ফেডারেল তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিউইয়র্ক সিটির হাজারো নিম্নআয়ের পরিবার বড় ধরনের আবাসন সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন হাউজিং অ্যাডভোকেটরা। তাদের আশঙ্কা, সমস্যার সমাধান না হলে ১২ হাজারের বেশি নিউইয়র্কবাসী গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।
জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রায় ৫ হাজার ২০০ পরিবার বর্তমানে জরুরি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা ১২ হাজারেরও বেশি, যার মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য।
নিউইয়র্ক হাউজিং কনফারেন্সের ব্রেন্ডান চেনি বলেন,“এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই পরিবারগুলো নিউইয়র্কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের মধ্যে রয়েছে।”
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটির সব বরোতেই ভাউচারধারী পরিবার রয়েছে, তবে ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিন এলাকায় প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
২০২১ সালে কংগ্রেস জরুরি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচি চালু করেছিল। কিন্তু ফেডারেল সরকার সম্প্রতি এই কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, ফলে নির্ধারিত সময়ের চার বছর আগেই এটি শেষ হয়ে যাচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন,“ফেডারেল পর্যায় থেকে এসব কর্মসূচি চাপে থাকলেও, শহর হিসেবে আমরা যতটা সম্ভব মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করছি। আমরা সব বিকল্প খতিয়ে দেখছি।”
এদিকে নিউইয়র্ক সিটি হাউজিং অথরিটি (এনওয়াইসিএইচএ), যারা স্থানীয়ভাবে কর্মসূচিটি পরিচালনা করে, তারা ভাউচারধারীদের পাবলিক হাউজিং ওয়েটলিস্টে নাম লেখানোর পরামর্শ দিয়েছে।
তবে সমস্যা হলো, ইতোমধ্যেই হাজার হাজার মানুষ সেই অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছে এবং সবাই যে বাসস্থান পাবেন তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এনওয়াইসিএইচএ এক বিবৃতিতে জানায়, “ফেডারেল সরকার গত বছর জানায় যে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ জরুরি হাউজিং ভাউচার কর্মসূচির অর্থায়ন শেষ হয়ে যাবে। বিকল্প ভর্তুকিভিত্তিক আবাসনের সুযোগ পেতে অংশগ্রহণকারীদের পাবলিক হাউজিং আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।”
ব্রুকলিনের বাসিন্দা এবং ভাউচার সুবিধাভোগী এক মা লাশন স্মিথ বলেন,“এটা মানসিকভাবে খুবই ক্লান্তিকর। যদি থাকার জায়গা না থাকে, তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যাবে।”
অভিবাসী ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি এখন বড় উদ্বেগে পরিণত হয়েছে।














