১৩ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

৭০ বিলিয়ন ডলারের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট সংক্রান্ত বাজেট বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর

৭০ বিলিয়ন ডলারের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট সংক্রান্ত বাজেট বিলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন বিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার বষয়টি নিশ্চিত করে ৭০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন বাজেট বিলে স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট সংক্রান্ত এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের দুই নাগরিক নিহত হওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের তীব্র আপত্তির মুখে এই বিলটি কয়েক মাস ধরে কংগ্রেসে আটকে ছিল । শেষ পর্যন্ত বিরোধী ডেমোক্র্যাট দলের সব বাধা পেরিয়ে গত ১০ জানুয়ারি বুধবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বিলে স্বাক্ষর করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ।

নতুন এই বিলের আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার পেট্রোল (সিবিপি)-এর কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গত জুলাইয়ে পাস হওয়া কর ও ব্যয় সংক্রান্ত অপর একটি বিল থেকে পাওয়া ১৪০ বিলিয়ন ডলারের পাশাপাশি নতুন এই ৭০ বিলিয়ন ডলার ইমিগ্রেশনসংস্থাগুলোর আর্থিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিলটিতে স্বাক্ষরের সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ডেমোক্র্যাটরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সব ধরনের অর্থায়ন আটকে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা সম্পূর্ণ অরক্ষিত করার এক ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পুনরায় অপরাধ ও বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প দেশজুড়ে গণ-বহিষ্কার বা ‘মাস ডিপোর্টেশন’ অভিযান পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছেন। শুরুতে শুধু অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও, পরবর্তীতে যাদের কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, তাদের ওপরও এই অভিযান সম্প্রসারিত করা হয়।

লিগ্যাল ডিফেন্স ফান্ড নামের একটি সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম নয় মাসে ইমিগ্রেশন এন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-এর সদস্যদের দ্বারা রাস্তায় ধরপাকড় আগের তুলনায় প্রায় ১১ গুণ বেড়েছে, যার মধ্যে নির্দোষ বা আগে কোনো সাজা পাননি এমন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের হার বেড়েছে অন্তত সাত গুণ।

মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো অবশ্য এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের জবাবদিহিতা বা রক্ষাকবচ ছাড়াই এই বিপুল অর্থায়ন অভিবাসী সম্প্রদায়কে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলবে। আইসিই এবং সিবিপি-এর বিরুদ্ধে বর্ণবৈষম্য, মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং বিনা পরোয়ানায় তল্লাশির মতো অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন তারা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। গত জানুয়ারিতে মিনিয়াপোলিসে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালীন রেনি গুড এবং অ্যালেক্স প্রেটি নামের দুই মার্কিন নাগরিককে গুলি করে হত্যার ঘটনার পরই মূলত ডেমোক্র্যাটরা এই বিলের বিপক্ষে কঠোর অবস্থান নেয়। তারা দাবি করেছিল, কর্মকর্তাদের আচরণের ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহিতা যুক্ত না করা পর্যন্ত তারা কোনো অর্থায়ন বিলে সমর্থন দেবে না। এর জেরে ডিএইচএস-এর অর্থায়ন আটকে যায় এবং ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (টিএসএ) সংস্থাটির অপরিহার্য নয় এমন কার্যক্রম টানা ৭৬ দিন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

অবশেষে রিপাবলিকানরা সিনেটের বিশেষ ‘বাজেট রিকনসিলিয়েশন’ বা বাজেট সমন্বয় প্রক্রিয়া ব্যবহার করে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে বিলটি পাস করতে সক্ষম হয়। স্বাভাবিক নিয়মে এই বিল পাসের জন্য অন্তত ৬০টি ভোটের প্রয়োজন হলেও, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় তারা খুব সহজেই বাধা অতিক্রম করে। তবে এই অর্থায়নের কড়া সমালোচনা করে নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের (এনওয়াইআইসি) প্রেসিডেন্ট মুরাদ আওয়াউদেহ এক বিবৃতিতে বলেন, অভিবাসীদের বলির পাঁঠা বানালে জনসাধারণের নিরাপত্তা বাড়বে—এমন এক মিথ্যা ধারণার ওপর ভিত্তি করেই করদাতাদের এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই বিলের ফলে আইসিই মিনিয়াপোলিস ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো শহরগুলোতে আগের মতোই আইনবহির্ভূত ও সহিংস কার্যক্রম চালানোর একটি অবাধ লাইসেন্স পেয়ে গেল, যা পরিবারগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি গোটা সমাজ ব্যবস্থাকেই চরম অস্থিতিশীল করে তুলবে।