৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হলো প্রয়াত রানা দাসকে

অনেকদিনের নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দা সিলেটের বনেদী পরিবারের সন্তান শ্রী রানা দাস। স্ত্রী,১ পুত্র,১ কন্যাসহ থাকতেন নিউইয়র্কের ইস্ট এলমহার্ষ্টস্থ নিজ বাসায়। তিনি ছিলেন সদা হাস্যোজ্জ্বল,অসীম মানসিক শক্তির অধিকারী। দু’বছরের বেশি সময় দুরারোগ্য ব্যধি কান্সারের সাথে সাহসিকতার সাথে লড়াই করে অবশেষে গত ২৭ জুন নিউ ইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে ৫৭ বছর বয়সে পরপারে চলে গেলেন রানা। তার চলে যাওয়ার খবরে স্বজনদের মাঝে নেমে আসে গভীর শোক ।

গত ৩০ জুন মঙ্গলবার উডসাইডের গুলশান টেরেসে প্রথম সার্বজনীন আয়োজনে সম্পন্ন হলো তার স্মরণসভা। স্বজনদের গানে প্রাণে অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণে শেষ হলো স্মরণ সভা। ধর্ম, বর্ণ, মত-সব বিভাজন ভুলে কমিউনিটির অসংখ্য স্বজন, ছুটে এসেছিলেন তাঁদের ভালোবাসার মানুষ রানাকে শেষবার এর মতো বিদায় জানাতে। এসেছিলেন বিদেশি প্রতিবেশী,সহকর্মী- অনেকেই। সংগীত, স্মৃতিচারণ আর স্বজন-সুধীজনের কান্নাভেজা কথায় বারবার ফিরে এসেছে রানা। প্রতিটি উচ্চারণে ছিল ভালোবাসা, প্রতিটি বিরতিতে ছিল রানাকে হারানোর বেদনার দীর্ঘশ্বাস।

ফুলে ফুলে ঢাকা কাসকেট-এ বাক্সবন্দি রানা’র সামনে দাঁড়িয়ে কমিউনিটির শুভানুধ্যায়ীরা তার স্মৃতিচারণ করেছেন। বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে দুই সন্তান। স্বামীর কফিনের সামনে নির্বাক স্ত্রী কল্পনা দাস । হলভর্তি মানুষের মাঝেও ছিল নীরবতা।যেন পিনপতনের শব্দও শোনা যায়, আর তার ফাঁকে ফাঁকে ভেসে আসে চাপা কান্না, দীর্ঘশ্বাস, বিলাপ। প্রয়াত রানা দাসের ছেলে ও মেয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলেছে। তখন সামনের সারিতে নিশ্চুপ বসে ছিলেন তাঁর স্ত্রী।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, কোনো নেতা নয়, কোনো সেলিব্রিটিও নয়। নিজেকে কখনো বিশেষ কেউ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা কখনো করেননি। দ‚রারোগ্য ব্যধি কান্সারে ভুগলেও সদা হাসিমুখ, প্রাণবন্ত অবয়ব, আশাবাদী উজ্জ্বল চাহনী, নিজের আনন্দময় জীবনের অর্হনিশ চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন। স্মরণসভাটি ঞ্চালনা করেন কানাডা থেকে আগত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শক্তিব্রত হালদার মানু। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন জুয়েল চৌধুরী, জয় দে, কান্তি দাস, ঝিলম চৌধুরীসহ রানার স্বজন ও অনুরাগী। কমিউনিটির নানা পর্যায়ের বিশিষ্টজন স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর মানবিক জীবনদর্শনের কথা তুলে ধরেন।

প্রয়াত রানার শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশী জেসি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, “রানা আমাকে বাংলা শেখাতে গিয়ে বলতেন—’আমরা পরিবার।’ আজ বুঝতে পারছি, তাঁর পরিবার শুধু রক্তের সম্পর্কের মানুষ ছিল না; ভালোবাসার বন্ধনে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য মানুষ ছিল তাঁর পরিবার।” উপস্থিতদের অনেকেই মনে করিয়ে দেন, জীবনকে বড় করে তোলে পদবি বা খ্যাতি নয়; মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার ক্ষমতাই একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে শোকবার্তা, ফুল ও উপস্থিতির মাধ্যমে ভালোবাসা জানানো সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কোরোনার কপোলা মিগলিওরে ফিউনারেল চ্যাপেলে ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ৩ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টায় ইস্ট এলমহার্স্টের অল সোলস চ্যাপেল অ্যান্ড ক্রিমেটরিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।