স্বল্প ভাড়ার এই বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্সের বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য কোন প্রশাসন দায়ী – ট্রাম্প না বাইডেন, এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরপরই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেন ৫০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানানোর জন্য। কিন্তু প্রায় সাথে সাথেই ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা বলতে শুরু করেন বাইডেন প্রশাসনই কয়েক বছর আগে জেট ব্লু এয়ারলাইন্স ও স্পিরিট এয়ারলাইন্সের একীভূত করণ (Merger) ঠেকিয়ে দেওয়ার পরিনতিতে স্পিরিট এয়ারলাইন্সের পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হয়নি ।
এদিকে বাইডেন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, ডেমোক্র্যাটিক প্রশাসনের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টই স্পিরিট এয়ারলাইন্সের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল। যখন তারা প্রতিষ্ঠানটির একীভূত হওয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। শনিবার ২রা মে সকালে অতি-স্বল্প ভাড়ার এই বিমান সংস্থাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, ওই কর্মকর্তা পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দেন যে, সেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা নীরা ট্যান্ডেন প্রশ্ন তুলেছেন—ওই একীভূতকরণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হলে হয়তো বিপুল সংখ্যক কর্মীর চাকরি হারানো ঠেকানো যেত কি না।
এদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন (ডেমোক্র্যাট-ম্যাসাচুসেটস) স্পিরিটের এই ব্যর্থতার দায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন—তবে উল্টো তাকেই জেটব্লুর সাথে জোটটি ভেস্তে দিতে সহায়তা করার দায়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। হয়তো তা-ই ছিল; তবে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে যেকোনো বিশ্লেষণে বহু পরিবারের যে ক্ষতি হয়েছে, তাকেও সমীকরণের একটি অংশ হিসেবে অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে।”
স্পিরিট এয়ারলাইন্স—যেখানে প্রায় ১৭,০০০ কর্মী নিয়োজিত ছিলেন—শনিবার ২ মে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে; এর আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্পিরিট এয়ারলাইন্সের আর্থিক সহায়তা বা ‘বেইলআউট’ সংক্রান্ত আলোচনা ভেস্তে যায়।
জেটব্লু-এর সাথে একীভূত হওয়ার পরিকল্পনার পাশাপাশি, আর্থিক সংকটের মুখে একসময় ফ্রন্টিয়ার এয়ারলাইন্সের সাথেও আলোচনা চালিয়েছিল স্পিরিট এয়ারলাইন্স; ইরানের যুদ্ধের কারণে জেট জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় তাদের এই সংকট দৃশ্যত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছিল।
বাইডেন প্রশাসনের অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের নেতৃত্বে বাইডেন প্রশাসনের বিচার বিভাগ নিউ ইয়র্ক-ভিত্তিক জেটব্লু-এর প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে স্পিরিট এয়ারলাইন্সকে কিনে নেওয়ার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করেছিল।
আদালত যখন এই একীভূতকরণের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের (DOJ) পক্ষাবলম্বন করল, তখন গারল্যান্ড বললেন: ‘বিচার বিভাগ আদালতে প্রমাণ করেছে যে, জেটব্লু ও স্পিরিটের মধ্যকার একীভূতকরণটি কোটি কোটি ভ্রমণকারীকে উচ্চতর ভাড়া এবং সীমিত পছন্দের মুখোমুখি করত।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশের একচেটিয়া-বিরোধী আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগ অব্যাহত রাখব।’ এর আগে দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ এবং জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট এয়ারলাইনস স্পিরিট এয়ারলাইনস।
গত শনিবার ১লা মে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ক্রমাগত লোকসান ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে তারা আর ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারছে না। এর ফলে একই দিন থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে এবং বিকল্প এয়ারলাইনসে বুকিং নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্পিরিট এয়ারলাইন্স এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ব্যবসা পুনর্গঠনের চেষ্টা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন স্পিরিট এয়ারলাইন্সকে টিকিয়ে রাখতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে ঋণ পুনর্গঠন ও পাওনাদারদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্পিরিট এয়ারলাইন্স কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করা স্পিরিট এয়ারলাইনস দীর্ঘদিন কম খরচে বিমান ভ্রমণের জন্য পরিচিত ছিল।














