১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বা অ্যাসাইলাম দাবি পরিত্যাগ করে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বা অ্যাসাইলাম দাবি পরিত্যাগ করে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বা অ্যাসাইলাম দাবি পরিত্যাগ করে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার হার ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিগত ১৫ মাসের তুলনায় বর্তমান সময়ে অভিবাসীদের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার হার অন্তত সাত গুণ বেড়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন একে আইনের শাসনের বিজয় হিসেবে অভিহিত করলেও, মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা বলছেন, আশ্রয় প্রার্থীদের আবেদন বিবেচনার সময় তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে ৩য় দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা ও অভিবাসন কেন্দ্রগুলোর চরম অব্যবস্থাপনা এবং অমানবিক পরিবেশের কারণেই অনেকে বাধ্য হয়ে এই পথ বেছে নিচ্ছেন। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে ভেরা ইনস্টিটিউট অব জাস্টিসের তথ্য পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে অভিবাসন বিচারকরা ৮০ হাজারেরও বেশি ‘ভলান্টারি ডিপারচার’ বা স্বেচ্ছায় প্রস্থানের আদেশ অনুমোদন করেছেন।

তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদের শেষ ১৫ মাসে এই ধরনের স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার সংখ্যা ছিল মাত্র ১১ হাজার ৪০০। অর্থাৎ ট্রাম্পের শাসনামলে এটি প্রায় ৬০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানে আরও দেখা গেছে, বাইডেন প্রশাসনের শেষ সময়ে প্রতি মাসে গড়ে ৭৫০ জন অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়তেন, যেখানে গত মার্চ মাসেই এই সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিশেষ ‘সেলফ ডিপোর্টেশন’ বা স্বপ্রণোদিত প্রত্যাবাসন নীতি এই বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় অভিবাসীরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একটি অ্যাপের মাধ্যমে নিজেদের সমর্পণ করে নগদ অর্থ সহায়তা এবং বিনামূল্যে বিমানে চড়ে দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।

আইনগতভাবে ‘ভলান্টারি ডিপারচার’ বা স্বেচ্ছায় প্রস্থান সাধারণ বহিষ্কারাদেশের চেয়ে কিছুটা নমনীয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীর নামে কোনো আনুষ্ঠানিক বহিষ্কারাদেশ রেকর্ড হয় না, যা ভবিষ্যতে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ খোলা রাখে। তবে এই সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীর কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ড থাকা চলবে না এবং সাধারণত তাকে নিজ খরচেই দেশ ছাড়তে হয়।

সমালোচনার মূল জায়গাটি হলো, এই ৮০ হাজার অভিবাসীর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টার বা আটক কেন্দ্রে বন্দি থাকা অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, অভিবাসীরা আইনি লড়াইয়ের চেয়ে বন্দিশালার দুর্বিষহ জীবন থেকে মুক্তি পেতেই তড়িঘড়ি করে নিজ দেশে ফেরার আবেদন করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য এই সমালোচনাকে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে যে, তাদের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থান সফলভাবে কাজ করছে।

ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বাইডেন প্রশাসনের সময় যে শিথিলতা ও আইনি ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছিল, তা বন্ধ করে বর্তমান প্রশাসন কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করছে। তাদের মতে, অনিবন্ধিত অভিবাসীদের এই প্রস্থান মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। একদিকে প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগের সাফল্য এবং অন্যদিকে অভিবাসীদের অসহায়ত্বের এই বিপরীতমুখী চিত্র বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন রাজনীতিতে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।