযায়ীই অ্যাফিডেভিট অব সাপোর্টের প্রক্রিয়া চলবে। ফ্যামিলি ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আরও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব এসেছে ‘আমেরিকানস ফার্স্ট ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট’ নামের একটি বিলের মাধ্যমে। ৩০ এপ্রিল ২০২৬ রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ব্যারি মুর বিলটি উত্থাপন করেন।
বিলটি পাস হলে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের বর্তমান কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ফ্যামিলি স্পনসরশিপের সুযোগ মূলত স্বামী বা স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের মধ্যে সীমিত করা হবে। এর ফলে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য বিদ্যমান পরিবারভিত্তিক অভিবাসন পথ বাতিল হতে পারে।
প্রস্তাবিত বিলটিতে ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচি বা গ্রিন কার্ড লটারিও বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড ব্যবস্থার পরিবর্তে পয়েন্টভিত্তিক মেধা ব্যবস্থার প্রস্তাব রয়েছে। এতে বয়স, শিক্ষা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এবং বেতনের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পয়েন্ট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রস্তাবিত বিলটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। ফলে এর কোনো বিধান বর্তমানে ফ্যামিলি ইমিগ্রেশনের আবেদনকারীদের ওপর কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে পরিবারভিত্তিক অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও ইউএসসিআইএসের কার্যকর নির্দেশনাই প্রযোজ্য। তাই আই-১৩০ বা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো আবেদন করার আগে আবেদনকারীদের নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনার জন্য ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুসরণ করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।















