২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

নিজেকে ‘মেধাবী স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প নিজেকে ‘মেধাবী স্বৈরশাসক’ আখ্যা দিলেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে ‘বোকা’ বলা হলে তিনি সবচেয়ে বেশি বিরক্ত হন। তবে তাকে ‘মেধাবী স্বৈরশাসক’ বলা হলে আপত্তি নেই।
শুক্রবার (২২ মে) নিউইয়র্কে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প বলেন, যেসব সমালোচকরা তাকে ‘বোকা’ বলেন ,তাদের ভুল প্রমাণ করতে তিনি চিকিৎসকের কাছে একটি পরীক্ষার কথা জানতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্প সমর্থকদের বলেন, ‘আমি তোমাদের দেখা সবচেয়ে বুদ্ধিমান মানুষ।’ এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আর তোমরা কি চাও না যে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি প্রেসিডেন্ট হোক?’

যদিও সমাবেশটির মূল বিষয় ছিল মূল্যস্ফীতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়, তবুও ট্রাম্প নিজের ‘মানসিক সক্ষমতা’ নিয়ে চলা বিতর্ক প্রসঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে হওয়া এক আলাপের কথা তুলে ধরেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করে বলেন, ‘ওরা আমাকে খুব খারাপভাবে আক্রমণ করেছে। বলেছে, সে একজন বোকা মানুষ।’

পরে চিকিৎসকের সঙ্গে কথোপকথনের কথা মনে করে করে এই রিপাবলিকান নেতা বলেন, ‘আমি বলেছিলাম, ডাক্তার, আমাকে মেধাবী স্বৈরশাসক বলা হলে সমস্যা নেই, কিন্তু আমি চাই না আমাকে বোকা বলা হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসক তখন আমাকে কগনিটিভ টেস্টের পরামর্শ দেয়।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘কতজন প্রেসিডেন্ট এই পরীক্ষা দিয়েছেন?’ তিনি বললেন, ‘কেউ না… কোনও প্রেসিডেন্টই এই পরীক্ষা দেননি।’ তখন আমি বললাম, ‘আচ্ছা, এটা কি ভালো না খারাপ? এটা কি কঠিন?’ ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, পরীক্ষার প্রশ্নগুলো শুরুতে সহজ হলেও শেষে গিয়ে ‘খুব কঠিন’ হয়ে ওঠে।

ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার কগনিটিভ পরীক্ষায় ‘চমৎকার ফল’ করার দাবি করেছেন। গত মাসে সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে প্রত্যেক প্রার্থীকে বাধ্যতামূলকভাবে কগনিটিভ পরীক্ষা দিতে হবে। তিনি আরও দাবি করেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনবার এই পরীক্ষা দিয়েছি এবং প্রতিবারই অসাধারণ ফল করেছি। চিকিৎসকদের মতে, এমন অর্জন খুব কমই দেখা গেছে।’

টাফটস ইউনিভার্সিটির সাইকিয়াট্রি বিভাগের ইমেরিটাস বিভাগের অধ্যাপক হেনরি ডেভিড আব্রাহামের মতে, অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনবার এই পরীক্ষা দেয়া উদ্বেগজনক হতে পারে। ট্রাম্প যে মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার দাবি করেছেন, সেটি মূলত ডিমেনশিয়া শনাক্তের একটি স্ক্রিনিং পরীক্ষা।

জন গার্টনার নামের এক সাবেক অধ্যাপক বলেন, ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতার ‘ধীরে ধীরে অবনতি’ হচ্ছে, এমন লক্ষণ পরিষ্কার। তিনি বলেন, ‘যার চোখ, কান ও মস্তিষ্ক আছে… এবং যে অন্ধ সমর্থকে পরিণত হয়নি, সে সহজেই বুঝতে পারবে যে এই ব্যক্তি মানসিকভাবে অসুস্থ এবং তার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা অবনতির দিকে যাচ্ছে।’সূত্র: এনডিটিভি