প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী বছর ডেমোক্র্যাটরা যদি হাউস অফ রিপ্রজেন্টেটিভস বা পরিষদের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে এবং হাকিম জেফ্রিসকে (ডেমোক্র্যাট-নিউ ইয়র্ক) স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করে, তবে তাঁর সঙ্গে ট্রাম্পের সম্পর্কটি আশ্চর্যজনকভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে।
পাঞ্চবোল নিউজকে ট্রাম্প বলেন, “সম্ভবত তাঁর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠবে।” রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত এই কক্ষটির নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটরা যদি নিজেদের দখলে নিতে পারে এবং জানুয়ারি মাসে জেফ্রিসকে স্পিকার পদে নির্বাচিত করে, তবে তিনি প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হবেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং জেফ্রিস—যাঁরা নিয়মিতভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ চালিয়ে আসছেন—তাঁদের ওয়াশিংটনে আলোচনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় নিয়ে আসবে। তাঁরা দুজন আনুষ্ঠানিকভাবে সশরীরে মাত্র একবারই সাক্ষাৎ করেছেন—২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওভাল অফিসে আয়োজিত এক বৈঠকে।
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের বিষয়ে জেফ্রিস প্রায়ই ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন; অন্যদিকে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে তিনিও নিউ ইয়র্কের এই ডেমোক্র্যাট নেতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “তিনি কঠোর আচরণ করেন কারণ আমিও তাঁর প্রতি কঠোর।”
ডেমোক্র্যাট নেতা জেফ্রিস যদি স্পিকার হন, তবে তাঁর সাথে কাজ করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় সম্ভব।” ক্যাপিটল হিলে দলের কার্যক্রম নিয়ে রিপাবলিকানদের তৃণমূল পর্যায়ে যে হতাশা রয়েছে, তা স্বীকার করার পাশাপাশি ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্যদের ওপর দলের ভোটাররা “খুবই ক্ষুব্ধ”।
সেই হতাশা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসনের (রিপাবলিকান-লুইজিয়ানা) প্রতি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রেখেছেন; তিনি বলেছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও তিনি জনসনকে সমর্থন দিয়ে যাবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরো বলেন, “আমার মনে হয় না তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কোনো চিন্তাভাবনাও কারও আছে।” মন্তব্যের জন্য ‘নিউজম্যাক্স’ (Newsmax) জেফ্রিসের কার্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করেছিল, তবে তাৎক্ষণিক কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।















